অমিতাভ বিশ্বাস, করিমপুর, ১৭ ফেব্রুয়ারি- অ্যাসিড আক্রান্ত এক মহিলাকে ভালবেসে বিয়ে করছেন ভিন রাজ্যের এক যুবক। মার্চ মাসের ১০ তারিখ বিয়ের অনুষ্ঠান হবে। পরিস্থিতি সব সময় ভাবিয়ে তুলত আক্রান্ত মহিলাকে। অ্যসিড আক্রান্ত হয়েও সমাজের আর পাঁচটা মেয়ের মতো যে পথ চলা যায়, তা সমাজকে শিখিয়েছেন তেহট্টের বিনোদ নগরের মেয়ে মমতা সরকার। মমতা এখন তেহট্টের মহকুমা কার্যালয়ে অস্থায়ী কর্মী হিসেবে কাজ করেন। 
পাত্র উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনের ছেলে। নাম লাকি সিং। তেহট্টের বিনোদনগর গ্রামে মমতার বাড়ি। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালের ১৯ এপ্রিল পারিবারিক অশান্তির জেরে মমতার এক নিকটাত্মীয় তঁার মুখে অ্যাসিড ছুঁড়ে মারে। তারপর থেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন মমতা। তিনি মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছেন। তারপর আর পড়াশোনা হয়নি। মুখের আকৃতির পরিবর্তন হয়ে গেছে। সমাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখতেই ভালবাসেন তিনি। তবুও তঁার ঘুরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা ছিল। ২০০৯ সালে মনের জোরে সমাজে মাথা উঁচু করে বাঁচতে ফের পড়াশোনা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। ২০১০ সালে উচ্চমাধ্যমিক (ওপেন থেকে) পাশ করেন তিনি। প্রথম কয়েক বছর চোখ নিয়ে সমস্যা ছিল। এখন কিছুটা ভাল হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‌ঘরে বসে ভেবেছি বসে থেকে কী হবে, মেয়ে মানেই তো বাড়িতে বসে থাকা নয়, মেয়েরাও পারে। এই ভাবনাচিন্তা করেই ছয় বছর পর আবার পড়াশোনা শুরু করি। ২০১০ সালে উচ্চমাধ্যমিকে বসি। তারপর বিভিন্ন কোম্পানিতে কাজের চেষ্টা করি। পরের বছর সে স্বপ্ন সফল হয়। দুর্গাপুরে একটি কোম্পানিতে চাকরি পাই। সেখানে বেশ কয়েক বছর কাজ করি। সেখানেই দেখা হয় লাকি সিংয়ের সঙ্গে। একটা সময়ের পর লাকি আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু আমি রাজি হয়নি। ভেবেছিলাম ছেলেটি আমাকে নিয়ে খুশি থাকতে পারবে না। তাকে আমি চিনিতামও না। দীর্ঘ সময় মেলামেশা করার পর বিয়ের জন্য রাজি হই।’‌

লাকি সিং ও মমতা সরকার। ছবি: রমণী বিশ্বাস

জনপ্রিয়

Back To Top