‌চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়,শান্তিকেতন: দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (‌জেএনইউ)‌ পর বিশ্বভারতীর ছাত্রাবাসে ঢুকে পেটানো হল এসএফআই ছাত্রদের। এখানেও অভিযোগের তীর সেই এবিভিপি–র বিরুদ্ধেই। যদিও হামলার সঙ্গে তাদের কেউ জড়িত নয় বলে দাবি করা হয়েছে এবিভিপি–র পক্ষ থেকে। এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা করেছেন আশ্রমিক, অধ্যাপক, কর্মীদের বড় একটা অংশ। 
এসএফআইয়ের অভিযোগ, এনআরসি নিয়ে বিজেপি সাংসদ স্বপন দাশগুপ্তর সভা বাতিলের আন্দোলনে থাকার ‘‌অপরাধে’‌ বুধবার গভীর রাতে হস্টেলে ঢুকে বেধড়ক পেটানো হয় ছাত্রদের। হামলায় জখম হন অর্থনীতি বিভাগের স্বপ্ননীল মুখার্জি  ও সঁাওতালি বিভাগের ছাত্র দেবব্রত নাথ। স্বপ্ননীলকে হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেও ডাক্তার–নার্সদের সামনেই আবার মারধর করা হয়। স্বপ্ননীলের নামেই এফআইআরের হুমকি দেওয়া হয়।
পরে এবিভিপি–‌র দুই ছাত্র নেতা অচিন্ত্য বাগদী ও সাবির আলিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তাদের ৯ দিন পুলিশি হেফাজত হয়েছে। বিশ্বভারতীর জনসংযোগ আধিকারিক অনির্বাণ সরকার বলেন, ‘‌বিশ্বভারতী এই ঘটনাকে বরদাস্ত করে না।’‌
৮ জানুয়ারি বামেদের ধর্মঘটের দিন এনআরসি নিয়ে  সাংসদ স্বপন দাশগুপ্তর বক্তৃতা বামপন্থী ছাত্রদের আন্দোলনে ভণ্ডুল হয়ে যায়। তারই ফলস্বরূপ এই হামলা বলেই মনে করছেন বামপন্থী ছাত্ররা। হামলা প্রসঙ্গে মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, ‘এটা ওদের সংস্কৃতি। দিলীপ ঘোষের উসকানিমূলক বক্তব্যের জন্য এই হামলা।’ বিশ্বভারতী নিয়ে কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরির বক্তব্য, ‘‌শিক্ষায় গৈরিকীকরণ করতে চাইছে বিজেপি। সেজন্য দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলি দখল করতে চাইছে। বাধা পেলেই মারধর করা হচ্ছে।’ প্রতিবাদে  ‌ডিএসও–র পক্ষ থেকে এদিন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখানো হয়। দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে তারা।

 আক্রান্ত স্বপ্ননীল মুখার্জি। ছবি: প্রসেনজিৎ দাস

জনপ্রিয়

Back To Top