প্রদীপ দে,বহরমপুর: একেই বলে জোড়া ধাক্কা। মুর্শিদাবাদ কেন্দ্র নিয়ে জোড়া ধাক্কা খেয়েছেন অধীর চৌধুরি। একদিকে আগাম প্রার্থী ঘোষণা করেও দলের হাই কমান্ডের চাপে পিছিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন। আরেক ধাক্কা হল, মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী করেছে একদা অধীর ঘনিষ্ঠ বিধায়ক আবু তাহের খানকে। নওদার বিধায়ক। একসময় ছিলেন জেলা কংগ্রেস সভাপতি। এখন জোড় লড়াই তৃণমূলের সঙ্গে সিপিএমের। কিন্তু লাখ টাকার প্রশ্ন, এই কেন্দ্রে কংগ্রেস কি ভোট দেবে সিপিএম প্রার্থীকে? কারণ ক’‌দিন আগেই সিপিএম জেলা সম্পাদক মৃগাঙ্ক ভট্টাচার্য বলেছিলেন, ‘‌২০১৬–র বিধানসভায় কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতা হলেও অভিজ্ঞতা সুখকর ছিল না। দেখা যাক কী হয়।’‌ কেন্দ্র হাতছাড়া হওয়ায় অধীর বলেছিলেন, ‘‌কংগ্রেস প্রার্থী হলে ২০০ ভাগ জয়ে নিশ্চিত ছিলাম। সিপিএম তো ওখানে ক্ষয়িষ্ণু।’‌ ২০০৪ এবং ২০০৯–তে এখানে জয়ী হয়েছিলেন কংগ্রেসের প্রয়াত মান্নান হোসেন। ২০১৪–তে মাত্র ১৪ হাজার ভোটে সিপিএমের বদরুদ্দোজা খানের কাছে হেরে যান। পরে মান্নান তৃণমূলে যান, জেলা সভাপতিও হয়েছিলেন। এবারও বদরুদ্দোজা প্রার্থী।
কিন্তু ৫ বছর আগের ছবি, আর ২০১–এর ছবির মধ্যে বিস্তর ফারাক। পদ্মা দিয়ে অনেক জল গড়িয়েছে। এই কেন্দ্রের ৭ বিধানসভায় আগে ছিল কংগ্রেস ২, সিপিএম ৩, তৃণমূল ২, কিন্তু জলঙ্গির সিপিএম বিধায়ক, মুর্শিদাবাদ বিধানসভার কংগ্রেস বিধায়ক দল ছেড়ে এখন তৃণমূলে। গত পঞ্চায়েতে এলাকার সব পঞ্চায়েত সমিতি, সব গ্রাম পঞ্চায়েত, ডোমকল, মুর্শিদাবাদ, জিয়াগঞ্জ ৩ পুরসভা তৃণমূলের দখলে। বিরোধীরা শূন্য। ফলে বুথস্তরে তৃণমূল অনেকটা এগিয়ে। এক সময় ওই কেন্দ্রে বেশ কয়েকবার জয়ী হয়েছিলেন সিপিএমের মইনুল হাসান। সেই মইনুল এখন তৃণমূলে। ফলে মইনুল যে ভোটে একটা বিশেষ ভূমিকা নেবেন বলাই বাহুল্য। দুই দলের প্রচার, দেওয়াল  লিখন সবই চলছে জোর কদমে।
 বুধবার দলনেত্রীর কাছ থেকে নির্দেশ নিয়ে এসে কাজ শুরু করেদিয়েছেন আবু তাহের। তাহের বলেছেন, ‘‌তৃণমূলকে হারাতে সিপিএম, কংগ্রেস, বিজেপি সব দল অঁাতাত করেছে। কিন্তু হযবরল জোট কিছুই করতে পারবে না। এলাকার মানুষ তৃণমূলের সঙ্গে আছেন। আর আমাদের প্রিয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির উদ্যোগে যে উন্নয়ন চলছে, মানুষ সেই উন্নয়নের শরিক।’‌ যদিও সিপিএমের বদরুদ্দোজার দাবি, ‘‌কোথায় কাজ হয়েছে? শুধু কথার ফুলঝুরি। মানুষ যদি নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, তা হলে সিপিএমই জয়ী হবে।’‌ এখানে ভোট হবে ২৩ এপ্রিল। মাঝে সময় ৪০ দিন। পদ্মা দিয়ে বয়ে যাবে অনেক জল। হবে নানা ‘‌খেলা’‌। তার পর জানা যাবে খেলার ফল।

তৃণমূল প্রার্থী আবু তাহের খানের সমর্থনে দেওয়াল লিখন। মুর্শিদাবাদে। ছবি:‌ চয়ন মজুমদার

জনপ্রিয়

Back To Top