উদয় বসু- যে ছেলেকে নিজে হাতে রেঁধে বিরিয়ানি খাইয়েছেন, সেই ছেলেই তাঁর সন্তানের খুনি। এটা কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছেন না জগদ্দলের নিহত যুবক অভিষেক চৌবের মা রেণুদেবী। সহমর্মিতা দেখাতে যাঁরাই এদিন অভিষেকের জগদ্দলের পূর্বাশার বাড়িতে গেছেন, সকলের কাছে হাতজোড় করে ছেলের খুনিদের শাস্তির দাবি করেছেন রেণুদেবী। বলেছেন, ‘‌বিচার চাই। আমার ছেলেকে যারা খুন করল তাদের ফাঁসি চাই। যদি টাকার বিনিময়ে তারা খালাস পেয়ে যায়, তা হলে আমি ওদের বিচার করে দেব। কেউ আমায় রুখতে পারবে না।’‌ সন্তান হারানোর কষ্ট বুকে নিয়ে রেণুদেবী জানালেন, ‌‘‌জাহিদ প্রায়ই বাড়িতে আসত। ওরা অন্তরঙ্গ বন্ধু ছিল। জাহিদ এলেই ছেলের আবদার ছিল এটা–ওটা করে দেওয়ার। কিছু দিন আগে বিরিয়ানি করেও খাইয়েছি। সেই জাহিদ এ কাজ করতে পারে, ভাবতে পারছি না।’
অভিষেকের বাবা ওমপ্রকাশ চৌবে রেলের কেবিনম্যান ছিলেন। ২০১০ সালে তিনি মারা গেলে বাবার চাকরি প্রায় পেয়ে গিয়েছিল অভিষেক। কিন্তু বয়সের জন্য আটকে ছিল। সামনের জুন–জুলাই মাসে তার চাকরিতে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। অভিষেকের দিদি পূজা দিল্লিতে থাকেন। জামাইবাবুর পরিবার উচ্চবিত্ত। এ সব দেখে ঈর্ষা এবং লোভ জন্মায় জাহিদের। তাকে আটকে রেখে ১০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের ছক কষে অন্য দুই বন্ধু সরফরাজ এবং উকিলকে সঙ্গী করেছিল জাহিদ। প্রাথমিক জেরায় পুলিসকে এ সবই জানিয়েছে সে।
জানা গেছে, অভিষেক ও পূজা দুই ভাইবোনের মধ্যে মিল ছিল খুব। বাবার মৃত্যুর পর তাঁর চাকরির প্রস্তাব প্রথমে গিয়েছিল পূজার কাছে। তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন শুধুমাত্র ভাইয়ের জন্য। তাই ভাইকে হারিয়ে ভীষণভাবে ভেঙে পড়েছেন দিদি। এরই মধ্যে অভিষেকের মৃতদেহ শনাক্ত করা থেকে ময়নাতদন্তের পর সৎকারের সব ব্যবস্থা করেছেন পূজাই। এদিন পুলিস ময়নাতদন্তের পর অভিষেকের দেহ তার বাড়ির লোকেদের হাতে তুলে দেয়। অভিষেক জগদ্দল চশমে রহমত হাই স্কুলের উচ্চমাধ্যমিকের ছাত্র ছিল। তার মৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া সেই স্কুলেও।
           

শোকার্ত রেণুদেবী। ছবি:‌ ভবতোষ চক্রবর্তী

জনপ্রিয়

Back To Top