আলোক সেন, বাঁকুড়া: প্রার্থী খুঁজতে বিজেপি ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে দরজায় দরজায় ঘুরছে। যারা ৪২টি প্রার্থী জোগাড় করতে পারছে না, তারা স্বপ্ন দেখছে বাংলা দখলের। শুক্রবার বাঁকুড়ার সোনামুখীতে কর্মিসভায় এভাবেই বিজেপি–‌কে কটাক্ষ করলেন যুব তৃণমূল সভাপতি, সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জি। বিষ্ণুপুর লোকসভা কেন্দ্রের অধীন ৭টি বিধানসভাক্ষেত্রের কর্মীদের এদিনের কর্মিসভায় ডাকা হয়েছিল। ছিলেন বিষ্ণুপুর লোকসভা কেন্দ্রের দলীয় প্রার্থী শ্যামল সাঁতরা, দলের জেলা সভাপতি অরূপ খাঁ, এবং জেলার বিধায়করা। 
দলের নেতা–কর্মীদের অভিষেক বলেন, ‘‌প্রত্যেককে নিজ নিজ বুথ অতন্দ্র প্রহরীর মতো আগলে রাখতে হবে। বিজেপি, সিপিএম কিংবা কংগ্রেসকে এক ছটাকও জমি ছাড়া চলবে না। ২৩ মে যেদিন ভোটের ফলাফল বেরবে আপনারা দেখবেন, পদ্মফুল সরষেফুলে পরিণত হয়েছে। ‌বড় গদ্দারের লেজ ধরে ছোট গদ্দারও যাচ্ছে। ওতে আমাদের বিন্দুমাত্র ক্ষতি হবে না।’‌ তিনি সদ্য দলত্যাগে অর্জুন সিংকেও একহাত নিয়ে বলেন, ‘‌হিম্মত থাকলে ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে লড়ুন। আপনাকে ২ লক্ষ ভোটে হারাব, কথা দিচ্ছি।’‌ তিনি নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহকে তুলোধনা করেন। তিনি বলেন, ‘‌ওরা দেশের সমস্ত বিরোধী দলকে চমকে–‌ধমকে ঘরে ঢুকিয়ে দিয়েছে। কিন্তু আমাদের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে পারেনি। তাই সকলকে মনে রাখতে হবে, সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচন হল সাম্প্রদায়িক মোদি আর মমতা ব্যানার্জির মধ্যে লড়াই। এই লড়াই দিল্লি সরকারের জবরদখলের বিরুদ্ধে লড়াই।’‌
দল থেকে বহিষ্কৃত সাংসদ সৌমিত্র খাঁ–‌কে কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, ‘‌অনেক হম্বিতম্বি করেছিলেন, হুমকি দিয়েছিলেন পুলিশ অফিস নাকি ঘেরাও করবেন। কিন্তু দেড়মাস কাটতে চলল, এখনও বাঁকুড়ার মাটিতে পা রাখার ক্ষমতা হয়নি তাঁর। তিনি বলেন, সাংসদ হয়ে বেশিরভাগ দিনটাই দিল্লিতে কাটিয়েছেন। সাংসদ উন্নয়ন তহবিলের সাড়ে ৭ কোটি টাকা খরচ পর্যন্ত করতে পারেননি। তাই যখন বুঝলেন, দল আর তাঁকে টিকিট দেবে না, তখনই দল ছেড়ে পালালেন। ‌বিষ্ণুপুর কেন্দ্রে শ্যামল সাঁতরাকে দেখে নয়, মনে রাখতে হবে ভোটটা দিচ্ছেন মমতা ব্যানার্জিকে।’‌  তিনি বলেন, ‘‌৮ বছর ধরে তিনি এই রাজ্যের উন্নয়নের জন্য অমানসিক পরিশ্রম করেছেন। উন্নয়নের সুফল বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছেন। সবুজসাথী প্রকল্পে ২ লক্ষ ৭৩ হাজার ছাত্রছাত্রী সাইকেল পেয়েছে। সবুজশ্রী প্রকল্পে ১ লক্ষ ২৬ হাজার ১৩১ জন শিশুকে চারাগাছ দেওয়া হয়েছে, গ্রামীণ আবাস যোজনায় দেড় লক্ষ মানুষ বাড়ি পেয়েছেন। নিজ ভূমি নিজ গৃহ প্রকল্পে ৬ হাজার মানুষ উপকৃত হয়েছেন। সমব্যাথী প্রকল্পে ২৭ হাজার মানুষ সুফল পেয়েছেন। ৯৯ শতাংশ কৃষক পরিবারকে কিষাণ ক্রেডিট কার্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁর কন্যাশ্রী প্রকল্প বিশ্ববন্দিত হয়েছে। উৎকর্ষ বাংলা এবং সবুজসাথী প্রকল্প দুটি ১১০০ প্রকল্প এবং ১৯০টি দেশকে পিছনে ফেলে এগিয়ে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি যা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন।’‌ 

সোনামুখীতে কর্মিসভায় অভিষেক। ছবি:‌ স্বরূপ রায়

জনপ্রিয়

Back To Top