আজকালের প্রতিবেদন: হাঁটা-‌চলা দূরের কথা, সোজা হয়ে দাঁড়াতেই পারে না মেয়েটা। দিন কাটে শুয়ে শুয়ে। হাত–পায়ের আঙুলগুলোও কাজ করে না ঠিকমত। টেনেটুনে মাত্র ২ ফুট লম্বা কাকদ্বীপের সঞ্চিতা দাস। ১০০ শতাংশ প্রতিবন্ধী। কিন্তু ১২ বছরের সঞ্চিতার অদম্য মনোবলের কাছে হার মেনেছে সব কিছু। পড়াশোনায় তো বটেই, ছবি আঁকাতেও সঞ্চিতা সবার নজর কেড়েছে। ক্লাস ফাইভে পড়া সঞ্চিতা স্কুলের প্রথম সারির ছাত্রী। ছবি আঁকায় ইতিমধ্যে পেয়েছে প্রচুর পুরস্কার। কাকদ্বীপ মহকুমার বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের আঁকা প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছিল সে। এবার অংশ নেবে জেলাস্তরের প্রতিযোগিতায়। ভবিষ্যতে ভাল শিল্পী হওয়ার স্বপ্ন দেখে সঞ্চিতা। সঞ্চিতার বাবা স্বপন গিরি বলেন,‘‌একসময় মনে হত মেয়ে আমাদের বোঝা। এখন সত্যি ওর জন্য গর্ব হয়। আমি ওর ইচ্ছেকে গুরুত্ব দিতে চাই।’‌ আর ছোট্ট সঞ্চিতা বলে,‘‌আমি অনেক, অনেক ছবি আঁকতে চাই।’‌‌
কাকদ্বীপের হরিপুর দাসপাড়ার বাসিন্দা সঞ্চিতার বাবা স্বপন গিরি পেশায় দোকান কর্মচারী। আয় খুবই সামান্য। মা কাকলি সংসার সামলান। সঞ্চিতার এক দাদা সৈকত এবার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে। জন্মের পরই সঞ্চিতার শারীরিক প্রতিবন্ধিকতা ধরা পড়ে। অভাবের সংসারে মেয়েকে সুস্থ করতে যথাসাধ্য চেষ্টাও করেছেন বাবা-‌মা। কিন্তু কোনও উন্নতি হয়নি। ছোট থেকে শুয়েই থাকে সঞ্চিতা। মায়ের কোলে চেপে স্থানীয় প্রাইমারি স্কুলে যাওয়া শুরু। যতক্ষণ ক্লাস হত মা ততক্ষণই বসে থাকতেন। এভাবে প্রাথমিকের গণ্ডী পেরিয়ে সঞ্চিতা এবছর অক্ষয়নগর জ্ঞানদাময়ী হাইস্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে। স্কুলের হাই-‌বেঞ্চে শুয়েই ক্লাস করে সে। পড়াশুনোর পাশাপাশি ছবি আঁকাতেও খুব ঝোঁক। স্থানীয় একটি ক্লাবে আঁকাও শেখে। যত দিন গড়িয়েছে আঁকার হাত পোক্ত হয়েছে সঞ্চিতার। এখন কাকদ্বীপের সব অঙ্কন প্রতিযোগিতায় সঞ্চিতা পরিচিত মুখ।

জনপ্রিয়

Back To Top