তুফান মণ্ডল, পুরশুড়া: মৃত্যুর পর স্বাধীনতা সংগ্রামীর দেহ গেল কলকাতার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজে।  মঙ্গলবার সেখানে পরিবারের লোকেরা কলেজ কর্তৃপক্ষের হাতে দেহ তুলে দিলেন। এদিনই দুপুরে পুরশুড়ার কেলেপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের রণবাগপুর বাসভবনে ৯৩ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন স্বাধীনতা সংগ্রামী সুধীরকুমার রায়। মৃত্যুর সময় রেখে গেলেন ভাই, ভাতৃবধূ, ভাইপো, ভাইঝিদের।
তাঁর ভাইপো সুমন্ত রায় জানালেন, ‘‌একসময় দেশের জন্য লড়াই করেছেন। দেশের কথা পরিবারের কথা ভেবে নিজে বিয়ে করেননি। অল্প বয়সেই আগস্ট আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। কাজ করেছিলেন প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাধীনতা সংগ্রামী প্রফুল্ল সেনের সহযোগী হিসাবে। শ্মশানে আত্মগোপন করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে দিনের পর দিন লড়াই চালিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু দেশের স্বাধীনতা লাভের পর তিনি আলাদাভাবে স্বীকৃতি গ্রহণের তীব্র বিরোধী ছিলেন।’‌ তিনি আরও জানান, ‘‌পরবর্তীকালে দুই ভাইকে মানুষ করার জন্য ডানলপে শ্রমিকের কাজ করেছেন। ভাইদের পড়াশোনার জন্য শ্রমিকের চাকরি ছেড়ে কলকাতায় যান। সেখানে ফুটপাতে চা, বই ইত্যাদি বিক্রি করেন। পরে ভাইরা শিক্ষিত হয়ে প্রতিষ্ঠা পেলে তিনি সমাজসেবায় মন দেন।’‌
তিনি আরও বলেন, ‘‌এলাকার দুঃস্থ মানুষদের জন্য গ্রামে গ্রামে গিয়ে চক্ষু পরীক্ষা শিবিরের আয়োজন করতেন। পরে তাঁর প্রচেষ্টায় এলাকায় একটি সেবাকেন্দ্র গড়ে ওঠে। সবসময়ই তিনি অসহায় মানুষের পাশে থাকতেন। সবরকম সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেন। বছর দুই আগে তিনি মরণোত্তর দেহদানের অঙ্গীকার করেন।’‌ তখনই সুধীরবাবু জানিয়েছিলেন, ‘‌মৃত্যুর পর আমার অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলি যদি অন্যের কাজে লাগে, অন্যের মধ্যে যদি বেঁচে থাকে তার থেকে বড় প্রাপ্তি আর কিছু হতে পারে না।’‌ বেঁচে থাকতে দেশের জন্য লড়াই করে গেছেন। মৃত্যুর পরেও এই দেহদানের মধ্য দিয়ে তিনি সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে গেলেন। তাই এদিন তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই বহু মানুষ তাঁকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে হাজির হন।

জনপ্রিয়

Back To Top