ছোট্ট গ্যারাজে পথচলা শুরু টেকনো ইন্ডিয়ার, ২৫ বছরে স্বপ্নের স্বপ্নপূরণ নেতাজি সুভাষ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের

আজকাল ওয়েবডেস্ক: পায়ে পায়ে ২৫ বছর।

একটানা, কোথাও না থেমে। সেদিন পড়ুয়াদের সংখ্যাটা ছিল হাতে গোনা। আজ তারা কয়েক হাজার। টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের তৈরি প্রথম প্রতিষ্ঠান। নেতাজি সুভাষ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ (এনএসইসি)। আগামী দিনে যাকে একটি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে চান প্রতিষ্ঠানের কর্ণধাররা। মঙ্গলবার সায়েন্স সিটির অডিটোরিয়ামে কলেজের এই ২৫ বছর পূর্তি উৎসব পালন করা হল। রাজনৈতিক নেতা থেকে শিক্ষাবিদ এবং সাংবাদিক, সকলেই যোগ দিয়েছিলেন। ভার্চুয়ালি যোগ দিয়েছিলেন বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে থাকা এবং নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এই কলেজের প্রাক্তনীরা।

এই গ্রুপের যাত্রাটা শুরু হয়েছিল কিন্তু হুগলির চুঁচুড়ার একটি গ্যারাজ থেকে।‌ ১৯৮৫তে যেখানে একটি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করে। তার পরেরটা ইতিহাস। 

বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, 'আমি কল্পনাও করতে পারছি না একটা গ্যারাজ থেকে শুরু করে আজ টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপ দেশের অন্যতম সেরা গ্রুপে পরিণত হয়েছে। এটা গর্বের যে এই গ্রুপের পড়ুয়ারা আজ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে আছে। টেকনো গ্রুপ শুধুমাত্র পড়ুয়াদের শিক্ষাই দিচ্ছে না। বাংলাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করছে। রাজ্যে সম্পদ বাড়াচ্ছে।' 

রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, 'পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষার প্রসারে টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপ খুবই ভাল ভূমিকা নিয়েছে। আজ থেকে ২৫ বছর আগে এ রাজ্যের পড়ুয়ারা রাজ্যের বাইরে পড়তে যেত। আজ এই রাজ্য থেকেই শিক্ষা নিয়ে আমেরিকা, ইংল্যান্ড-সহ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।' রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস বলেন, 'এটা একটা গর্বের দিন। আজ গোটা দেশে ১০০-রও বেশি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপ। ভবিষ্যতে তারা রাজ্যে ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে চলেছে।' সাফল্য কামনা করেন তৃণমূল বিধায়ক দেবাশিস কুমার।

কীভাবে শুরু হয়েছিল এই যাত্রা? স্মৃতির রাস্তায় হেঁটে এদিন সে কথাই তুলে ধরলেন টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সত্যম রায়চৌধুরী। তিনি বলেন, 'আজ আমরা ২৫ বছর পালন করলেও যাত্রাটা কিন্তু ৩৭ বছরের। এটা হল আমাদের দুই ভাই, গ্যারাজ এবং আজকের এই সবকিছু নিয়ে। চুঁচুড়ায় আমরা থাকতাম। আমার দাদা গৌতম রায়চৌধুরী আমায় বলেছিলেন একটা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়বেন। একটা গ্যারাজে সেটা শুরু হল। সেই শুরু। আজ টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের ১০০-রও বেশি প্রতিষ্ঠান। কয়েক লক্ষ পড়ুয়া। যাঁরা সেদিন সহায়তা করেছিলেন তাঁদের সকলকে ধন্যবাদ। মনে আছে ছোট্ট একটা বাড়িতে এই কলেজের যাত্রা শুরু হয়েছিল। আজ বিশ্বের যেই শহরেই যাই সেখানেই আমি আমার কোনও না কোনও পড়ুয়াকে পাই।' 

একইভাবে অতীতে ফিরে গিয়ে টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের কো-চেয়ারম্যান মানসী রায়চৌধুরী বলেন, 'মনে আছে পরীক্ষার দিন এক পড়ুয়া আমায় জিজ্ঞেস করেছিল আমি ইংরেজির শিক্ষক কি না। ধন্যবাদ জানাচ্ছি সকল অভিভাবক ও শিক্ষকদের। পড়ুয়াদের বলছি, তোমরাই এই গ্রুপের পতাকা বহন করে এগিয়ে গিয়ে আমাদের গর্বিত করবে।' 

অল ইন্ডিয়া কাউন্সিল ফর টেকনিক্যাল এডুকেশনের চেয়ারপার্সন অনিল ডি সহস্রবুধে জানিয়েছেন, কীভাবে তাঁদের কাজে টেকনো গ্রুপের সহযোগিতা পেয়েছেন। তিনি বলেন, 'পড়ুয়াদের বলব তোমরাও এই প্রতিষ্ঠানকে মনে রেখ। কারণ, এই প্রতিষ্ঠানই তোমাদের তৈরি করেছে।' অল্প কয়েকজন পড়ুয়া নিয়ে কীভাবে এনএসইসি'র যাত্রা শুরু হয়েছিল এদিন সেকথা তুলে ধরেন কলেজের ফাউন্ডার-ডিরেক্টর কেডি মণ্ডল। পাশাপাশি বর্তমান ডিরক্টর হৃষিকেশ মণ্ডল বলেন, 'সত্যম রায়চৌধুরীর স্বপ্ন এই কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করা। আমি নিশ্চিত এটা হবেই।' রাজ্যে শিক্ষার প্রসারে কীভাবে টেকনো গ্রুপ কাজ করে চলেছে এদিন সে প্রসঙ্গ তুলে ধরেন শিল্পী শুভাপ্রসন্ন এবং মৌলানা আবুল কালাম আজাদ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৈকত মৈত্র। ছিলেন রাজ্যের কারিগরি শিক্ষামন্ত্রী হুমায়ূন কবীর, টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর টি কে ঘোষ, কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন-এর সচিব হরিহরপ্রসাদ মণ্ডল, টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস-এর প্রধান বিজ্ঞানী তাপস চক্রবর্তী। ছিলেন মেঘদূত রায়চৌধুরী, দেবদূত রায়চৌধুরী, অরুণকুমার ঘোষ, সাংবাদিক গৌতম ভট্টাচার্য, জেআইএস গ্রুপের কর্ণধার ত্বরণজিৎ সিং প্রমুখ। ভোট অফ থ্যাঙ্কস জানিয়েছেন এনএসইসি'র অধ্যক্ষ ড. তীর্থঙ্কর দত্ত। সঞ্চালনায় ছিলেন সায়ন্তিকা রায়চৌধুরী এবং ঐন্দ্রিলা মুখার্জি। 

আকর্ষণীয় খবর