Suicide: টাকা চেয়ে বাড়িতে এসে হুমকি পাওনাদারের, ভয়ে আত্মঘাতী এক নাবালক 

আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাড়ির লোকেদের মুখে হাসি ফোটাতে গত বছর দুর্গাপুজোর আগে এক ব্যক্তির কাছ থেকে কিছু টাকা ধার করে পরিবারের সদস্যদের নতুন জামাকাপড় কিনে দিয়েছিল মুশিদাবাদের সুতি থানার বারুইপাড়া গ্রামের হীরক পাল (১৭)।

কিন্তু সময়মতো সেই টাকা শোধ করতে পারেনি সে। আর তার ফলে প্রায় রোজই তাকে বাড়িতে এসে হুমকি দিত পাওনাদারের লোক। মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে রবিবার রাতে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হল হীরক। 
ইতিমধ্যেই সুতি থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। হীরকের দেহ জঙ্গিপুর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য। 
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছর দুর্গাপুজোর আগে ৫০০০ টাকা ধার নিয়েছিল হীরক। ধার নেওয়ার সময় চুক্তি হয়েছিল প্রত্যেক মাসে সে ৫০০ টাকা করে শোধ করে দেবে। কিন্তু গত দু'মাস ধরে নিজের কাজ ঠিকমতো না চলার জন্য হীরক ঋণের টাকা শোধ করতে পারেনি। 
হীরকের পরিবারের অভিযোগ, এই কারণেই তাকে দু'বেলা হুমকি দিচ্ছিল পাওনাদারের লোকেরা। রবিবার বাড়িতে এসে হীরককে হুমকি দিয়ে যায় বুবাই নামে এক ব্যক্তি। সেই মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে রবিবার রাতে নিজের ঘরে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হয় হীরক। 
হীরকের দিদি লতিকা দাস বলেন, 'আমার ভাই একটি সিমেন্ট কোম্পানিতে শ্রমিকের কাজ করে। পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুব খারাপ হওয়ার জন্য সে হাজার পাঁচেক টাকা ধার করেছিল এক ব্যক্তির কাছ থেকে। কিন্তু আমার ভাই সেই টাকা সময়মতো শোধ করতে পারছিল না।'
তিনি অভিযোগ করেন, 'রবিবার বুবাই নামে এক ব্যক্তি আমাদের বাড়ি এসে আমার ভাইকে হুমকি দেয় তখনই টাকা শোধ করতে হবে বলে। টাকা শোধ না করতে পারলে আমার ভাইয়ের মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেওয়া হবে বলেও হুমকি দিয়েছিল। কিন্তু ভাই মোবাইল ফোন দিতে রাজি না হওয়াতে বুবাই হুমকি দিয়ে বলে আমার ভাইকে মেরে কিমা করে দেওয়া হবে।' 
লতিকা জানান, 'এরপর ভাই আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে নিজেকে একটি ঘরে বন্ধ করে নেয়। পরে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হয়।' 
মৃতের দিদি আরও অভিযোগ করেন, 'এই ঘটনার পর আমরা জানতে পেরেছি যে ব্যক্তি আমার ভাইকে টাকা ধার দিয়েছিলেন তিনি সময়মতো টাকা না পেয়ে আমার ভাইকে একাধিকবার মারধর করেছিলেন। তাকে হয়তো আবার মারধর করা হবে, এই ভয়ে আমার ভাই আত্মঘাতী হয়েছে।'
সুতি থানার এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, 'ইতিমধ্যে মৃতের পরিবার গোটা ঘটনাটি মৌখিকভাবে আমাদেরকে জানিয়েছে। আমরা গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছি। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।'
 

আকর্ষণীয় খবর