‌আজকালের প্রতিবেদন: গত চব্বিশ ঘন্টায় ১০৪ জন করোনা থেকে মুক্ত হয়েছেন। রাজ্যে এখনও পর্যন্ত করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন মোট ২ হাজার ৪১০ জন। সুস্থতার হার ৩৯.‌০৭ শতাংশ। এদিন নতুন করে আরও ৩৯৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৬ হাজার ১৬৮ জন। চিকিৎসাধীন ৩ হাজার ৪২৩ জন। রাজ্যে আরও ১০ জনের করোনায় মৃত্যু হয়েছে। মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৬৩ জন। গত চব্বিশ ঘন্টায় নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৯ হাজার ৪৯৫টি। রাজ্যসে এখনও পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা ২ লক্ষ ২২ হাজার ৭২৬টি। সরকারি কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন ১৭ হাজার ৮০৪ জন। ছাড়া পেয়েছেন এখনও পর্যন্ত ৫৪ হাজার ৪২১ জন। হোম কোয়ারেন্টিনে বর্তমানে রয়েছেন ১ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৩৮ জন। মুক্ত হয়েছেন এখনও পর্যন্ত ৯৪ হাজার ৬৯৮ জন। এদিন মৃতদের মধ্যে আট জনই কলকাতার বাসিন্দা। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কলকাতার বাসিন্দা, ১১৬ জন। উত্তরচব্বিশ পরগণা ৭৪, হাওড়া ৪৯, হুগলি ৩৮ জন সহ আরও বিভিন্ন জেলা থেকে আক্রান্ত হয়েছেন।  
পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় কোরোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১২২। মঙ্গলবার এক মহিলা সহ আরও ৬ জন করোনা আক্রান্তকে ভর্তি করা হয়েছে পাঁশকুড়ার বড় মা হাসপাতালে। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রের খবর, আক্রান্তদের  মধ্যে পাঁচজন ভিন রাজ্য  ও একজন কলকাতা থেকে ফেরা শ্রমিক। ময়না ব্লকে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৬৫ বছরের প্রৌঢ়া সহ ৩ জন। এছাড়াও  মহিষাদল ব্লকের দুই যুবক এবং হলদিয়া ব্লকের ১ যুবক আক্রান্ত হয়েছেন। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক নিতাই চন্দ্র মন্ডল জানান, ৬ করোনা আক্রান্তেরই পাঁশকুড়া করোনা হাসপাতালে চিকিৎসা শুরু হয়েছে। আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের চিহ্নিতকরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
পুরুলিয়ায় এক ধাক্কায় করোনা পজিটিভের সংখ্যা বেড়ে হল ১৮। এদিন নতুন করে পুরুলিয়া ১ নং ব্লকের মহারাষ্ট্র ফেরত দুই পরিযায়ী শ্রমিকের করোনা ধরা পড়ে। জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয় আরও ৯ পরিযায়ী শ্রমিকের রিপোর্টে করোনা পজিটিভ এসেছে।  তবে এঁদের কারোরই করোনার উপসর্গ না দেখা দেওয়ায় কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। আক্রান্ত দুই পরিযায়ী শ্রমিকের বাড়ির এলাকায় কনটেনমেন্ট জোন ঘোষণা করে সিল করা হয়েছে।
ভাঙড়ের চন্দনেশ্বর ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের মহেশপুকুর এলাকায় এক শ্রমিক কোভিড–১৯ এর সংক্রমণ ধরা পড়েছে। তিনি বানতলা চর্মনগরীর কর্মী। বছর বাহান্নর ওই শ্রমিকের গত কয়েকদিন ধরে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। পরীক্ষায় করোনা ধরা পড়ে। সোনারপুর এ পি নগরে বছ আঠাশের এক বধূরও করোনা ধরা পড়েছে। এদিন তাঁর অস্থি সংক্রান্ত অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা ছিল। তার আগে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিভিন্ন পরীক্ষার সঙ্গে করোনারও পরীক্ষা করা হয়। তার রিপোর্টেই পজিটিভ আসে। তাঁকে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুই আক্রান্তের বাড়ি সিল করে দিয়েছে। পরিবারের সদস্যদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।
উপসর্গহীন বহু করোনা রোগী পাওয়া যাচ্ছে। তাই করোনা রোগীর সন্ধান পেতে হলে আরও বেশি করে টেস্টের সংখ্যা বাড়াতে জোর দিচ্ছে স্বাস্থ্য দপ্তর। এবার থেকে বেসরকারি হাসপাতালকে করোনা টেস্ট করার অনুমতি দিয়ে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে স্বাস্থ্য দপ্তর। যে সমস্ত বেসরকারি হাসপাতালে আইসিএমআর অনুমোদিত ল্যাবরেটরি রয়েছে সেখানে করা যাবে করোনার পরীক্ষা।   

জনপ্রিয়

Back To Top