যজ্ঞেশ্বর জানা, গৌতম মণ্ডল,দিঘা ও কাকদ্বীপ: বঙ্গোপসাগর থেকে ধেয়ে আসছে ‘‌বুলবুল’‌। বৃহস্পতিবারই সতর্কতা জারি করে দিল দিঘা প্রশাসন। শুক্রবার থেকে সমুদ্রস্নানে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় শক্তি বাড়িয়ে ভয়াল ঘূর্ণিঝড়ের চেহারা নেবে বুলবুল। এর পর আগামী ৩৬ ঘণ্টায় আরও শক্তি বাড়িয়ে আরও ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করবে ‘‌বুলবুল’‌। ঘূর্ণিঝড়ের জোরালো প্রভাব পড়তে চলেছে ৯ নভেম্বর থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত। দুই ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুরে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি করেছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। ইতিমধ্যেই দিঘার সমুদ্র–‌উপকূলে পুলিশ ও নুলিয়াদের কড়া নজরদারি রাখা হয়েছে পর্যটকদের সমুদ্রস্নানের ওপর। মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। যঁারা ইতিমধ্যেই সমুদ্রে রয়েছেন, তঁাদের রেডিও–‌বার্তা পাঠানো হয়েছে ফিরে আসার জন্য।‌
ধেয়ে–‌আসা ঘূর্ণিঝড় ‘‌বুলবুল’‌–‌এর আতঙ্কে প্রহর গুনছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার সমুদ্র ও নদী–‌উপকূলবর্তী সুন্দরবন এলাকার মানুষ। শুক্রবার রাত থেকে ঝড়–‌বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। ইতিমধ্যে সুন্দরবনের মৎস্যজীবীদের উপকূলে চলে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপকূলের মানুষদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে প্রশাসনের তরফে। বৃহস্পতিবার সকালে কাকদ্বীপ, বকখালি, ফ্রেজারগঞ্জ বন্দরে মৎস্যজীবীদের জন্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সুন্দরবন পুলিশ ও মৎস্য দপ্তরের পক্ষ থেকে এদিন মাইকিং করা হয়। আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। আগামী কয়েক দিন পুলিশ ও মৎস্য দপ্তর নদী ও সমুদ্রে কড়া নজরদারি চালাবে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। আগামী কয়েকটি দিন নদী এলাকায় প্রস্তুত থাকবে দল। কাকদ্বীপ, ডায়মন্ড হারবার মহকুমা প্রশাসনও প্রস্তুত। মজুত করা হয়েছে পর্যাপ্ত ত্রাণ। বৃহস্পতিবার দিনভর জেলার আকাশ মাঝে মাঝে মেঘে ঢেকে গেছে। সূর্যের তাপ সেভাবে ছিল না। তবে উত্তুরে বাতাস বইছে। সুন্দরবনের মানুষের মুখে–‌মুখে ফিরছে এই ঘূর্ণিঝড়ের কথা। অনেকেই সংবাদমাধ্যমের খবরে চোখ রেখেছেন। সুন্দরবন জুড়ে ২০০৯ সালের ‘‌আইলা’‌র স্মৃতি এখনও দগদগে। এখনও অনেক নদী ও সমুদ্র–‌বঁাধ মেরামতি হয়নি। প্রতি কোটালে জলস্তর বাড়লে নোনা জল ঢোকে বসতি এলাকায়। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস, ঘূর্ণিঝড় রাজ্যের উপকূল এলাকার সমুদ্রের ওপর দিয়ে বয়ে যেতে পারে। গতিবেগ থাকতে পারে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটারের বেশি। সে–‌ক্ষেত্রে ক্ষতির পরিমাণ ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকার মানুষ। জেলা সহ–‌মৎস্য অধিকর্তা (‌সামুদ্রিক)‌ জয়ন্ত প্রধান বলেন, ‘‌উপকূল এলাকায় মৎস্যজীবীদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। সমুদ্র থেকে উপকূলে চলে আসছে সব ট্রলার। নতুন করে কেউ সমুদ্রে যাবে না।’‌ সুন্দরবন সামুদ্রিক মৎস্যজীবী শ্রমিক ইউনিয়নের সম্পাদক সতীনাথ পাত্র বলেন, ‘‌সরকারের নির্দেশ সব মৎস্যজীবীর কাছে পৌঁছে গেছে। আমরাও সতর্ক থাকছি।’‌‌  

নীচে দিঘায় মাইকিং প্রশাসনের। ছবি:‌ প্রতিবেদক‌‌‌‌‌  

বুলবুল ওপার বাংলায়?

আজকালের প্রতিবেদন: ঘূর্ণিঝড় ‘‌‌বুলবুল’‌ বাংলাকে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে পারে বাংলাদেশের চট্টগ্রামের দিকে। তবে যাওয়ার পথে শনি ও রবিবার উপকূলের জেলাগুলিতে ঝরাবে বিক্ষিপ্ত ভারী বৃষ্টি। কোথাও কোথাও অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। সঙ্গে ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার বেগে বইতে পারে ঝোড়ো হাওয়া। বৃষ্টি হবে কলকাতা, হাওড়া, হুগলিতেও। প্রভাব বেশি পড়বে সাগরদ্বীপ–সহ দুই ২৪ পরগনা ও দুই মেদিনীপুরের উপকূল অঞ্চলে। ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে কাঁচা বাড়িঘরের, উপড়ে পড়তে পারে গাছপালা। বৃহস্পতিবার পূর্বাভাসে এমনটাই জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। 
বঙ্গোপসাগরে দানা–বঁাধা নিম্নচাপটি এদিনই ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে পরিণত হয়েছে। আপাতত কলকাতা থেকে ঘূর্ণিঝড়টি ৭৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ–পশ্চিম দিকে রয়েছে। শুক্রবার সেটির প্রবল এবং শনিবার সকালে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা। আপাতত সেটি ঘণ্টায় ২১ কিলোমিটার বেগে পশ্চিম দিকে এগোচ্ছে। শুক্রবার প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার পর উত্তরমুখী হওয়ার সম্ভাবনা। শনিবার অতি প্রবল আকার ধারণ করে বুলবুল উত্তর–পশ্চিমমুখী হতে পারে। এরপরই ঘূর্ণিঝড়টি এ রাজ্যের সাগরদ্বীপ সংলগ্ন অঞ্চল ঘেঁষে বাংলাদেশের দিকে এগোবে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের অধিকর্তা জি কে দাস জানিয়েছেন, সম্ভাব্য গতিপথ অনুযায়ী বুলবুলের বাংলাদেশের চট্টগ্রামের দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, রাজ্যের উপকূলবর্তী অঞ্চল ঘেঁষে যাওয়ার সময় এর প্রভাবে কাঁচা ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, শনি ও রবিবারে উপকূলবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দাদের বাড়ির বাইরে না যাওয়াই ভাল। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবার থেকেই উপকূলবর্তী অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়া বইতে শুরু করবে। মৌসম ভবন জানিয়েছে, আপাতত ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায় ঘূর্ণন গতিতে বুলবুল এগোচ্ছে। শনিবার সকালে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সময় এই গতি বেড়ে হতে পারে ঘণ্টায় ১১০ থেকে ১২০ কিলোমিটার। তা সর্বোচ্চ ১৩৫ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। 
এদিন জরুরি বৈঠক করেন কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ (‌‌নিকাশি)‌ তারক সিং। বাতিল করা হয়েছে নিকাশি দপ্তরের আধিকারিকদের ছুটি। তারক সিংয়ের বক্তব্য, পুরসভার পুরো দল পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকবে। পুর আধিকারিক ও কর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

জনপ্রিয়

Back To Top