আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ খ্যাতি কিংবা অর্থও ঘোচাতে পারেনি ‘বর্ণবিদ্বেষ’ তকমা। খ্যাতির শিখরে পৌঁছেও গায়ের রং নিয়ে কটাক্ষের শিকার হতে হয়েছে। শুধু বিশ্বখ্যাত ফুটবলার নন, কেরিয়ারের কোনও না কোনও সময় এমন পরিস্থিতির শিকার ক্রিকেটার, গল্ফার, টেনিসতারকা–সকলেই। নিজেদের মতো করে বহুবার এর বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছেন। কিন্তু ছবিটা বদলায়নি। আমেরিকায় কৃষ্ণাঙ্গ খুনের পরে তাই একজোটে বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন খেলার দুনিয়ার তারকারা।
কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডকে আট মিনিট ধরে হাঁটুর নিচে চেপে রেখেছিল শ্বেতাঙ্গ পুলিশ। শেষ মুহূর্তে যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে ফ্লয়েড বলেছিলেন, ‘‌নিঃশ্বাস নিতে পারছি না।’‌ তারপরই সব শেষ। প্রাণ হারান ফ্লয়েড। আর সেই ঘটনাকে ঘিরেই উত্তাল মার্কিন মুলুক। চার পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ড করে মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেও ক্ষোভের আঁচ কমেনি। উল্টে বিক্ষোভের আগুনে ঘি ঢালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একাধিক টুইট। একটি টুইটে লিখেছেন, ‘‌আন্দোলনের নামে লুঠপাট চলছে।’‌ ক্রমাগত বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে বিশিষ্টদের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে ট্রাম্পকে। এবার আমেরিকার ঘটনার তীব্র নিন্দা করলেন ক্রিস গেইল, কিলিয়ান এমবাপে, টাইগার উডসরা। বিভিন্ন দেশের এই ক্রীড়াবিদরা এই প্রতিবাদে শামিল হয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন, বর্ণবিদ্বেষ নিয়ে গোটা বিশ্বের ছবিটা একইরকম।
ব্ল্যাক লিভস ম্যাটার অভিযানে শামিল হয়ে ক্যারিবিয়ান তারকা গেইল বলছেন, ‘‌অন্যদের মতোই কৃষ্ণাঙ্গদেরও মূল্য আছে। তাদের অপমান করাটা বন্ধ করুন। দুনিয়ার অনেক জায়গায় ঘুরেছি। বিশ্বাস করুন, সব জায়গাতেই বিষয়টা একইরকম। শুধু ফুটবলই নয়, ক্রিকেটেও রয়েছে। এমনকী দলের মধ্যেও এই মনোভাব দেখা যায়।’‌ 
ফ্লয়েড হত্যা কাণ্ডের বিরুদ্ধে রাগ ও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মার্কিন ফুটবল তারকা অ্যালেক্স মর্গ্যান। টুইট করে ঘটনার নিন্দা করেছেন তিনি। প্রতিবাদের সুর বিশ্বকাপজয়ী ফ্রান্সের স্ট্রাইকার এমবাপে থেকে ফুটবলার পল পোগবা, বাস্কেটবল তারকা মাইকেল জর্ডন, ফর্মুলা ওয়ান কিংবদন্তি লুইস হ্যামিলটন, চ্যাম্পিয়ন গল্ফার টাইগার উডস–প্রত্যেকেরই। 
টাইগার উডস যেমন বলেছেন, ‘‌সমস্ত সীমা অতিক্রম করে গেছে এই ঘটনা।’‌ ফরাসি ফুটবল তারকা কিলিয়ান এমবাপে বলেছেন, ‘‌পুলিশ আমাদের সঙ্গে থাকুক। বিরুদ্ধে নয়।’‌ আমেরিকার মহিলা ফুটবল দলের তারকা অ্যালেক্স মর্গ্যান বলেছেন, ‘‌পুলিশের নিষ্ঠুরতায় প্রাণ দিতে হল জর্জ ফ্লয়েডকে। আমি জানতে চাই জাতি ও লিঙ্গ নির্বিশেষে সমস্ত আমেরিকাবাসীকে কবে সমান সম্মান দেওয়া হবে?‌ প্রশাসনের শীর্ষ নেতৃত্বের থেকে জবাব চাইছি।’‌ 
 

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top