সার্ভ এবং ভলি, একদিনের নেতৃত্বের দায়িত্বও ছাড়তে হবে বিরাটকে

দেবাশিস দত্ত: বিরাট কোহলির সঙ্গে ভারতীয় বোর্ডকর্তাদের মধ্যে এখন কোর্টের এ প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে বল পাঠানোর খেলা যেন দেখছে এ দেশের ক্রিকেট মহল। শুধু মাত্র টি–২০ ক্রিকেটে নেতৃত্বের দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার যে ভলিটা পাঠিয়েছেন বিরাট, তাতেই কিন্তু ফোর হ্যান্ডে স্ম্যাশ করার সুযোগ পেয়ে গেলেন কর্তারা। ঠারেঠোরে যে বার্তা বিরাটকে পাঠানো হয়েছিল, তাতে কিন্তু টি–২০–র সঙ্গে ৫০ ওভারের ম্যাচের নেতৃত্বের মুকুট খুলে ফেলার ব্যাপারটাও ছিল। বিরাট কি ওই বার্তা বুঝতে পারেননি?
এটা মানতে নারাজ বোর্ডকর্তারা। ওঁদের ধারণা, টি–২০ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়াটাকে বিরাট একটা লাইফ লাইন হিসেবে ধরে নিয়ে শুধুমাত্র ২৪০ বলের ক্রিকেটের নেতার পদ ছেড়ে দিতে চেয়েছেন। বিরাট ভাবছেন, টি–২০ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেলে হয়তো কর্তারা তাঁকে ৫০ ওভারের ঘরানা থেকে সরাবেন না। ভুল ভাবছেন বিরাট। ৫০ ওভারের নেতৃত্বের দায়িত্ব তাঁকে ছাড়তে হবে, আজ অথবা কাল। এখন যা পরিস্থিতি, তাতে বিরাটের ফাঁদেই তাঁকে আটকে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। নেতৃত্বের দায়িত্ব ছাড়ার পর বিরাট বলেছিলেন, বোঝা কমানোর জন্যই এই সিদ্ধান্ত। কর্তারা তাই, আরও বোঝা কমিয়ে দিতে চান একদিনের ক্রিকেটের অধিনায়কের সিংহাসন থেকে সরিয়ে দিয়ে। বিরাট নিজে ভাবতে পারেননি, অশ্বিন নামের শামুকে এতটা ক্ষত তৈরি হবে। শুধু অশ্বিন নন, কর্তারা ভারতীয় শিবিরে প্রায় সব ক্রিকেটারের সঙ্গে কথা বলে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, বিরাটের আচরণ ও আক্রমণাত্মক মেজাজের কারণে অনেকেই নিজের সেরাটা দিতে পারছেন না। প্রায় একনায়কতন্ত্র যেন চলছিল অন্দরমহলে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ শুরু হওয়ার আগে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সাদামটনে ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে হারার পর থেকেই কর্তারা ময়নাতদন্ত করছিলেন ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলে। তখন থেকেই বিরাটকে সরানোর পরিকল্পনা শুরু হয়েছিল। যা চূড়ান্ত রূপ পাবে বিরাটের হাত থেকে একদিনের ক্রিকেটের দায়িত্ব নিয়ে নেওয়ায়।
প্রশ্ন উঠছে, বিরাট নিজে কি এই দেওয়াল লিখন পড়তে পারছেন না?
বিলক্ষণ পারছেন। তবু একটা সুযোগ যেন নিতে চাইছেন? এতটা বুঝতে পারছেন না যে, তাঁর পায়ের তলার মাটি অনেকটাই গিয়েছে সরে। চলতি মাসেই ক্রিকেটারদের সঙ্গে বোর্ডের চুক্তি হওয়ার কথা। বিরাট আছেন এ+ গ্রুপে। এখানে সেই সিনিয়র ক্রিকেটারদেরই রাখা হয় যাঁরা কিনা তিন ঘরানার ক্রিকেটে চুটিয়ে খেলে থাকেন। নেতৃত্বের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হলে এ+ গ্রুপে তাঁকে রাখা না–ও হতে পারে। এমন আশঙ্কা থেকেই তিনি পাখির চোখ হিসেবে দেখছেন টি–২০ বিশ্বকাপকে। ভারত চ্যাম্পিয়ন হলে কয়েক দিনের জন্য স্বস্তি। আর না পারলে তো ল্যাটা চুকেই গেল। ড্যাং ড্যাং করতে করতে কর্তারা রোহিতকে সীমিত ওভারের ক্রিকেটের দুই ঘরনাতেই নেতৃত্বের দায়িত্ব তুলে দেবেন। এতটাই দূরত্ব তৈরি হয়েছে অধিনায়কের সঙ্গে বোর্ডকর্তাদের।
এরই মাঝে বিরাট আইপিএল-এর নেতৃত্ব ছেড়ে দিলেন। আগামী মরসুম থেকে অধিনায়ক বিরাটকে পাবে না আরসিবি। এটাও একটা পাল্টা ভলি। বোঝাতে চাইলেন যে, কাঁধের ওজন তিনি আরও খানিকটা কমিয়ে ফেললেন। এতে কিন্তু চিঁড়ে ভিজবে না। কর্তারা চাইছেন সীমিত ওভারের ক্রিকেটের জন্য একজন অধিনায়ক রাখতে। তা না হলে ৫০ ওভারের জন্য একজন অধিনায়ক এবং টি২০-র জন্য অন্য অধিনায়ক --- এই লাইনে থাকতে চাইছে না বিসিসিআই। নিউজিল্যান্ড আসছে ভারত সফরে, টিটোয়েন্টি এবং টেস্ট ম্যাচ খেলতে। সমস্যা হবে তারপর যখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ আসবে। কারণ ৫০ ওভারের ম্যাচ থাকবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সূচিতে। বোর্ডের অন্দরমহলের যা খবর, বিরাট যদি তার আগে ৫০ ওভারের নেতৃত্ব থেকে সরে না দাঁড়ান, তা হলে তাঁকে সরিয়েই দেওয়া হবে।