আজকালের প্রতিবেদন: আগ্রাসী মানসিকতা আর বিরাট কোহলি সমার্থক। তাঁর ব্যাটিংয়ের হলমার্ক আগ্রাসন। এই আগ্রাসন যদি চলে যায়?‌ কী করবেন নিজেই জানেন না ভারতীয় দলের ক্যাপ্টেন। তবে এই আগ্রাসন ধরে রাখার জন্য কোহলি সব থেকে বেশি জোর দেন ফিটনেসের ওপর। এই মুহূর্তে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন কোহলি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে তৃতীয় একদিনের ম্যাচে তাঁর দুরন্ত শতরান দলকে গুরুত্বপূর্ণ জয় এনে দিয়েছে। নিজের পারফরমেন্স প্রসঙ্গে কোহলি বলেন, ‘‌আমি ৩০ বছর পূর্ণ করতে চলেছি। ৩৪–৩৫ বছর বয়সেও আমি এই ধরনের ক্রিকেট খেলতে চাই। সেইজন্য প্রচুর ট্রেনিং করি। কারণ আমি সবসময় আগ্রাসী ক্রিকেট খেলতে পছন্দ করি। একবার যদি এই আগ্রাসন চলে যায়, জানি না মাঠে কী করব।’‌
আগ্রাসন ধরে রাখার জন্য নিজেকে ফিট রাখা জরুরি বলে মনে করেন কোহলি। ফিটনেসের ওপরই সব থেকে বেশি গুরুত্ব দেন কোহলি। তিনি বলেন, ‘‌যতটা সম্ভব বেশি ট্রেনিং করার চেষ্টা করি। খাদ্যাভ্যাসেও অনেক বদল ঘটিয়েছি। ফিট থাকলে দলের প্রয়োজনে নিজেকে মেলে ধরতে পারব। একজন অ্যাথলিট সবসময় এই দিনের দিকে তাকিয়ে থাকে।’‌ একদিনের ক্রিকেটে ইতিমধ্যেই কোহলির নামের পাশে ৩৪ সেঞ্চুরি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে বুধবারের সেঞ্চুরি তাঁর কাছে অন্যরকম গুরুত্ব পাচ্ছে। কেন, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন ভারতীয় দলের ক্যাপ্টেন। কোহলি বলেন, ‘‌আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রান পাওয়া খুব একটা সহজ নয়। অনেক কষ্ট করে পেতে হয়। ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে কিছু রান আসতে পারে। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার এই বোলিং আক্রমণ, গতিময় ও বাউন্সি উইকেটে মানিয়ে নেওয়া একটু কঠিন। তবে ৩০ ওভারের পর উইকেট অনেকটাই মন্থর হয়ে গিয়েছিল। ফলে আবার নতুন করে মানিয়ে নিতে হয়েছিল। ওই সময় উইকেট পড়ছিল। ফলে গোটা ইনিংসজুড়ে মানিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল।’‌
ব্যাট করার সময় পেশিতে টান ধরেছিল। তাই নিয়েই শেষ পর্যন্ত ক্রিজে ছিলেন। দলের প্রয়োজনে নিজেকে মেলে ধরতে পেরে খুশি কোহলি। তিনি বলেন, ‘‌৯০–এর ঘরে যখন ব্যাটিং করছিলাম, পেশিতে টান ধরেছিল। ওইসময় উইকেটও পড়ছিল। আমার শরীরও চলছিল না। ভেবেছিলাম সাজঘরে ফিরে যাব। তবে শেষ পর্যন্ত ক্রিজে থাকতে পেরে ভাল লাগছিল। আসলে দলের কথা ভাবছিলাম বলেই থাকতে পেরেছিলাম।’
দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে এই সেঞ্চুরি অনেক মাইলস্টোনে পৌঁছে দিয়েছে কোহলিকে। কেপ টাউনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে প্রথম ভারতীয় হিসেবে সেঞ্চুরি করলেন। ভারতীয় অধিনায়ক হিসেবে সৌরভ গাঙ্গুলির ১১ সেঞ্চুরির রেকর্ড ভেঙে দিলেন। শুধু রান তাড়া করার ব্যাপারেই যে সিদ্ধহস্ত নন, আগে ব্যাটিং করেও রান করার ব্যাপারে ওস্তাদ। নিজের ব্যাটিংয়ের গতি প্রসঙ্গে কোহলি বলেন, ‘‌বিভিন্ন সময়ে নিজেকে বদল ঘটিয়েছি। যখন শিখর ধাওয়ান ব্যাটিং করছিল, আমার কাজ ছিল শুধু সিঙ্গলস নিয়ে স্ট্রাইক রোটেট করা। যখন ও আউট হয়ে গেল, তখন আমি চেয়েছিলাম দ্রুতগতিতে রান তুলতে। প্রথমে ব্যাটিং একরকম, একজনকে আগ্রাসী করতে হয়, অন্যজন স্ট্রাইক রোটেট করে। আর রান তাড়া করার সময় কী দরকার, সেটা জানাই থাকে। কখন গতি বাড়াতে হবে, কখন সিঙ্গলস নিতে হবে, সেইভাবেই ব্যাটিং করি।’‌

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top