‌আজকালের প্রতিবেদন: এক প্রজন্মের সঙ্গে অন্য প্রজন্মের তুলনায় যেতে নারাজ ওঁরা প্রত্যেকেই। ঠিক তেমনই এক্ষুনি িবরাটের মূল্যায়ন করতে চাইছেন না। তবে ভারত অধিনায়ক যে গতিতে এগোচ্ছেন, তাতে ওঁদের বিচারে ইতিমধ্যেই সেরার তালিকায় নাম রেখে দিতে হচ্ছে কোহলির। তা সে যতই ইংল্যান্ড সফরের ব্যর্থতার ইতিহাস থাকুক।
সম্বরণ ব্যানার্জি‌ আমি সর্বকালের সেরা বেছে নেওয়ার পক্ষপাতী নই। এক প্রজন্মের সঙ্গে অন্য প্রজন্মকে কখনওই গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়। নিজের সময়ে ডন ব্র্যাডম্যান, ভিভ রিচার্ডস, গাভাসকার, শচীন সেরা। এটুকু বলতে পারি, ভিভের পর এমন দৃষ্টিনন্দন ব্যাটিং আমি খুব কম দেখেছি। বিরাটকে দেখলে মনে হয়, ব্যাটিং করা কত সহজ। অন সাইড, অফ সাইড, স্কোয়্যার কাট, হুক, পুল— সবেতেই সাবলীল। বাকি দেশগুলো চিন্তা করুক কীভাবে ওকে আউট করবে। বিশ্ব ক্রিকেটে বিরাটের মতো ফিটনেস কারও নেই। ১ রানে ব্যাট করার সময় ওকে যেমন লাগে, ৯৮ রানে ব্যাটিং করার সময়ও তাই। যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে মনে হয় খুব তাড়াতাড়ি একদিনের ক্রিকেটে শচীনের ৪৯ সেঞ্চুরির রেকর্ড ভেঙে দেবে। আমরা খুব সহজেই বলে দিই কপিলদেবের বিকল্প হার্দিক পান্ডিয়া। রাহুল দ্রাবিড়ের উত্তরসূরি চেতেশ্বর পুজারা। আমার মতে, অন্তত ৮০টা টেস্ট ম্যাচ খেলার পর এ–‌সব বিষয়ে একজনের মূল্যায়ন করা উচিত। বিরাট ৮০টা টেস্ট খেলুক, তার পর বাকিদের সঙ্গে ওর মূল্যায়ন হবে।
প্রণব রায় গতবার ইংল্যান্ড সফরের ব্যর্থতার কথা মাথায় রেখে এবারও গ্রীষ্মে বিরাটের দিকে নজর থাকবে, এ কথা ঠিক। তার মানে এই নয়, বিরাটের গ্রেটনেস নিয়ে সংশয় রয়েছে। এই দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে ভারতীয় দলে বিরাট ওয়ান ম্যান শো দেখিয়ে গেল। দুর্ধর্ষ ক্রিকেটার, এ নিয়ে কোনও সংশয় নেই। সব কিছুতেই সেরা। সব ফরম্যাটে ধারাবাহিকভাবে রান করে যাচ্ছে। গতবার ব্যর্থ হওয়ায় এবার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েই বিরাট ইংল্যান্ড যাবে বলে আমার বিশ্বাস। তাতেও রান না পেলে, অবসরের পর সমালোচকরা ওই একটা কথাই বলবে, বিরাট কখনও ইংল্যান্ডে সফল হয়নি। তার মানে এই নয়, বিরাটের গ্রেটনেস নিয়ে সংশয় দেখাতে হবে। সেরাদের কখনও তুলনা হয় না। তবে টেস্টের সর্বকালের সেরার তালিকায় বিরাটকে এখনই না রাখলেও, ওয়ান ডে–তে রাখতেই হবে।
শরদিন্দু মুখার্জি দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ অবশ্যই বিরাটের কাছে বড় পরীক্ষা ছিল। তবে বিরাট সফল হবে, এ নিয়ে কোনও সংশয় ছিল না। কারণ ওখানকার উইকেট অনেকটা অস্ট্রেলিয়ার মতো। অস্ট্রেলিয়া সফরে বিরাট চূড়ান্ত সফল হয়েছিল। এখানেও দু’দলের অন্যান্য ব্যাটসম্যানকে যেখানে সমস্যায় পড়তে দেখা গিয়েছিল, বিরাটকে মনে হচ্ছিল অন্য উইকেটে খেলতে নেমেছে। প্রথমবার ইংল্যান্ডে ব্যর্থ হয়েছে মানেই আবারও ব্যর্থ হবে, এমনটা বলা ঠিক নয়। বিরাটের গ্রেটনেস নিয়ে সংশয় দেখানোর কোনও জায়গা নেই। প্রশ্ন তোলাই বোকামি। এই মুহূর্তে বিশ্ব ক্রিকেটে চার সেরা ব্যাটসম্যান রুট, উইলিয়ামসন, ডি’ভিলিয়ার্স ও বিরাট। বাকিদের তুলনায় বিরাট অনেকটা এগিয়ে। আমি অন্য প্রজন্মের সঙ্গে তুলনায় যেতে চাই না। এটুকুই বলব, অলটাইম গ্রেট হওয়ার দিকে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে বিরাট।
লক্ষ্মীরতন শুক্লা‌ ধোনি আর বিরাট অন্য গ্রহের ক্রিকেটার। আগেও বলেছি, আবারও বলছি, এই দু’জনকে নিয়ে যাঁরা প্রশ্ন তুলবে বা সমালোচনা করবে, তাঁদের মুখ পুড়বে। অতীতেও হয়েছে, ভবিষ্যতেও তা–ই হবে। প্রত্যেক ক্রিকেটারকে কেরিয়ারের চড়াই–উতরাইয়ের মধ্যে দিেয় যেতে হয়। বিরাট যেন এখানেও ব্যতিক্রমী। একটা ইংল্যান্ড সফর ছাড়া সব জায়গায় চূড়ান্ত সফল। এই দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেও টেস্ট সিরিজে যেভাবে ভারত সমানে সমানে লড়াই করছিল, সেটা বিরাটের জন্যই। অতীতে কিন্তু কখনওই এই ছবি দেখা যায়নি। আর একদিনের সিরিজ তো ইতিমধ্যেই প্রায় পকেটে পুরে ফেলেছে টিম ইন্ডিয়া। এর পিছনে বিরাটের কতটা অবদান রয়েছে, সেটা সবারই জানা। আমার অলটাইম গ্রেটদের তালিকায় এখনই বিরাটকে ঢুকিয়ে নেব।
সৌরাশিস লাহিড়ী কেরিয়ারের এই অল্প সময়ের মধ্যে বিরাট যা যা অর্জন করেছে, তাতেই অনেককে পিছনে ফেলে দিয়েছে। একজন ক্রিকেটার যখন ক্রমাগত পারফর্ম করে যায়, তখনই তাকে গ্রেটদের তালিকায় নিয়ে আসতে হয়। বিরাট সেটাই করেছে। আর প্রত্যেক ক্রিকেটারই রক্ত–‌মাংসের মানুষ। ফলে সাফল্য–‌ব্যর্থতা থাকে। ইংল্যান্ড সিরিজের ব্যর্থতা হোক বা অন্য সমালোচনা, কোনও কিছুই কিন্তু কখনওই বিরাটকে টলাতে পারেনি। সমালোচনা থাকবেই। বিরাট যেভাবে সে–‌সবকে ছাপিয়ে পারফর্ম করে যায়, সেজন্যই ও সেরা। গ্রেট হওয়ার প্রায় সব কিছুই অর্জন করে ফেলেছে এবং এগিয়ে যাচ্ছে। আর সর্বকালের সেরা বাছতে হলে, একজন ক্রিকেটারের কেরিয়ার শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top