অগ্নি পান্ডে: আবার! এই নিয়ে ৩–৪ বার! দেখতে, দেখতে বি–রা–ট কোহলির একদিনের আন্তর্জাতিককে ৩৪টি শতরান হয়ে গেল! অবিশ্বাস্য গতিতে তিনি ছুটছেন। যেন অশ্বমেধের ঘোড়া। সিরিজের প্রথম একদিনের ম্যাচে ডারবানের কিংসমিডে শতরান করেছিলেন। সেই ইনিংসে ছিল মার আর মার। আর নিউল্যান্ডসে শুরুতে একদম ধরে, ধরে। ভাবা যায়, কোহলি যখন ১০০–য় পৌঁছলেন তখন তাঁর ইনিংসে মাত্র ৭টি বাউন্ডারি! খুচরো রানে নিজের ইনিংস সাজালেন। তারপর চাপ দিলেন এক্সলেটারে। সামনে এখনও শচীন তেন্ডুলকার। যে দুর্নিবার গতিতে এগোচ্ছেন সেই গতি বজায় থাকলে শচীনের ৪৯টি শতরানের রেকর্ড টপকাতে বেশি সময় নেবেন না। 
ক্যাপ্টেন কোহলির ব্যাটে ভর করেই ভারত  ৩০৩/৬ তুলল প্রথমে ব্যাট করে। জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকা আমলার উইকেট হারিয়ে ৭ ওভারে ৩৪/‌১। ধাওয়ান ছাড়া বাকি সতীর্থরা তাড়াতাড়ি ফিরে যাওয়া সত্ত্বেও প্রচণ্ড গরমের মধ্যে দলকে লড়াইয়ের জায়গায় নিয়ে যাবার জন্য মনে রাখার মতো একাগ্র ইনিংস খেললেন কোহলি (১৫৯ বলে অপরাজিত ১৬০, ১২টি চার, ২টি ছয়)। নিউল্যান্ডস যেন কোহলিময়। নিটোল ইনিংস। বুধবার কেপ টাউনের টেবিল মাউন্টেন ম্লান হয়ে গেল কোহলি–মাউন্টেনের সামনে! 
নৈসর্গিক নিউল্যান্ডসের শুরুতে বাইশ গজে কোহলিকে নিয়ে যখন উজ্জ্বল হয়ে উঠছিলেন শিখর ধাওয়ান তখনই বিপত্তি। ডুমিনির নির্বিষ স্পিনকে শর্ট মিড উইকেটের ওপর দিয়ে উড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পাল্টা উড়ে গিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক মার্করাম যে ক্যাচটি ধরে ফেলবেন তা ভাবা যায়নি। নিশ্চিত শতরান আবার হাতছাড়া ধাওয়ানের।
সিরিজের প্রথম দু’টি ম্যাচে রান তাড়া করে কোহলির ভারত জিতেছে দাপট দেখিয়ে। রান তাড়া করতে এই ভারতীয় দলের যে জুড়ি মেলা ভার তা হাড়ে, হাড়ে টের পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। কেপ টাউনে টসে জিতে দ্বিতীয়বার আর ভাবেননি প্রোটিয়া ‘মেকশিফট’ অধিনায়ক মার্করাম। তিনি আগেই ভারতকে ব্যাট করার চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বসলেন। 
হল কী রোহিত শর্মার? পরপর তিনটি একদিনের আর্ন্তজাতিকে তিনি তো চূড়ান্ত ব্যর্থ! যা সচরাচর রোহিতের ক্ষেত্রে অন্তত একদিনের ম্যাচে দেখা যায় না। ইনিংসের প্রথম ওভারে রাবাদার বিরুদ্ধে রীতিমতো নাস্তানাবুদ হয়ে গেলেন ‘রো–হিট’ শর্মা। না, প্রথম ওভারের বেশি একটা বলও টিকতে পারলেন না এই মু্ম্বইকার। রোহিত ফিরে যেতেই ভারতীয় ইনিংসের হাল ধরলেন সেই ধাওয়ান–কোহলি জুটি। রাবাদার আগুনে বোলিং সামলে। চলতি সিরিজে ভারত অধিনায়ক িবরাট কোহলিকে কীভাবে প্রোটিয়া বোলাররা সামলাবেন তা নিয়ে এবার গবেষণাগারে সময় দেওয়া উচিত। ইনিংসের শুরুতে রাবাদার বলেই আউটের সিদ্ধান্ত কোহলিকে দিয়েছিলেন আম্পায়ার। কিন্তু কোহলিকে বাঁচিয়ে দেয় আল্ট্রা এজ। তারপর কোহলি ধরাছোঁয়ার বাইরে।দ্বিতীয় উইকেটে ধাওয়ান–কোহলি জুটি দ্রুত ভারতীয় ইনিংসে মূল্যবান ১৪০ রান যোগ করলেন। কিন্তু ওই যে ধাওয়ানের আউটটা মেনে নেওয়া যাচ্ছে না। যেমন গেল না অহেতুক তুলে মারতে গিয়ে তাড়াতাড়ি ফিরে যাওয়া ফর্মে থাকা অজিঙ্কা রাহানের আউটটা। কেন মারতে যাবেন ওই শট। ক্রিজে সদ্য–সদ্য গেছেন। সঙ্গ দিন অধিনায়ককে। তাড়াহুড়ো করে রান তোলার প্রয়োজন তখন তো ছিল না। কিন্তু তা–ও বাজে শট খেলে ফিরে যেতে বাধ্য হলেন রাহানে। কেন পাঁচ নম্বরে হার্দিক পান্ডিয়া? যেখানে দলে ধোনির মতো অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান রয়েছেন। সত্যি, টেস্ট সিরিজে তো বটেই পান্ডিয়া চলতি একদিনের সিরিজেও কেমন যেন বোঝা হয়ে উঠেছেন। সেই তাড়াহুড়ো রোগ। কেন অফ স্টাম্পের বাইরে বলে স্ল্যাশ করতে যাবেন? যদিও ধোনি, কেদার যাদব কেউই পারলেন কোহলির পাশে দাঁড়াতে। নইলে হাসতে, হাসতে ভারতের রান সাড়ে তিনশো তো টপকে যেতই। শেষ দিকে ভুবনেশ্বর কুমার ৬৭ রান জুটিতে যোগ করে কোহলিকে সাহায্য করলেন লড়াইয়ের জায়গায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য।‌‌‌
স্কোর:‌ ভারত:‌ রোহিত ক ক্লাসেন ব রাবাদা ০ (‌৬)‌, ধাওয়ান ক মার্করাম ব ডুমিনি ৭৬ (‌৬৩)‌, কোহলি অপরাজিত ১৬০ (‌১৫৯)‌, রাহানে ক ফেলুকায়ো ব ডুমিনি ১১ (‌১৩)‌, পান্ডিয়া ক ক্লাসেন ব মরিস ১৪ (‌১৫)‌, ধোনি ক এনগিডি ব তাহির ১০ (‌২২)‌, কেদার ক ক্লাসেন ব ফেলুকায়ো ১ (‌৩)‌, ভুবনেশ্বর অপরাজিত ১৬ (‌১৯)‌, অতিরিক্ত ১৫, মোট (‌৫০ ওভারে, ৬ উইকেটে)‌ ৩০৩। উইকেট পতন:‌ ১/‌০, ২/‌১৪০, ৩/‌১৬০, ৪/‌১৮৮, ৫/‌২২৮, ৬/‌২৩৬। বোলিং:‌ রাবাদা ১০–১–৫৪–১, এনগিডি ৬–০–৪৭–০, মরিস ৯–০–৪৫–১, ফেলুকায়ো ৬–০–৪২–১, তাহির ৯–০–৫২–১, ডুমিনি ১০–০–৬০–২। দক্ষিণ আফ্রিকা:‌ আমলা এলবিডব্লু ব বুমরা ১ (‌২)‌, মার্করাম অপরাজিত ১৯ (‌২৯)‌, ডুমিনি অপরাজিত ২৮ (‌২৯)‌, অতিরিক্ত ০, মোট (‌১০ ওভারে, ১ উইকেটে)‌ ৪৮। উইকেট পতন:‌ ১/‌১। বোলিং:‌ ভুবনেশ্বর ৫–০–২৯–০, বুমরা ৪–০–১৮–১, পান্ডিয়া ১–০–১–০। (‌স্কোর অসম্পূর্ণ)‌‌‌

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top