অগ্নি পাণ্ডে,কল্যাণী: কোচ বদল হলেও জয় অধরা রইল ইস্টবেঙ্গলের। তবে হার বাঁচল। খেলার ধরনও একই রই‍ল। শেষ ৭ ম্যাচে ১টি জয় এবং ১টি ড্র। বাকি সব হার।৮ মিনিটে প্রতি আক্রমণে ইস্টবেঙ্গল। সামনে ক্রোমাকে বল বাড়ালেন মার্কোস। প্রায় ২২ গজ দূর থেকে দূরপাল্লার শটে দুরন্ত গোল করে দলকে এগিয়ে দিলেন ক্রোমা (১–০)। তারপরেই ম্যাচ থেকে আবার ‘হারিয়ে’ গেল ইস্টবেঙ্গল। 
৩৫ মিনিটে সঞ্জু প্রধানের শট দারুণভাবে ঝাঁপিয়ে বাঁচালেন লাল–হলুদ গোলকিপার মিরশাদ। ৪০ মিনিটে সমতা ফেরাল পাঞ্জাব এফসি। ব্রাজিলের সের্জিও বারবোসার মাইনাস থেকে ইস্টবেঙ্গল বক্সে ফাঁকায় দাঁড়ানো মহেশ খোসলা চলতি বলে বাঁ পায়ের শটে দ্বিতীয় পোস্ট দিয়ে জালে জড়িয়ে দিলেন বল (১–১)। প্রথমার্ধে ইস্টবেঙ্গলের খেলা দেখে মনে হল মাঝমাঠ কলকাতাতেই রেখে এসেছে মারিও রিভেরার দল। নইলে এত বড় বড় ফাঁক কীভাবে তৈরি হল? হাইমে কোলাডোর মিস পাসের বহর দেখলে মনে হবে না তিনি কখনও কলকাতা ময়দানে নজর কেড়েছিলেন। খারাপ পারফরমেন্স দুই সাইড ব্যাক আভাস থাপা এবং কমলপ্রীতেরও। ৪৯ মিনিটে আবার গোলের মুখ খোলার চেষ্টা করেছিলেন ক্রোমা। বক্সের মাথা থেকে তাঁর শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হল। ক্রোমার ছটফটানি বাকি ফুটবলারদের মধ্যে দেখা গেলে এমন দুর্দশায় পড়তে হত না ইস্টবেঙ্গলকে। ৫৪ মিনিটে কর্নার থেকে ক্রোমার গড়ানো শট বাঁচালেন পাঞ্জাব এফসি–র গোলকিপার কিরণ লিম্বু। পাঞ্জাব‍ এফসি–র প্রথম একাদশে এবারের আই লিগে এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলদাতা ডিপান্ডা ডিকাকে ছিলেন না। ৬০ মিনিটে তিনি নামলেন মাঠে। আরও ঝাঁঝ বাড়াল পাঞ্জাব এফসি। ইস্টবেঙ্গলের মাঝমাঠ থেকে সামনে বল বাড়ানোর কেউ নেই। মার্তিকে ছেড়ে পরিবর্তে নেওয়া হয়েছে ভিক্টর পেরেজকে। তিনি যদিও বৃহস্পতিবারের ম্যাচে ছিলেন না। জানা নেই পেরেজ দলে ঢুকলে মাঝমাঠ থেকে ফরোয়ার্ডে বলের সাপ্লাই কতটা বাড়বে? ৯০ মিনিটে যতবার বল গেল তাঁর কাছে, শুধু ব্যাকপাস করে গেলেন কাশিম আইদারা! ৭০ মিনিটে ইস্টবেঙ্গল কোচ কোলাডোকে ওপরে ক্রোমার সঙ্গে তুলে দিয়ে মার্কোসের পরিবর্তে বল বাড়ানোর জন্য নামালেন হুয়ান মেরাকে। ৭৩ মিনিটে আবার পাঞ্জাব বক্সে ফাঁকায় বল পেলেন ক্রোমা। গোলকিপার লিম্বু কেটে গেলেন। সামনে শুধু স্টপার কিংসলে। তা–ও গোলে মারতে পারলেন না! গোল লাইন সেভ করলেন কিংসলে। সহজতম সুযোগ নষ্ট ইস্টবেঙ্গলের। ক্রোমার মতোই গোল মিস করলেন ডিপান্ডা ডিকা। গোলের মুখে পৌঁছেও বল তিন কাঠিতে রাখতে পারেননি। ম্যাচ ড্র। লিগ টেবিলে ইস্টবেঙ্গল দশম স্থান থেকে নবম স্থানে উঠল ১১ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে। তাও হতাশ নন ইস্টবেঙ্গল কোচ মারিও। তাঁর মতে, ‘ছেলেরা ভাল খেলেছে। অবনমন নিয়ে ভাবছি না। রেফারিংয়ের মান ভাল হয়নি। প্রথমার্ধে উনি বারবার খেলার ছন্দ নষ্ট করেছেন।’ পাঞ্জাব কোচ ইয়ান ল বলেছেন, ‘দুর্ভাগ্যজনক। আমাদের ৩ পয়েন্ট পাওয়া উচিত ছিল।’   
ইস্টবেঙ্গল: মিরশাদ, আশির, মেহতাব, কমলপ্রীত, আভাস, কাশিম, সামাদ আলি, ব্রেন্ডন (নাওরেম), কোলাডো, মার্কোস (হুয়ান), ক্রোমা (রোউলপুইয়া)।

হতাশ ক্রোমা। ছবি: রনি রায় 

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top