আজকালের প্রতিবেদন: বিশ্বের এক নম্বর টেস্ট দল বিরাট কোহলির ভারত বৃহস্পতিবার ভারতীয় সন্ধেয় সুদূর অ্যান্টিগায় শুরু করল বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ অভিযান। বিপক্ষে জেসন হোল্ডারের ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এবারই আসল লড়াই বিশ্বে টেস্টে সেরা হওয়ার। সেই যুদ্ধে বিরাট কোহলির ভারতকে নিয়ে গোটা ক্রিকেট বিশ্বে যে একটা বাড়তি আগ্রহ থাকবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
স্যর ভিভিয়ান আইজ্যাক রিচার্ডস স্টেডিয়ামে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম টসই হেরে গেলেন ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি। টস জিতে ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক জেসন হোল্ডার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন বিরাট কোহলিকে। প্রথমে ব্যাট করার। সানন্দে যা গ্রহণ করেছেন ভারত অধিনায়ক। কারণ, আধুনিক ক্রিকেটে এখন টেস্টেও আগে ব্যাট করে স্কোর বোর্ডে যেভাবে হোক বড় রান তুলে দেওয়ার একটা চেষ্টা থাকে। তা যে ঘাসে মোড়া পিচে প্রথম ব্যাটিং করাই হোক না কেন। বিরাট কোহলি–রবি শাস্ত্রী জুটি এই আধুনিক তত্ত্বে বিশ্বাসী। কিন্তু বিপদ তো ঘটলই। প্রথম িদন লাঞ্চের আগেই মায়াঙ্ক, পূজারা, কোহলির উইকেট খুইয়ে ফেলল ভারত।  
অ্যান্টিগার বাইশ গজ সবসময়ই জোরে বোলারদের সাহায্য করে। তাই ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক জেসন হোল্ডার টসে জেতার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি। তিনি বিলক্ষণ জানেন, ভারতীয় ব্যাটিংয়ের গভীরতা। যদি বৃষ্টির আমেজে তাও টেস্ট শুরুর আগে দ্রুত কয়েকটা ভারতীয় উইকেট তুলে নেওয়া যায় তাহলে ভারতীয় ব্যািটং চাপে পড়তে বাধ্য। আসলে হোল্ডারের মাথায় ছিল চলতি বছরের গোড়ার অভিজ্ঞতা। অ্যান্টিগােত ক্যারিবিয়ান জোরে বোলাররা মাত্র তিন দিনে টেস্ট ম্যাচ গুটিয়ে দিয়েছিল অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে। ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক যেমন ভেবেছিলেন ঠিক তেমনই দেখা গেল স্যর ভিভিয়ান আইজ্যাক রিচার্ডস স্টেডিয়ামে। প্রথম দিনের সকালে ৫ ওভারের মাথায় পেছনে খোঁচা দিয়ে ফিরে গেলেন ভারতীয় ওপেনার মায়াঙ্ক আগরওয়াল। আঘাত হানলেন সেই কেমার রোচ। যিনি এই অ্যান্টিগাতেই চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে একাই ৮ খানা উইকেট নিয়ে ভেঙে দিয়েছিলেন ইংল্যান্ডকে। একই ওভারে তিনি ফিরিয়ে দেন টেস্টে ভারতীয় ব্যাটিংয়ের অন্যতম আশা–ভরসা চেতেশ্বর পূজারাকেও। মাত্র ৭ রানে দুই ওপেনারকে খুইয়ে ভারতীয় ব্যাটিং খানিকটা কোণঠাসা তো বটেই। আসলে বল নড়ল কিন্তু পা নড়ল না ভারতীয়দের।
চার নম্বরে ব্যাট করতে নামলেন অধিনায়ক বিরাট কোহলি। ঠিক তিন বছর আগে এই ভিভ রিচার্ডসের ডেরাতেই ব্যাট নিয়ে মাস্তানি করেছিলেন বিরাট কোহলি। ২০০ রান করেছিলেন দাপটের সঙ্গে। অবিশ্বাস্য ফর্মে রয়েছেন। খাতা খুললেন স্কোয়্যার ড্রাইভ মেরে। প্রাথমিক ধাক্কা তিনি সামলে দেবেন ভাবা গেছিল। যার পকেটে ২৫ খানা শতরান তিনি জানেন কীভাবে প্রতিকূল পরিস্থিতি সামলাতে হয়। তাঁর ইনিংসের শুরুর দিকে শ্যানন গ্যাব্রিয়েলকে মারা স্ট্রেট ড্রাইভ দেখে মনে হতে বাধ্য এত সহজেও মারা যায়। কিন্তু তার পর কী করলেন কোহলি! গ্যাব্রিয়েলের পরপর তিনটি শর্ট বলেই পরাস্ত। কেন ওই শট মারতে গেলেন? ড্রেসিংরুমে ফিরে আপশোস তো করতেই হবে কোহলিকে। কোনও দরকার িক ছিল? নিশ্চয়ই নয়। টেস্ট ম্যাচের প্রথম এক ঘণ্টায়। আপার কাটের প্রয়োজন ছিল না কোহলি। তিনি গালিতে অভিষেক হওয়া ব্রুকসের হাতে ধরা পড়ে নিশ্চয়ই মনে মনে বলতে বাধ্য হয়েছেন না–‌না কোনও প্রয়োজন ছিল না। আসলে দ্রুত ব্যাট সরাতে পারলেন না। কোহলি ফিরতে চাপ বাড়ল তা নিয়ে সন্দেহ নেই। ওই যে যেখানে বল নড়ে সেখানে ব্যথা চিরকালীন।‌
স্কোর
ভারত প্রথম ইনিংস:‌ রাহুল অপরাজিত ৩৫ ‌, মায়াঙ্ক ক হোপ ব রোচ ৫, পুজারা ক হোপ ব রোচ ২, কোহলি ক ব্রুকস ব গ্যাব্রিয়েল ৯, রাহানে অপরাজিত ১০, অতিরিক্ত ৫, মোট (‌২৩ ওভারে, ৩ উইকেটে)‌ ৬৫। উইকেট পতন:‌ ১/‌৫, ২/‌৭, ৩/‌২৫। বোলিং:‌ রোচ ৬–১–১২–২, গ্যাব্রিয়েল ৬–১–২৪–১, হোল্ডার ৬–৪–৮–০, কামিন্স ৫–০–১৮–০। 
*‌ স্কোর অসম্পূর্ণ‌

শর্ট বলে আউট হলেন অধিনায়ক বিরাট কোহলি। ছবি: এএফপি

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top