সংবাদ সংস্থা, চেন্নাই: আইপিএলের আগে চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারদের নিয়ে শিবির আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। মুম্বইয়ের করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে অক্টোবরে আরব আমিরশাহিতে আইপিএল করতে চাইছেন বোর্ড কর্তারা। সেটা চূড়ান্ত হলেই দুবাইয়ে জাতীয় দলের শিবির করতে আগ্রহী বোর্ড।
শুক্রবার (‌১৭ জুলাই)‌ অ্যাপেক্স কাউন্সিলের বৈঠকে বিষয়টা স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ক্রিকেট চালু করতে গেলে কী কী করণীয় সেবিষয়ে চূড়ান্ত পদক্ষেপ স্থির করতে চাইছে বিসিসিআই। কারণ কোনও সিরিজে খেলতে নামার আগে ক্রিকেটারদের অন্তত ছয় সপ্তাহের ট্রেনিং শিবিরের প্রয়োজন। বোর্ডকে এমনটাই জানিয়েছিল বিরাটদের টিম ম্যানেজমেন্ট। বছরের শেষে অস্ট্রেলিয়া সিরিজ ছাড়া এই মুহূর্তে ভারতীয় দলের সামনে আর কোনও দ্বিপাক্ষিক সিরিজ নেই। তার আগে টি২০ বিশ্বকাপ বাতিল হয়ে গেলে অক্টোবর–নভেম্বরে আইপিএল করে ফেলতে মরিয়া বোর্ড। সেজন্য ক্রিকেটারদের তৈরি রাখতেই এই পরিকল্পনা বিসিসিআইয়ের।
শেষপর্যন্ত অক্টোবরে আইপিএল হলে, তার আগে প্রত্যেকটা ফ্র‌্যাঞ্চাইজি নিশ্চিতভাবে নিজেদের শিবির করবে। তবুও কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা ক্রিকেটারদের ফিটনেস পরখ করে নিতে একটা ছোট শিবির আয়োজন করতে চাইছে বোর্ড। যদিও সময় বিচারে যা মোটেও সহজ নয়। কারণ, অক্টোবরের শুরুতে আইপিএল হলে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ফ্র‌্যাঞ্চাইজিরা অন্তত তিন সপ্তাহ আগে ক্রিকেটারদের শিবিরে যোগ দিতে বলবে। সেক্ষেত্রে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই বোর্ডকে জাতীয় দলের শিবিরের জন্য সময় খুঁজে নিতে হবে। দেশে আনলক পর্বের বর্তমান পরিস্থিতিতে যা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং বিষয়।
সেজন্যই দুবাইয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (‌আইসিসি)‌ অ্যাকাডেমিকে কাজে লাগাতে চাইছে বোর্ড। এক সূত্রের কথায়, ‘‌মুম্বইয়ের পরিস্থিতি অবিশ্বাস্যভাবে উন্নতি না করলে আরব আমিরশাহিতেই আইপিএল হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। সুতরাং ওখানে শিবির হলে সবদিক থেকেই সুবিধে হবে। জাতীয় দলের শিবিরে থাকা ক্রিকেটারদের ফ্র‌্যাঞ্চাইজিদের ক্যাম্পে যোগ দিতেও কোনও সমস্যা হবে না। একবার আইপিএলের কেন্দ্র চূড়ান্ত হয়ে গেলেই বাকি বিষয়গুলোয় দ্রুত সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে।’‌
ওদিকে, সেপ্টেম্বরে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে সীমিত ওভারের সিরিজ খেলার কথা ছিল বিরাট কোহলিদের। বর্তমান পরিস্থিতিতে তা বাতিলের রাস্তায় হাঁটছে বিসিসিআই। বাতিল করে দেওয়া হবে নিউজিল্যান্ড ‘‌এ’‌ দলের সফরও। শোনা যাচ্ছে, কয়েকদিনের মধ্যেই সরকারিভাবে বোর্ড এই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিতে পারে। বোর্ডের এক শীর্ষ আধিকারিকের কথায়, ‘‌সেপ্টেম্বরের শেষে ছয় ম্যাচের (‌তিনটি টি২০ ও একদিনের ম্যাচ)‌ সিরিজ খেলতে আসার কথা ছিল ইংল্যান্ডের। এই পরিস্থিতিতে কোনওভাবেই ইংল্যান্ড দল ভারত সফরে আসবে না। আগস্টে নিউজিল্যান্ড ‘‌এ’‌ দলের সূচি ছিল। সেটাও বাতিল করা হবে। শুক্রবার অ্যাপেক্স কাউন্সিলের বৈঠকে এফটিপি (‌ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রাম)‌ নিয়ে আলোচনা হলে সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’‌

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top