সৌমিত্র কুমার রায়: এশিয়াডে সোনা জলপাইগুড়ির একটা গ্রামের নাম বদলে দিয়েছে! জলপাইগুড়ির ঘোষপাড়া এখন ‘স্বপ্নার গ্রাম’ নামেই একডাকে সবাই চেনেন। সোনার মেয়ের জন্য এলাকা উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে। যে রাস্তা বর্ষাকালে জলের তলায় থাকত, সেই রাস্তা পাকা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মুখে হাসি ফুটেছে। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের ভাবনা রয়েছে, নয়া রাস্তা স্বপ্না বর্মনকে দিয়েই উদ্বোধন করানোর। 
কিন্তু, স্বপ্না এখন জলপাইগুড়িতে নেই। পাতিয়ালাতে নয়া চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। সোনা পাওয়ার হ্যাটট্রিকের লক্ষ্যে নিজেকে শান দিচ্ছেন। দুটো বছর তঁার সোনার বছর গেছে। ২০১৭ সালে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ, তার পরের বছর এশিয়াডে সোনা। এই সাফল্যে তঁার ওপর প্রত্যাশার চাপ বেড়েছে। সাফল্য পেলে যা হয় আর কী!‌ এখন স্বপ্ন কোনও টুর্নামেন্টে নামলে ক্রীড়া মহল আশা করে স্বপ্নার হাত ধরে নিশ্চয়ই পদক আসবে। এই প্রত্যাশার চাপ ধরে রেখে সাফল্য পেতে গেলে আগের থেকে আরও ঘাম ঝরাতে হয়। এশিয়াডের সোনা জেতার পর উৎসব, তারপর চোটের ধাক্কা। প্রস্তুতিতে কিছুটা হলেও ছন্দপতন। পাতিয়ালাতে আজ শুরু হচ্ছে ফেডারেশন কাপ। ইতিমধ্যেই স্বপ্না এবং তঁার কোচ পৌঁছে গিয়েছেন। ফেডারেশন কাপে নামার আগে তঁার কোচকে একটু হলেও চিন্তায় রাখছে স্বপ্নার চোট। তবে, চোটের ধাক্কা অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছেন। আগামী এপ্রিলে দোহাতে অনুষ্ঠেয় এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের যোগ্যতা অর্জনের টুর্নামেন্ট হল এই ফেডারেশন কাপ। এতে ৫৮০০ পয়েন্ট পেলেই এপ্রিলের এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের নামার যোগ্যতা অর্জন করবেন। ফেডারেশন কাপ স্বপ্নার কোচ পাখির চোখ করেছেন ৫৯০০ পয়েন্ট। কোচের মনে হচ্ছে, এশিয়াডের সাফল্য, চোট সবমিলিয়ে প্রস্তুতিতে একটু হলেও প্র্যাকটিসে ব্যাঘাত ঘটেছে স্বপ্নার। তবে, গত দু’বছর যে কঠোর ট্রেনিংয়ের মধ্যে দিয়ে গিয়েছিলেন, তার নিরিখে ফেডারেশন কাপে ভাল ফলের ব্যাপারে আশাবাদী তিনি। ফেডারেশন কাপ নয়, স্বপ্না এবং তঁার কোচের আসল লক্ষ্য হল এবারে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জিতে হ্যাটট্রিক করা। সোনা জেতার হ্যাটট্রিক করতে পারলে একটা বৃত্ত সম্পূর্ণ হবে। সেদিকেই নজর তঁাদের। কোচের কথায়, এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের আগে এই ফেডারেশন কাপ প্রস্তুতি মঞ্চ। গত বছর ভাল ফল করেছিলেন স্বপ্না। এবারও নিজের ফর্ম ধরে রাখাই চ্যালেঞ্জ স্বপ্নার কাছে।‌‌

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top