‌সুনীল গাভাসকার: কী দাপটের সঙ্গেই না অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হল ভারত। ওদের হার্দিক অভিনন্দন। প্রতিটা ম্যাচে জয়ের ব্যবধানই বুঝিয়ে দিয়েছে, প্রতিযোগিতার সেরা দল হিসেবে ওরা কতটা এগিয়ে ছিল অন্যদের থেকে। সবচেয়ে ভাল লাগল, প্রতিটা ম্যাচেই কেউ না কেউ দলকে সহজ জয় এনে দিতে সাহায্য করেছে। কোনও সন্দেহ নেই যে, রাহুল দ্রাবিড় এবং সাপোর্ট স্টাফরা এক্ষেত্রে বিরাট ভূমিকা পালন করেছে। পাশাপাশি গত কয়েক বছর ধরে দেশের জুনিয়র ক্রিকেটকে সংগঠিত করতে যেভাবে এগোচ্ছে বিসিসিআই, তাতে তাদেরও কৃতিত্ব প্রাপ্য। নানা দেশ ঘুরে, নানা স্তরের ক্রিকেট দেখার সুবাদে কোনওরকম দ্বিধা না রেখে এটা বলাই যায়, বিসিসিআই তাদের জুনিয়র ক্রিকেটারদের যে সুযোগ, এক্সপোজার দেয় বিভিন্ন বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতায়, অন্য কোনও দেশ দেয় না।
যখন উইল সাদারল্যান্ড বোল্ড করল ভারতের অধিনায়ক পৃথ্বী শ–কে, টিভি ক্যামেরা সঙ্গে সঙ্গে প্যান করল ওর বাবা, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সিইও জেমস সাদারল্যান্ডের দিকে। সত্যিই ও খুব লাকি। ভারতে থাকলে স্বার্থের সঙ্ঘাতের জন্য ওকে ইস্তফা দিতে হত। কর্তাদের, প্রাক্তন ক্রিকেটারদের ওপর বেশি ভরসা রাখে অসিরা। তাই তো নির্বাচক মার্ক ওয়াকে টিভি ধারাভাষ্যকার হিসেবে দেখা যায় বিগ ব্যাশ টি ২০ প্রতিযোগিতায়। অস্ট্রেলিয়ার টি ২০ দলের সহকারী কোচ রিকি পন্টিংও কাজ করে একই টিভি চ্যানেলে। ওরা ভারতে থাকলে নিশ্চিতভাবেই স্বার্থের সঙ্ঘাতের দায়ে অভিযুক্ত হত।
ভারতে আমরা কারওর সততা, দায়বদ্ধতাকে বিশ্বাস করি না। হিংসা করি। স্বার্থের সঙ্ঘাতের নাম করে কাউকে কাজ করা থেকে বিরত রাখি, যে কাজটা সে আগে করেছে, যে কাজে তার অভিজ্ঞতা আছে। 
ভারতের সিনিয়র ক্রিকেট দল কিন্তু দুর্দান্ত খেলছে। টেস্ট সিরিজে যে সুযোগ তারা হাতছাড়া করেছে, একদিনের সিরিজে এখনও পর্যন্ত তা করেনি। ভারতীয় স্পিনারদের জাদুতে বেসামাল প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানরা। এবার তো চোটের তালিকায় ঢুকে পড়ল কুইন্টন ডি’‌ককও। ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং লাইনআপে সেই অভিজ্ঞতা আর নেই। নিউল্যান্ডসের উইকেটে কিছু ঘাস রাখার কথা শোনা যাচ্ছে। কিন্তু ওখানে এখন খরা চলছে। সেই ঘাসকে সতেজ রাখার জন্য আদৌ জল দেওয়া হবে কি না, সেটাও দেখার। 
চোটের জন্য আগেই ছিটকে গেছে ডুপ্লেসি। সিরিজে অস্থায়ী অধিনায়ক হিসেবে প্রোটিয়া নির্বাচকেরা মাত্র দুটো একদিনের আন্তর্জাতিক খেলা মার্করামকে বেছে নেওয়ায় বিস্ময় তৈরি হয়েছে। এটা ঠিকই যে, ২০১৪–য় অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকা দলকে নেতৃত্ব দিয়েছে মার্করাম, কিন্তু জুনিয়র ক্রিকেট ও সিনিয়র ক্রিকেটের মধ্যে অনেক ফারাক। হয়তো প্রোটিয়ারা বিশ্বাস করে, মার্করামই ভবিষ্যতের নেতা। ভারতে খুব ভাল ইংরেজি বলতে পারলে অধিনায়ক হওয়ার বেশি সুযোগ থাকে অন্যদের থেকে, যারা খুব সাবলীল নয় ইংরেজিতে।
ভারত যদি এমন স্বচ্ছন্দেই খেলা চালিয়ে যায়, তাহলে চলতি সপ্তাহেই সিরিজ দখলে আসতে পারে।‌‌‌‌

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top