Subhash Bhowmick: ভারাক্রান্ত ময়দান! ভোম্বল দা নেই মানতে কষ্ট হচ্ছে সুব্রত, মানসদের

আজকাল ওয়েবডেস্ক: ময়দানে আর দেখা যাবে না সুভাষ ভৌমিককে।

শোনা যাবে না তাঁর চিরাচরিত হুংকার। প্রিয় ভোম্বল দার সঙ্গে আড্ডা, তাঁর বকুনি সবই এখন অতীত। আর সেটাই মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে প্রয়াত সুভাষ ভৌমিকের সতীর্থদের। এত তাড়াতাড়ি তাঁদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ময়দানি সম্পর্কের ইতি টেনে এক অন্য দেশে পাড়ি দেবেন সুভাষ, কল্পনা করতে পারেননি কেউই। 'ফাইটার' সুভাষের প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় ছিল ময়দান। কিন্তু শেষপর্যন্ত অশ্রুজলে বিদায় জানাতে হল বন্ধুকে। তাও আবার বিনা আড়ম্বরে। সুভাষ ভৌমিকের প্রয়াণে একটা স্বর্ণযুগের অবসান হল। প্রাক্তনরা কী বলছেন তাঁকে নিয়ে? 

সুব্রত ভট্টাচার্য - খুবই মর্মান্তিক। ৫-৬ দিন আগেই কথা হয়েছিল, তখনও বুঝতে পারিনি এটাই শেষ কথা। ভোম্বল দা চলে গিয়েছে ভাবতেই পারছি না। সুভাষ ভৌমিক না থাকলে আমরা প্রতিষ্ঠা পেতাম না। ধীরেন দাকে বলে আমরা ওকে মোহনবাগানে সই করিয়েছিলাম। তারপর আমরা একের পর এক সাফল্য পেয়েছিলাম। 

মানস ভট্টাচার্য - আমরা একজন দক্ষ ফুটবলার এবং কোচকে হারালাম। ফুটবলটা খুব ভাল বুঝতেন। আমাকে এবং বিদেশকে হাতে ধরে শিখিয়েছিলেন। এটা অস্বীকার করার কোনও জায়গা নেই। খুব দাপটের সঙ্গে ফুটবল খেলেছেন। মাঠে নামার আগেই মনে মনে ঠিক করে নিতেন গোল করবেনই। সকালে খবরটা পাওয়ার পর থেকেই খুবই খারাপ লাগছে। বাংলার ফুটবলের অপূরণীয় ক্ষতি। 

গৌতম সরকার - সুভাষের চলে যাওয়া মেনে নেওয়া যাচ্ছে না। বলার কোনও ভাষা নেই। অসময়ে চলে গেল। যতই কিডনির অসুখ থাকুক, কোভিড হোক না কেন, জানতাম সুস্থ হয়ে ঠিক বাড়ি ফিরবে। কিন্তু সেটা হল না। ভৌমিককে আর আমরা দেখতে পাব না। এটাই মেনে নিতে পারছি না। তবে যতদিন বেঁচে থাকব, ওর স্মৃতি জড়িয়ে থাকব। ও হিরোদের হিরো ছিল। ফুটবলার এবং কোচ, সবেতেই সাফল্যের শিখরে ছিল। 

শিশির ঘোষ - ভোম্বল দা নেই ভাবা যায় না। আমি সুভাষ, হাবিবদের দেখে বড় হয়েছি। কোচ হিসেবে একনম্বর ছিলেন। ম্যান ম্যানেজমেন্ট অসাধারণ ছিল। ফুটবলারদের সবসময় সাহস যোগাতেন। মাঠে নেমে কীভাবে সাহসী ফুটবল খেলতে হয় সেটা আমরা ওনার থেকে শিখেছি। না থেকেও সুভাষ ভৌমিক চিরকাল আমাদের মধ্যে বেঁচে থাকবে। 

দীপেন্দু বিশ্বাস - স্যার অসময় প্লেয়ারদের পাশে থাকতেন। টিম ম্যানেজমেন্ট দারুণ ছিল। ইস্টবেঙ্গলে আমাকে পরের দিকে নামাতেন। আর আমি গোল করতাম। এই নিয়ে একবার আমার সঙ্গে ঝগড়াও হয়েছিল। এফসি কোচিনের বিরুদ্ধে ম্যাচ ছিল। আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম গোল করা সত্ত্বেও আমাকে কেন পরিবর্ত হিসেবে পরে নামানো হচ্ছে। সেদিনও আমি পরেই নেমেছিলাম এবং নেমেই গোল করেছিলাম। ম্যাচের পর উনি বলেছিলেন, এই কারণেই পরে নামান আমাকে। নয়ত গোলটা হয়ত আমি পেতাম না। সুভাষ স্যারের মতো ভারতীয় ফুটবলে কেউ আসেনি।

আকর্ষণীয় খবর