সংবাদ সংস্থা, ওয়েলিংটন: একদিনের সিরিজে ০–৩ হার অতীত। টেস্ট সিরিজের আগে হুঙ্কার দিলেন বিরাট কোহলি। বললেন, ‘‌বিশ্বের যে কোনও দলের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা রাখি।’‌ 
সদ্য একটা সিরিজে গো–হারা হারার পর এত আত্মবিশ্বাস!‌ তবে কি একদিনের সিরিজে হারের আক্ষেপ নেই?‌ ভারত অধিনায়ক নিজের মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। বলেছেন, ‘‌ফিটনেস ও মনঃসংযোগ আমাদের যে জায়গায় রয়েছে, তাতে বিপক্ষের যে কোনও দলকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারি। সেই আত্মবিশ্বাস সঙ্গে নিয়েই নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে মাঠ নামব।’‌ 
কোহলি এরপর যোগ করেন, ‘‌ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ায় দর্শকদের ভূমিকা থাকে বড়সড়। ওদের দেশে খেলতে গেলে, এই বিষয়টা যাতে মাথায় চেপে না বসে, মানসিকভাবে সেরকম জায়গায় থাকতে হয়। কিন্তু নিউজিল্যান্ডে ক্রিকেট মানে শৃঙ্খলাপরায়ণ ব্যাপার। এ দেশের প্লেয়াররা যেমন ফিট, তেমনই সারাদিন ধরে বিপক্ষের ধৈর্যের পরীক্ষা নেয়। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং— তিন বিভাগেই ওরা দক্ষ। ফলে খুব বেশি সুযোগ দেয় না। তাই যেটুকু সুযোগ পাব সেটাই কাজে লাগাব। ফোকাস থাকাটা জরুরি। আগের তুলনায় আমরা বদলে গেছি। বলতে পারেন, এই দলটা এখন পরিপূর্ণ।’‌ 
ঘরের মাঠে খেলবেন উইলিয়ামসনরা। বিষয়টা কি একটুও ভাবাচ্ছে না?‌ কোহলি বলেছেন, ‘‌ঘরের মাঠে খেলবে বলে ওদের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চয়ই বেশি থাকবে। জানি, ওরা পরিকল্পনাও সেভাবেই সাজাবে।’‌ 
প্রথম টেস্টের প্রথম একাদশ কেমন হবে?‌ ইশান্ত শর্মা এবং পৃথ্বী শ খেলতে পারেন ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন কোহলি। ভারত অধিনায়ক বলেছেন, ‘‌গোড়ালিতে চোট পাওয়ার আগে ইশান্ত যেমন বল করত, এখনও ওর বোলিং দেখে সেরকমই মনে হচ্ছে। ঠিক জায়গায় বল রাখছে। নিউজিল্যান্ডে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা ওর রয়েছে। ইশান্তকে বল করতে দেখে সত্যিই ভাল লাগছে।’‌ পৃথ্বী সম্পর্কে অধিনায়কের বক্তব্য, ‘পৃথ্বী প্রতিভাবান। ওর খেলার নিজস্ব এক ধরন রয়েছে। আমরা চাই, ও নিজের খেলাটাই খেলুক। ওদের ওপর কোনও চাপ নেই। ফলে মরিয়া হয়ে পারফর্ম করতেই হবে, বিদেশের মাটিতে ভাল না খেললে চলবে না— এরকম কোনও চাপও নেই। মায়াঙ্ক যেমন অস্ট্রেলিয়ায় খোলা মনে খেলেছিল, পৃথ্বীও নিউজিল্যান্ডে সেভাবেই খেলবে।’‌ এদিকে বুধবার নেটে ঋষভ নয়, ঋদ্ধিমানকেই উইকেটকিপারের ভূমিকায় দেখা যায়। ইঙ্গিত স্পষ্ট, ঋদ্ধিই খেলবেন প্রথম টেস্ট। 
কোহলিকে বুধবার প্রশ্ন করা হয়, ওয়ার্কলোড নিয়েও। ঠাসা সূচিতে বিশ্রামের সময়ই থাকছে না। সেক্ষেত্রে কি কোনও একটি ঘরানা ছাড়ার কথা ভাবছেন?‌ জবাবে কোহলি বলেছেন, ‘আমার সামনে ছবিটা পরিষ্কার। আগামী তিন বছর কঠোর পরিশ্রম করব। তিন ঘরানাতেই খেলব। তারপর নয় আপনাদের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা করব। গত আট বছর ধরে বছরে ৩০০ দিন খেলে বেড়াচ্ছি ‌(‌‌এর মধ্যে একজায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছুটে বেড়ানো, নেট সেশনও রয়েছে)‌‌। নিষ্ঠা ও সম্পূর্ণ একাগ্রতার সঙ্গেই কাজটা করছি। এমন নয়, এই ঠাসা সূচির ব্যাপারটা আমাদের ভাবায় না। অধিনায়ক হিসেবে অনুশীলনে আরও বেশি মন দিতে হয়। যা অবশ্যই ধকল বাড়ায়। তবে মাঝেমধ্যে বিরতি নিই। সেটা নিলে সমস্যা হয় না।’‌ 
শেষে কোহলি বলেছেন, আইসিসি–র টুর্নামেন্টগুলোর মধ্যে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপই সেরা। ভারত অধিনায়কের কথায়, ‘‌প্রতিটি দল চাইছে লর্ডসে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলতে। আমরাও তাই চাই। টেস্ট ক্রিকেট আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে এই চ্যাম্পিয়নশিপের জন্যই।’‌ ‌

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top