বিশ্বজিৎ দাস, কটক: পাঁচ ম্যাচ পর আবার বাংলার জার্সিতে রনজিতে। সেটাও কোয়ার্টার ফাইনালের মতো মহা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে। কটকের ড্রিমস কলেজের মাঠে বাংলার অনুশীলন শেষে নিজের ফিটনেস, অরুণলাল মন্ত্র, বাংলার ড্রেসিংরুমের পরিবেশ— সবকিছু নিয়েই অকপট ঈশান পোড়েল।
 নিউজিল্যান্ড সফর সেরে সরাসরি রনজি ট্রফির কোয়ার্টার ফাইনাল। ধকল, মানিয়ে নেওয়ায় সমস্যা হয় না?‌
ঈশান পোড়েল:‌ কোথায় সরাসরি!‌ নিউজিল্যান্ড থেকে ফিরে দু’‌দিন তো পরিবারের সঙ্গে সময় কাটালাম।
 সেখানেও তো পারিবারিক অনুষ্ঠানের একটা ব্যস্ততা ছিল।
ঈশান:‌ হ্যাঁ, কিছুটা ব্যস্ততা ছিলই। বাবা–মা’‌র ২৫তম বিবাহবার্ষিকী অনুষ্ঠানটা একার হাতেই আয়োজন করেছিলাম। আসলে ওটা একটা স্পেশাল দিন। তা ছাড়া কাছের লোকের সঙ্গে সময় কাটানোর ব্যস্ততায় ক্লান্তি আসে না।
 নিউজিল্যান্ড সফরে কেমন অভিজ্ঞতা হল?‌
ঈশান:‌ দারুণ। নিউজিল্যান্ড বরাবরই আমার প্রিয় জায়গা। অনেকটা লাকি চার্মও বলতে পারেন। দু’‌বছর আগে ওখানেই তো অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম। এ বছরও ‘‌এ’‌ দলের হয়ে ভালই পারফর্ম করেছি। উইকেটও পেয়েছি। আশা করি এখানেও সেই ছন্দটা ধরে রাখতে পারব।
 এখানে তো দেখছি সবুজ উইকেট। আর আপনার এক্সাইটমেন্ট দেখে মনে হচ্ছে পারলে এখনই মাঠে নেমে পড়বেন‌!‌
ঈশান:‌ (‌হা হা) তাই নাকি‌। সত্যি বলতে আমি এখনও উইকেট দেখিনি। শুনেছি ভাল ঘাস আছে। শেষপর্যন্ত উইকেট কতটা সবুজ থাকবে জানি না। তবে এখানকার উইকেট শক্ত। যেভাবে রোদ বেরোচ্ছে, তাতে রিভার্স স্যুইং হবেই। ফলে একবার ছন্দ পেয়ে গেলে বিপক্ষকে গুটিয়ে দেওয়ার জন্য একটা সেশনই যথেষ্ট। কথাটা মিলিয়ে নেবেন।
 এরকম উইকেটে আকাশ দীপকে পাওয়া যাচ্ছে না। কতটা প্রভাব পড়বে?‌
ঈশান:‌ অবশ্যই। কিছুটা প্রভাব যে পড়বে, সেটা অস্বীকার করার কোনও জায়গা নেই। তবে নীলুদা (‌নীলকণ্ঠ দাস)‌ আছে, মুকেশ আছে। দু’‌জনই ভাল করছে। আর আগেই তো বললাম, ছন্দ পেয়ে গেলে বেশি সময় নেব না। তবে হ্যাঁ, আকাশ থাকলে আমাদের পেস অ্যাটাক ভয়ঙ্কর হয়ে যেত।
 অন্যান্যবারের তুলনায় এবারের বাংলা শিবিরের ছবি তো এক্কেবারে অন্য দেখছি। কোয়ার্টার ফাইনালের আগেও পুরো ফুরফুরে মেজাজ। সেই থমথমে পরিবেশটাই উধাও।
ঈশান:‌ এই কৃতিত্বটা লাল স্যরের (‌অরুণলাল)‌। উনি কখনও ক্রিকেটারদের পিছনে কথা বলেন না। অনেকটা পেপ গুয়ার্দিওলা, ক্লপের মতো। প্রশংসা হোক বা সমালোচনা, যা বলার সামনে। প্রয়োজনে সবার সামনে বলেন। বকাবকি করলে সেটাও সবার সামনেই করেন। এগুলোর দুটো দিক থাকে। নেগেটিভ দিকটা ধরে বসে থাকলে তুমি মুষড়ে পড়বে। আর সেটা ঝেড়ে ফেলতে পারলে বাকি সবটাই পজিটিভ। এই দলটা সবসময় পজিটিভ দিকটা নেওয়ার চেষ্টা করে। এটা তারই প্রতিফলন।
 একটু আগেই অরুণলাল প্রশংসা করে বলছিলেন, গত মরশুমে আপনার হাঁটা–চলা দেখে বৃদ্ধা মহিলা মনে হত। এবার পুরোপুরি নিজেকে বদলে ফেলেছেন। কীভাবে?‌
ঈশান:‌ কঠোর পরিশ্রম। মরশুমের শুরুটা দু’‌মাস হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেছি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রেনিং করেছি। এখন তারই ফল পাচ্ছি। বললাম না, লাল স্যর আমাদের মানসিকতাই বদলে দিয়েছেন।
 ওডিশা ম্যাচ জিতলেই তো ইডেনে সেমিফাইনাল।
ঈশান:‌ তাই নাকি!‌
 হ্যাঁ। এই ম্যাচের জয়ী দল নিজেদের মাঠেই সেমিফাইনাল খেলার সুযোগ পাবে।
ঈশান:‌ তা হলে তো দারুণ ব্যাপার। দু’‌বছর আগে রনজি কোয়ার্টার ফাইনাল খেলে চলে যেতে হয়েছিল। সেবার অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের জন্য চ্যালেঞ্জার্সের দলে নাম থাকায় দিল্লির বিরুদ্ধে ম্যাচটা খেলতে পারিনি। সেই আপশোসটা ছিল। এবার সেটা সুদে–আসলে পুষিয়ে নিতে চাই।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top