অগ্নি পান্ডে: খেলেছেন তিন জনই একসঙ্গে। আশির দশকে লাল–হলুদ জার্সিতে মাঠ মাতিয়েছেন তাঁর সঙ্গে। প্রচুর স্মৃতি ঠাসা। সেই পুরনো সতীর্থ ৩২ বছর পর কলকাতায় আসার পর আর থাকতে পারেননি দুই সতীর্থ। রবিবার দুপুরে ছুটে চলে যান মধ্য কলকাতার যে হোটেলে রয়েছেন সেই হোটেলে। হ্যাঁ, রবিবার দুপুরেই হোটেলের ৫০৫ নম্বর রুমে গিয়ে মজিদ বাসকারের সঙ্গে দেখে করে এলেন জামিশদ নাসিরি এবং ভাস্কর গাঙ্গুলি। অপর সতীর্থ সমরেশ চৌধুরি ১৩ অগাস্ট লাল–হলুদের শতবর্ষ উপলক্ষ্যে ক্রীড়া দিবসে দেখা করবেন মজিদের সঙ্গে ইস্টবেঙ্গল তাঁবুতে। ময়দানের ‘পিন্টু’ আপাতত অপেক্ষায়।
হোটেলে মজিদ বাসকারে ঘরের সুত্র থেকে জানা গেছে, ৩২ বছর পর পুরনো ‘বন্ধু’–দের দেখে বেজায় খুশি হয়েছেন ইস্টবেঙ্গল–মহমেডান কাঁপিয়ে যাওয়া ইরানের ফুটবলার মজিদ বাসকার। হোটেলের ঘরে ভাস্কর এবং জামশিদকে দেখে জড়িয়ে ধরেছেন মজিদ। ভাস্কর, জামশিদের কাছে জানতে চেয়েেছন এখনকার কলকাতার হালহকিকৎ। হোটেলের সূত্র থেকে জানা গেছে, তিনি ভাস্কর–জামশিদের সঙ্গে চুটিয়ে আড্ডা দিয়েছেন। বারবার বলেছেন, কলকাতায় এখনও তাঁর ভক্ত সংখ্যা দেখে আপ্লুত। 
গভীর রাতেও বিমানবন্দরে তাঁকে দেখার জন্য ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের এত উন্মাদনা, ভাবতেও পারেননি। তখন ‘বন্ধু’–রা জানিয়েছেন, ১৩ তারিখ ইস্টবেঙ্গলের আসল অনুষ্ঠানের দিন তাঁকে নিয়ে কীরকম আবেগতাড়িত হয়ে পড়বে লাল–হলুদ জনতা সেই কথা। ৬৩ বছরের মজিদের কলকাতা ময়দান দেখার ইচ্ছে রয়েছে। ইস্টবেঙ্গল ক্লাব যেভাবে তাঁকে মনে রেখেছে তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। রবিবার রাত পর্যন্ত একই শহর দক্ষিণ ইরানের খোরামশহরে েবড়ে ওঠা বন্ধু জামশিদ নাসিরির সঙ্গে কাটিয়েছেন। জামশিদের ইচ্ছে ছিল, আশির দশক থেকে বদলে যাওয়া নয়া পার্ক স্ট্রিট দেখানো। রবিবার রাতে তা সম্ভব না হলেও পরের দিন দেখাবেন, মনস্থির করেছেন।
তেহেরান থেকে কলকাতা ভায়া কাতার হয়ে উড়ানযাত্রার ধকল যেন মজিদের এক নিমিয়ে উড়ে গেছে কলকাতায় পা দেওয়ার পর থেকে। তারপর তাঁর অতীত সতীর্থদের হাতের নাগালে পেয়ে ফের উজ্জীবিত। মজিদ ‘বন্ধু’–েদর কাছে জানতে চান তাঁর সময়ের ফুটবলার মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য, সুব্রত ভট্টাচার্যের কথা। 
সমরেশ চৌধুরিকে মজিদ এখনও চেনেন ‘পিন্টু’ নামেই। পিন্টুর কথা বারবার জানতে চান। বন্ধুদের দেখে ঘুরে–ফিরে একটা কথাই মজিদ বলতে চেয়েছেন, ইস্টবেঙ্গল ক্লাব যেভাবে তাঁকে সম্মান দিয়েছেন তা জীবনে কোনওদিন ভুলবেন না। হোটেলের রুমের সূত্র থেকে জানা গেছে, মজিদ ভাস্কর গাঙ্গুলিকে দেখে জানতে চেয়েছেন কেন এত মোটা হয়ে গেছেন? জামিশদ কেন আরও রোগা হয়ে গেছেন? সবমিলিয়ে রবিবার মধ্য কলকাতার হোটেলে বসেই আশির দশকে ফিরে যেতে চেয়েছেন ‘আশির বাদশা’ মজিদ বাসকার।
যিনি রবিবার দেখা করতে পারেননি সেই পিন্টু চৌধুরি কী বলছেন? মজিদের কথা উল্লেখ করতেই সমরেশ ফিরে গেলেন ’৮১ সালে। ‘ইস্টবেঙ্গলে সই করি ’৮১ সালে। একটা লিগ ম্যাচে মজার কান্ড হয়েছিল। শান্ত মিত্র আমাদের কোচ। দল মাঠে নামবে। আমি সবার শেষে মাঠে নামতাম। মাঠে নামছি সেসময় ইস্টবেঙ্গল জনতা সবাই উঠে দাঁড়িয়ে আমাকে অভিবাদন জানাতে থাকে। আমার ঠিক সামনেই মজিদ। ও ভাবে ওকে দেখে দর্শক এমন করছে। মজিদ দর্শকদের উদ্দেশ্যে হাত নাড়তে থাকেন। তখন আমি পেছন থেকে কাঠ বাঙাল ভাষায় মজিদকে বলি, তোমারে দেইখ্যা কইতেছে না, আমারে দেইখ্যা লাফাইতেছে। আমি এতই জনপ্রিয়। শুনে কিছু না বুঝে হেসে ছিল। ওই ম্যাচেই আমার সেন্টার থেকে বল বুকে রিসি করে গোল করেছিল মজিদ।’ 
সমরেশ ফিরলেন অতীতে। ‘আহা, কী ফুটবলার! একটা বছরই ওর সঙ্গে খেলেছিলাম। ওর খেলা দেখতে দারুণ ভাল লাগত। আর দেখতে ছিল একদম ধর্মেন্দ্রর মতোই। এত বড় প্রতিভা ছিল, খুব দ্রুত নিজেকে শেষ করে দিল।’

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top