সংবাদ সংস্থা, প্যারিস: নতুন মরশুমে শুরু থেকেই বিপর্যয় চলছে প্যারিস সাঁ জাঁ–‌য়। ফরাসি লিগে প্রথম ম্যাচের মতো দ্বিতীয় ম্যাচেও হার গতবারের চ্যাম্পিয়নদের। ১৯৮৪–৮৫–র পর আবার ফরাসি লিগে প্রথম দুই ম্যাচে হারল পিএসজি। কিন্তু রবিবার পিএসজি–মার্সেই ম্যাচ উত্তাল হয়ে উঠল অন্য কারণে। সংযুক্তি সময়ে নেইমার–সহ পাঁচজন ফুটবলার লাল কার্ড দেখলেন। 
লাগাতার সংবাদ শিরোনামে ব্রাজিলীয় স্ট্রাইকার। সম্প্রতি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে বায়ার্নের কাছে হারের পর মাঠ ছেড়েছিলেন কাঁদতে কাঁদতে। তারপর করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ফরাসি লিগের প্রথম ম্যাচে খেলতে পারেননি। সুস্থ হয়ে দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নেমেই বিতর্কে জড়িয়ে পড়লেন নেইমার। ৩১ মিনিটে মার্সেইকে এগিয়ে দেন ফ্লোরিয়ান থাউভিন। অনেক চেষ্টা করেও সেই গোল শোধ করতে পারেনি টমাস টুখেলের দল। ম্যাচ শেষ হওয়ার আগে বারবার মাথা গরম করে ফেলছিলেন দুই দলের ফুটবলাররা। সংযুক্তি সময়ের সাত মিনিটে তুমুল তর্কাতর্কি, হাতাহাতিতে জড়িয়ে লাল কার্ড দেখেন পিএসজি–র লায়ভিন কুরজাওয়া এবং মার্সেইয়ের জর্ডন আমাভি। সঙ্গে সঙ্গেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে লাল কার্ড দেখেন পিএসজি–র লেন্দ্রো পারেদেজ এবং মার্সেইয়ের দারিও বেনেদেত্তো। তবু উত্তেজনা থামেনি। নয় মিনিটের মাথায় একটি ফাউলকে কেন্দ্র করে আবার বচসায় জড়িয়ে পড়েন দুই দলের ফুটবলাররা। তখনই মার্সেই ডিফেন্ডার আলভারো গঞ্জালেজ দাবি করেন, তাঁর মাথার পেছনে চাঁটি মেরেছেন নেইমার। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (‌ভার)‌ সাহায্য নিয়ে রেফারি লাল কার্ড দেখান ব্রাজিলীয়কে। রেফারির সিদ্ধান্তে হাততালি দেন নেইমার। বেরনোর সময় কিছু বলার চেষ্টা করেন লাইন্সম্যানকে। 
পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় নেইমারের অভিযোগ, চূড়ান্ত বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্য করেছেন গঞ্জালেজ। ‘‌আমার দুঃখ থেকে গেল কেন ওর (গঞ্জালেজ)‌ মুখে সজোরে মারলাম না’‌, টুইট করেছেন নেইমার। অন্য একটি টুইটে তিনি জানান, ভারের সাহায্যে রেফারি তাঁর আগ্রাসন দেখেছেন, কিন্তু তাঁকে উদ্দেশ্য করে যে বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্য করা হল, তার কী হবে?‌ নেইমারের অভিযোগ তাঁকে ‘‌বাঁদর’‌ বলেছেন গঞ্জালেজ। যদিও নেইমারের অভিযোগ খণ্ডন করে গঞ্জালেজ জানিয়েছেন, বর্ণবিদ্বেষের কোনও প্রশ্নই নেই, বরং পরাজয়কে গ্রহণ করতে শিখুন নেইমার। ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশন নেইমারকে সাত, গঞ্জালেজকে দশ ম্যাচ নির্বাসিত করতে পারে।
অত্যন্ত সতর্কভাবে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন পিএসজি–র স্পোর্টিং ডিরেক্টর লিওনার্দো। বলেছেন, ‘‌ঘটনাটা অত্যন্ত সিরিয়াস। সবকিছুই খতিয়ে দেখছি। কথা বলব প্লেয়ারদের সঙ্গে।’‌ মার্সেইয়ের কোচ আন্দ্রে বিয়াস–বোয়াস বলেছেন, ‘‌মনে হয় না অভিযোগ সঠিক। ফুটবলে বর্ণবৈষম্যের কোনও স্থান নেই। এরকম ঘটলে তা অন্যায়।’‌ উল্টে তাঁর অভিযোগের আঙুল আর এক সদ্য করোনা–মুক্ত ডি মারিয়ার দিকে। পিএসজি–র এই ফুটবলার নাকি তাঁর ফুটবলারের দিকে থুতু ছিটিয়েছেন, দাবি বিয়াস–বোয়াসের। ‌‌

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top