সৌমিত্র কুমার রায়: কেউ পরিবার নিয়ে উদ্বিগ্ন। মোবাইলে ভিডিও কলে কথা বলছেন বারবার। কেউ ঘরে িফরতে পারেননি। কেউ আবার বাড়ি পৌঁছে যাওয়ার জন্য ক্লাবকে ধন্যবাদ জানাতে ভুলছেন না।
করোনার জন্য গোটা দেশ লকডাউনে। দুই প্রধানের ফুটবলারদের হালহকিকত কী? কীভাবে সময় কাটাচ্ছেন? আই লিগ স্থগিত হয়ে গিয়েছে। দুই প্রধানের বিদেশিরা কলকাতাতে থাকলেও স্বদেশিদের মধ্যে কেউ কেউ বাড়ি ফিরে গিয়েছেন। অনেকেই আবার রয়েছেন কলকাতায়।
মোহনবাগানের ডিফেন্ডার আশুতোষ মেহতা মুম্বই না ফিরে কলকাতাতেই রয়েছেন। পরিবার নিয়ে উদ্বিগ্ন। এ দিন ফোনে আশুতোষ বলেন, ‘কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। মুম্বইয়ের অবস্থা আরও খারাপ। বাড়ির লোকের জন্য চিন্তা হচ্ছে। পরিবারের সবাইকে বলেছি, বাড়ি থেকে একদম বেরোবে না।’ কীভাবে অবসর সময় কাটছে? উত্তরে আশুতোষ বলেন, ‘আই লিগে ম্যাচের ভিডিও দেখছি। কোথায় ভুল করেছি ভিডিও দেখে শুধরে নেওয়ার চেষ্টা করছি। সিনেমা দেখছি। প্র্যাকটিস ছাড়া থাকতে পারি না। বাড়িতেই হালকা গা ঘামাচ্ছি। ট্রেনিং করার কিছু যন্ত্র আমার রয়েছে। সেগুলো কাজে লাগাচ্ছি।’
মোহনবাগা‍নের লিগ চ্যাম্পিয়ন দলের আরেক সদস্য শেখ সাহিল আবার  মাছ ধরে অবসর সময় কাটাচ্ছিলেন। লকডাউন হওয়ার পর সেটাও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মন খারাপ। সাহি‍ল বলেন, ‘অবসরে মাছ ধরা আমার নেশা। কিন্তু লকডাউনের পর বাড়ি থেকে বেরোনো বন্ধ করে দিয়েছি। পরিবারের সঙ্গেই রয়েছি। হালকা ট্রেনিং করছি।’ মোহনবাগানের ফুটবলাররা লকডাউনে বাড়িতে থাকলেও ট্রেনিংয়ের মধ্যে রয়েছেন। কারণ, ফিজিক্যাল ট্রেনার পাওলিয়াস ট্রেনিং চার্ট হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পাঠিয়েছেন। তা অনুসরণ করছেন ধনচন্দ্র, আশুতোষরা।
বাগান গোলকিপার শঙ্কর রায় পরিবারের সঙ্গেই সময় কাটাচ্ছেন। বলেন, ‘মরশুম চলাকালীন প্র্যাকটিস–বাড়ি করি। পরিবারকে খুব বেশি সময় দেওয়া হয় না। করোনার জন্য বাড়িতেই রয়েছি। বিকেলে হালকা ট্রেনিং করছি। সকলকে বলব, বাড়িতে থাকুন। সুস্থ থাকুন।’ ইস্টবেঙ্গল গোলকিপার মির্শাদ বাড়ি ফেরেননি। কলকাতায় রয়েছেন। বলেন, ‘অবসরে গান শুনছি। সিনেমা দেখছি। প্র্যাকটিস বন্ধ। বাড়ি ফিরতে পারলে ভাল লাগত।’ ইস্টবেঙ্গলের সাইডব্যাক সামাদ আলি মল্লিক আবার ভাইপো সাহুত মল্লিককে ফুটবল শেখাচ্ছেন। সামাদ বলেন, ‘আমাদের বাড়ির সামনে উঠোন রয়েছে। ভাইপোকে নিয়ে রোজ প্র্যাকটিস করছি।’ লকডাউন হওয়ার আগে মণিপুরের বাড়ি ফিরে গিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন মোহনবাগান ফুটবলার নংদম্বা নাওরেম। বলেন, ‘মোবাইলে গান শুনছি। সিনেমা দেখছি। বাড়িতেই রয়েছি। বাড়ি ফিরতে পারার জন্য ক্লাবকে ধন্যবাদ।’

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top