আজকালের প্রতিবেদন: কোটি কোটি বাঙালির মতোই তিনিও ভালবাসেন দুর্গাপুজো। প্রার্থনা থেকে ধুনুচি নাচ— বাদ যেত না কিছুই। চাইতেন বিসর্জনে যেতেও। কিন্তু ভারতের অধিনায়ক বলে কথা!‌ রাস্তায় তাঁকে নাচতে নাচতে বিসর্জন দিতে যেতে দেখলে, মানুষ তো ছাড়বে না‌!‌ তা হলে উপায়?‌ ঠিক করলেন, পাঞ্জাবির বেশে যোগ দেবেন। সেইমতো মুখে একগাল দাড়ি লাগিয়ে এবং পাগড়ি পরে ‘‌সর্দারজি’‌ সেজে ছদ্মবেশেই চললেন বিসর্জন দিতে। তাতেও শেষরক্ষা হয়নি। বাবুঘাটে এক পুলিসকর্মী তাঁকে চিনে ফেলেছিলেন। অবশ্য বাকিদের কাছে সেই রহস্য তিনি ফাঁস করেননি।
নিজের নতুন বই ‘‌এ সেঞ্চুরি ইজ নট এনাফ’‌–এ এরকমই জীবনের বিভিন্ন অজানা কথা তুলে ধরেছেন সৌরভ গাঙ্গুলি। বাজারে আসতে দেরি হলেও, প্রথম অধ্যায়টা বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ দিয়েছেন প্রকাশকরা। সেখানেই এই অদ্ভুত কীর্তি পাঠকের গোচরে এসেছে। সৌরভ লিখেছেন, ‘‌আমার স্ত্রী ডোনা সমস্ত মেক–আপের আয়োজন করে দিল। কিন্তু আমার শিখ–রূপ দেখে আত্মীয়রা মজা করে বলতে লাগল, ঠিক ধরা পড়ে যাব। ওদের ধারণাই সত্যি হল।’‌ মেয়ে সানাকে নিয়ে ট্রাকের পেছনে নিজের গাড়িতে যাওয়াতেই ধরা পড়ে যান। দুর্গাপুজো সৌরভের বরাবরই প্রিয়। এর কয়েক বছর পর অষ্টমীর দিনেই ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর কথা ঘোষণা করেন।
অবসরের বেশ কয়েক দিন আগে, ২০০৮–এর এক দুপুরের কথা উল্লেখ করেছেন সৌরভ। ইডেনে প্র‌্যাকটিস করতে যাওয়ার আগে হঠাৎ জানতে পারেন, তাঁকে ইরানি ট্রফির দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ‘‌রাগত’‌ এবং ‘‌হতাশ’‌ সৌরভ ভাবতে পারেননি, এশিয়ার বর্ষসেরা ক্রিকেটারকে এভাবে বাদ দেওয়া হবে!‌ তিনি সরাসরি ফোন করলেন অধিনায়ক অনিল কুম্বলেকে। সেই প্রসঙ্গে লিখছেন, ‘‌আমি সরাসরি ওকে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি কি আর আমাকে প্রথম একাদশের উপযুক্ত বলে মনে করো না?‌ কুম্বলে বরাবরের মতো একজন ভদ্র মানুষ, আমার ফোনে কিছুটা অপ্রস্তুত মনে হল। জানাল, ও নির্বাচক কমিটির সঙ্গে এখনও কথা বলেনি। কিন্তু যদি ওকে দল বেছে নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়, তা হলে নিশ্চয়ই আমাকে পরের ম্যাচে রাখবে।’‌ কুম্বলের উত্তর আশ্বাস দেয় সৌরভকে। কিন্তু তিনি ঠিক করেন, ঘরে বসে থাকবেন না। ঘরোয়া ক্রিকেট খেলবেন। চলে গেলেন চণ্ডীগড়ে জে পি আত্রে টুর্নামেন্ট খেলতে। যে টুর্নামেন্টের নাম ভূভারতের মানুষ শুনেছে কি না সন্দেহ!‌ সৌরভ লিখছেন, ‘‌আমার জীবনের অন্যতম কঠিন সাতটা দিন ছিল ওটা। ৪০০–র ওপর আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার পরেও আমাকে এমন একটা টুর্নামেন্টে খেলতে হচ্ছে, যেখানে আমি সতীর্থদের নাম পর্যন্ত জানি না। ১৮,০০০ রান আছে নামের পাশে, কিন্তু মনে হচ্ছিল এই রানগুলো সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ।’‌
সৌরভের অবসর নেওয়ার খবরে কিছুটা অবাক হয়েছিলেন তাঁর বাবা চণ্ডী গাঙ্গুলি। কেন?‌ সৌরভ লিখেছেন, ‘‌এর আগে গ্রেগ চ্যাপেলের আমলে আমাকে দল থেকে বাদ যেতে দেখার পর বাবা চেয়েছিলেন আমি অবসর নিই। নিজের ছেলের এই কষ্ট দেখতে পারছিলেন না বাবা। কিন্তু আমি রুখে দাঁড়িয়েছিলাম। বলেছিলাম, বাবা, অপেক্ষা কর। আমি ঠিক ফিরে আসব। আমার মধ্যে এখনও ক্রিকেট বেঁচে আছে। বড় হওয়ার পর সোফায় আরাম করে বসে এটা বলতে চাই না যে, লড়াইয়ের সময় আমি হাল ছেড়ে দিয়েছিলাম। আমার আরও চেষ্টা করা উচিত ছিল। সেই ঘটনার তিন বছর পর যখন বাবা শুনলেন আমি অবসর নিচ্ছি, তখন অবাক হয়েছিলেন।’‌
সৌরভকে বাদ দেওয়ার পেছনে অনেকে মহেন্দ্র সিং ধোনির হাত দেখতে পান। কিন্তু সেই ধোনিরই একটি ঘটনা মন ছুঁয়ে গিয়েছিল স্বয়ং সৌরভের। শেষ টেস্টের শেষ দিনে ধোনি চেয়েছিলেন, বাকি সময়টা অধিনায়কত্ব করুন সৌরভই। প্রথমবার সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও, দ্বিতীয়বার তা ফেলতে পারেননি সৌরভ। লিখেছেন, ‘‌যেদিন ওই ঘটনা ঘটে, তার ঠিক ৮ বছর আগেই আমার অধিনায়কত্বে অভিষেক হয়েছিল। বোলিং চেঞ্জ এবং ফিল্ডিং প্লেসমেন্ট করেছিলাম বেশ কিছুক্ষণ। কিন্তু স্বীকার করতেই হবে, ওই সময় ঠিক ফোকাস করতে পারছিলাম না। তাই তিন ওভার পরেই ধোনিকে অধিনায়কত্ব ফিরিয়ে দিয়ে বলি, ওটা তোমারই কাজ, তুমিই করো।’

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top