আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ সময় ছুটতে থাকে। মুখগুলোই শুধু বদলে যায়। 
২০০০ সালে অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন দলে ছিলেন যুবরাজ সিং। আর ২০১৮–র দলে শুভমান গিল। ব্যবধান ১৮ বছরের। কিন্তু অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ ঘিরে অনুভূতির কোলাজ দু’‌জনেরই এক। এবারের প্লেয়ার অফ দ্য টুর্নামেন্ট শুভমান, আঠেরো বছর আগের বিশ্বকাপ সেরা প্লেয়ার যুবরাজের কাছে কৃতজ্ঞ। কিন্তু কেন?‌ রহস্য ভেদ করল শুভমান নিজেই, ‘‌যুবি পাজির কাছ থেকে অনেক পরামর্শ পেয়েছি। বেঙ্গালুরুতে ন্যাশনাল ক্রিকেট আকাদেমিতে থাকার সময়, মাঠে ও মাঠের বাইরে টুকটাক অনেক কিছুই উনি বলেছেন। বুঝিয়েছেন। আমার সঙ্গে তো ব্যাটও করেছেন। ব্যাটিং সম্পর্কে ওঁর দেওয়া টিপস, কাজে লেগেছে।’‌ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ১০২ রানে অপরাজিত ছিল শুভমান। এই ইনিংসটার জন্য শুভমান অবশ্য কৃতিত্ব রাহুল স্যরকে দিয়েছে। বলেছে, ‘‌পাকিস্তান ম্যাচে যথেষ্টই চাপ ছিল। আমাদের ওপেনাররা শুরুটা ভাল করেছিল। মিডল ওভার পর্যন্ত সব ঠিকই ছিল। কিন্তু আচমকা উইকেট পড়তে শুরু করে। ওই মুহূর্তে রাহুল স্যর আমাকে বলেন, মাথা ঠান্ডা রেখে শেষ পর্যন্ত ব্যাট করতে। টিকে থাকতে। আমি সেটাই করেছি। অনুকূলের সঙ্গে জুটিটা খুবই ভাল হয়েছে।’‌ আইপিএলের নিলাম যখন চলছিল, তখন তারা ব্যস্ত ছিল বিশ্বকাপের আসরে। ওই সময় কি নিলাম নিয়ে কোনও উত্তেজনা কাজ করেনি?‌ শুভমানের কথায়, ‘‌নিলামের আগের দিন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আমাদের ম্যাচ ছিল। প্রত্যেকেই ক্লান্ত ছিলাম। তাই তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়েছিলাম। ঘুম থেকে উঠে জানতে পারি, কেকেআর আমাকে নিয়েছে। তবে নিলাম নিয়ে ওই মুহূর্তে ভাবার সময় পাইনি। যাবতীয় ফোকাস ছিল বিশ্বকাপে।’‌ ঠিক কতটা তৈরি ছিল ভারতীয় দল এবার?‌ শুভমানের মতে, ‘‌প্রস্তুতি এতই ভাল ছিল যে, খারাপ পিচেও খেলতে আমরা রাজি হয়ে যেতাম। প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পরই আসলে ভাবনাটা মাথায় এসেছিল।‘‌ কোন ভাবনা?‌ ‘‌আমরা সবাইকে হারাতে পারি।’‌ কিন্তু বিশ্বকাপে খেলার অভিজ্ঞতা কেমন?‌ শুভমানের জবাব, ‘‌রনজি ম্যাচ খেলেছি। কিন্তু রনজিতে যে চাপ নিতে হয়, তার থেকে বিশ্বকাপে খেলার চাপ পুরোপুরি আলাদা। রনজিতে ধৈর্য ধরাটাই আসল। আর বিশ্বকাপে?‌ আপনাকে সময়ের সঙ্গে ছুটতেই হবে। গতি মারাত্মক বেশি। টেলিভিশনে ম্যাচ দেখে যতখানি বোঝা যায়, মাঠে নেমে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলার চাপ তার চেয়ে ঢের বেশি।’‌ 
শুভমানের মুখে যখন যুবরাজ আর রাহুল স্যরের কথা, তখন কমলেশ নাগারকোটি বলছে ভুবনেশ্বর আর সামির কথা। ভারতের সিনিয়র দলের এই দুই বোলারকে নকল করতে চায় নাগারকোটি। বলেছে, ‘‌যখন চাপের পরিস্থিতি তৈরি হয়, মনে মনে ভাবি, ভুবনেশ্বর কুমার আর মহম্মদ সামি আমার জায়গায় থাকলে কী করত। ওরা কীভাবে বল করত, সেটা কল্পনা করে ওইভাবে বল করার চেষ্টা করি। এখনও ওদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ হয়নি। কিন্তু আশা রাখছি, ভবিষ্যতে সে সুযোগ আসবে। ওদের দু’‌জনের সঙ্গেই কথা বলতে চাই।’‌ অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ তো হল। এবার লক্ষ্য কী?‌ নাগারকোটির জবাব, ‘‌বিজয় হাজারে ট্রফি এবং আইপিএলে এখন মন দেব। পরিস্থিতি বুঝে বল করব। সেরাটা দিতে চাই।’‌ 
নাগারকোটির পার্টনার শিবম মানি–রও নজর আইপিএলে। বলেছে, ‘‌আইপিএল আমার সামনে অনেক বড় রাস্তা খুলে দিতে পারে। নিজেকে চেনানোর দুর্দান্ত মঞ্চ। এখানে ভাল কিছু করতে পারলে, ভারত ‘‌এ’‌ দল অথবা সিনিয়রদের ঘরোয়া টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ পেতে পারি। আইপিএলে বল করার সময় গতি নয়, ফোকাস থাকবে লাইন আর লেংথ ঠিক রাখা। কারণ, আইপিএলে ১৬০ কিমি গতিতে বল করলেও, ব্যাটসম্যান আপনার বল মাঠের বাইরে ছুঁড়ে ফেলতে পারে।’‌ বিশ্বকাপ চলাকালীনও তো নাগারকোটি আর মাভি ১৪৫ কিমি গতিতে বল করেছে। এটা কি ভেবে–চিন্তে করা?‌ নাগারকোটির কথায়, ‘‌না, না। আমি নিজেও ভাবিনি এত গতিতে বল করব। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার এত গতিতে বল করলাম। গতির কথা মাথায় রাখতে হয়, তবে বোলিং কোচ পারস মামরে স্যর আমাদের শিখিয়েছেন, ঠিক জায়গায় বল রাখতে। তাই আমি সেটার ওপরই বাড়তি জোর দিয়েছি।’‌ আর মাভি জানিয়েছে, ‘‌আমি যখন ১৪৫ কিমি গতিতে বল করলাম, স্যর বলেছিলেন এই নিয়ে বেশি না ভাবতে। ভেসে না যেতে। উনি সারাক্ষণ লাইন আর লেংথ ঠিক রাখার ওপর জোর দেন। বলেন, গতি থাকলেই চলে না। অনেক সময় গতিতে বল করার পরও বেশি রান দিয়ে বসে বোলার। তাই গতিটা নিয়ন্ত্রণে রাখাই ভাল। স্যরের কথাই মাথায় রাখি।’‌ নাগারকোটির কথায়, মাভিকে পাশে পেয়ে উপকারই হয়েছে। কীভাবে?‌ নাগারকোটি বলেছে, ‘‌আমি সাত–আট বছর বয়স থেকে বল করছি। মাভির সঙ্গে বল করাটা উপভোগ করি। যখন আপনার পার্টনার সফল হয়, তখন অবধারিতভাবেই নিজের বোলিংও খুলে যায়।’‌ বিশ্বকাপের আগে বিশেষ ওপর কী জোর দিয়েছিলে?‌ মাভি বলেছে, ‘‌হ্যাঁ, ইয়র্কারে। স্লগ ওভারে এক, আধটা চার হলেও তার প্রভাব পড়ে। তাই ইয়র্কার দেওয়ার চেষ্টা করেছি। ঠিক জায়গায় বল রেখেছি।’‌ ‌‌

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top