ডাঃ পল্লব বসুমল্লিক: প্রচণ্ড জোরে আঘাতের পর রক্ত বা রক্তরস জমে থাকলে আঘাতস্থলে হাড় সত্যি ভেঙেছে কি না সঙ্গে সঙ্গে বুঝতে খুব অসুবিধে হয়। সোমবার সারাদিন তাই শিখর ধাওয়ানের চোট সম্পর্কে ভারতীয় শিবির রীতিমতো ধন্দে ছিল। প্রাথমিক এক্স–‌রে এবং স্ক্যান নির্ণায়ক‌ হয়নি। মঙ্গলবার স্ট্র‌্যাপিং খোলার পর আঙুলের ফোলা এবং কালশিটে দেখে শিবিরে সবার চক্ষু চড়কগাছ। চোট লাগার ৩৬ ঘণ্টা পর লিডসের হাসপাতালে রিপিট স্ক্যানে হেয়ারলাইন ফ্রাকচারের আশঙ্কা ধরা পড়েছে। চোট বাঁ হাতের বুড়ো আঙুলের ডগায়। জায়গাটা আমরা বলি, ডিস্টাল ফ্যালিংস। খুব অপলকা ছোট্ট হাড়। এতটাই ভঙ্গুর, ভেঙে গুঁড়ো পর্যন্ত হয়ে যায়। কতটা চোট, হাড় ভেঙে টুকরো সরেছে কিনা, পার্শ্ববর্তী জয়েন্টে ক্ষত আদৌ রয়েছে কিনা— এগুলো দেখেই চিকিৎসার লাইন নির্ণয় করা হয়। এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত আরও কিছু জরুরি পরীক্ষা চলছে। তারপর ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে অস্থিশল্যবিদ্যা ও ক্রীড়াবিজ্ঞানে‌ থাম্ব ইনজুরি পুরোপুরি সারানো কঠিন চিকিৎসা বলেই মানা হয়। মনে রাখতে হবে, শিখর গত রবিবার বুড়ো আঙুলে একই জায়গায় দু’‌বার আঘাত পান। নবম ওভারের প্রথম বলে প্যাট কামিন্স, তারপর ৪০ ওভারে কোল্টার–নাইল। দু’‌বারই আচমকা বাউন্সারের লাইন থেকে নিজেকে সরাতে পারেননি। প্রচণ্ড লড়াকু, তাই ‘‌গব্বর’‌ অবসৃত হননি। শেষপর্যন্ত ব্যাট করে গেছেন। ২০১৬ সালে কিন্তু নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ঠিক ওই আঙুলেই চোট পান শিখর। বোলারের নাম?‌ ট্রেন্ট বোল্ট। হেয়ারলাইন ক্র‌্যাক মানে হাড়ে সুতোর মতো চিড়। সম্পূর্ণ না সারাতে পারলে একজন ব্যাটসম্যানের ক্রিকেটজীবন শেষও হতে পারে। বুড়ো আঙুল এতটাই ভাইটাল। কারণ ব্যাটের গ্রিপ ধরার জন্য বুড়ো আঙুলই তো গাইডিং ফোর্স। ট্রিটমেন্ট প্রোটোকল?‌ ফ্র‌্যাকচারের ফলে যদি হাড় সরে না গিয়ে থাকে তবে আমরা যে চিকিৎসা করি তাকে বলা হয়— কনজারভেটিভ বা নন–‌অপারেটিভ পদ্ধতি। শিখরের ক্ষেত্রে সেটাই হয়তো প্রযোজ্য। হাড় না সরলে কখনই অস্ত্রোপচারের কথা ভাবা হয় না। নন–‌অপারেটিভ পদ্ধতিতে সবচেয়ে ভাল পন্থা, বিশেষভাবে তৈরি কাস্ট লাগিয়ে দেওয়া। এই ‘‌স্পাইকা কাস্ট’‌ আসলে ভাঙা অংশে মুভমেন্ট পুরোপুরি সীমাবদ্ধ করবে। আঙুলের নড়াচড়া বন্ধ রাখতে হয় ৩ থেকে ৪ সপ্তাহ। মুশকিল হল, কাস্ট খোলার পর আঙুলের জয়েন্ট পুরো সচল করতে অন্তত আরও ২ সপ্তাহ রিহ্যাব জরুরি। তাতে ব্যথা ও ফোলা কমে। সুতরাং সম্পূর্ণ ফিটনেস ফিরে আসতে প্রায় দেড় মাস। ভারত ফাইনালে যদি ওঠেও, রবিবার ১৪ জুলাই লর্ডসে কোনও ভারতীয় ক্রিকেটার ২৫ নম্বর জার্সি গায়ে সম্ভবত নামবেন না। এবারের বিশ্বকাপে শিখর ধাওয়ান মাঠে নামলে তা হবে পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্য বা অলৌকিক ঘটনা। ফ্র‌্যাকচার সম্পর্কে চিকিৎসকেরা নিশ্চিত হলে ভারতের জন্য এর চেয়ে বড় দুঃসংবাদ আর কিছু হতে পারে না। ভারাক্রান্ত হলেও আপাতত বলতে হচ্ছে, গুডবাই ‘‌গব্বর’‌।‌

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top