নজরুল ইসলাম: বাংলার হয়ে মাঠে নামা একসময় তাঁর কাছে দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠেছিল। ঘটনাচক্রে, তিনিই এখন বাংলার ত্রাতা। শাহবাজ আহমেদের হাত ধরে নকআউটের স্বপ্ন দেখছে বঙ্গশিবির।
দু’‌বছর আগে সিএবি কর্তাদের অন্তঃকলহের শিকার হতে হয়েছিল শাহবাজ আহমেদকে। আদৌ তিনি বাংলার ক্রিকেটার কি না, তা নিয়ে উঠেছিল প্রশ্ন। তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল সিএবি। খেলার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় বেশ কিছুদিন মাঠের বাইরে কাটাতে হয়েছিল। ‘বহিরাগত’ অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ক্লাব ক্রিকেটে ফেরা। সময়টা দুঃস্বপ্নের মতো কেটেছিল। মনে হয়েছিল ক্রিকেট–জীবন শেষ। ফিরে যেতে চেয়েছিলেন হরিয়ানার গ্রামের বাড়িতে। ভেবেছিলেন ইঞ্জিনিয়ারিংকে পেশা হিসেবে বেছে নেবেন। ফিরে যাবেন প্রিয় ক্যালকুলাসে। 
মাঝে মাঝে সেই দুঃস্বপ্নের দিনগুলো চোখের সামনে ভেসে ওঠে। কিন্তু অতীত নিয়ে পড়ে থাকতে রাজি নন তিনি। পাটিয়ালা থেকে ফোনে শাহবাজ বললেন, ‘‌বাংলার হয়ে খেলার স্বপ্ন নিয়ে কলকাতায় এসেছিলাম। স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। খারাপ স্মৃতি মনে করতে চাই না। বাংলার হয়ে বেশি ম্যাচ খেলাই এখন স্বপ্ন। অতীত নিয়ে ভাবতে চাই না।’‌
কল্যাণীতে হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে দুরন্ত হ্যাটট্রিক। বৃহস্পতিবার পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে জীবনের সেরা বোলিং। ৫৭ রানে ৭ উইকেট। তাঁর দুরন্ত বোলিংয়ের সুবাদে সরাসরি জিতে নকআউটের স্বপ্ন দেখছে বাংলা। শাহবাজ বললেন, ‘‌নকআউটের জন্য এই ম্যাচ জিততেই হবে। দলকে নকআউটে তুলতে না পারলে এই বোলিংয়ের কোনও মূল্য থাকবে না। আমার কাজ এখনও শেষ হয়নি। এখনও দ্বিতীয় ইনিংস বাকি। দলকে নকআউটে তুলতে পারলেই আমার পারফরমেন্স স্বীকৃতি পাবে।’‌
শাহবাজ বলছেন, ‘‌উইকেট থেকে সাহায্য পাওয়ায় কাজ সহজ হয়ে গিয়েছিল। তাছাড়া ডেভিড (‌উৎপল)‌ স্যর বলে দিয়েছিলেন, ঠিক জায়গায় বল করলেই উইকেট আসবে। স্যরের নির্দেশ মেনেই সাফল্য পাচ্ছি।’ কোচ অরুণলালের কাছেও কৃতজ্ঞ শাহবাজ। বললেন, ‘‌স্যর সুযোগ না দিলে, পাশে না থাকলে হয়তো এই সাফল্য পেতাম না।’ দ্বিতীয় দিনের শেষে বাংলা এগিয়ে ১৮৬ রানে। জেতার জন্য সেটা যথেষ্ট বলে মনে করছেন শাহবাজ। বলছেন, ‘‌উইকেট থেকে স্পিনাররা সাহায্য পাচ্ছে। উইকেট আরও ভাঙবে। চতুর্থ ইনিংসে এই রানও তাড়া করা কঠিন হয়ে যাবে। তবে আরও ২০ রান হলে ভাল হয়।’‌(ফাইল ছবি)

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top