কিছুতেই তাঁকে ফোনে ধরা যাচ্ছিল না। বারবার ফোনের অপর প্রান্ত থেকে ভেসে আসছিল বিজি টোন। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ঘণ্টা দুয়েক বাদে ফোন ধরলেন। সেইসঙ্গে ফাঁস করলেন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার রহস্য। ইস্টবেঙ্গলের গোলরক্ষক কোচ আবদুল সিদ্দিকি ফোন করে কী বলেছিলেন? এরকমই প্রশ্নমালা সাজিয়ে আই লিগ চ্যাম্পিয়ন কোচ খোগেন সিংকে একান্তে ধরে ফেললেন সৌমিত্র কুমার রায়

আজকের পর থেকে জীবন কতটা বদলে যাবে? আপনি এখন আই লিগ চ্যাম্পিয়ন কোচ। ভারতীয় ফুটবলের কোচিং গ্রহে তারকার আলো পড়ল আপনার গায়ে।
খোগেন (হাসি) ধুর! আপনি যে কী বলছেন না। ওরকম কোনও ব্যাপার নয়। জীবন যেভাবে এগোচ্ছিল, সেইভাবেই এগোবে। আই লিগ চ্যাম্পিয়ন হলাম বলে জীবন বদলে যাবে, আমি ওইভাবে বিষয়টা ভাবছি না। (একটু থেমে) তাছাড়া আমার একার কৃতিত্বে কিছু হয়নি। টিমের সবার ক্রেডিট রয়েছে। 
 এই জয় কাকে উৎসর্গ করতে চান?
খোগেন গোটা টিম এবং আমাদের মালিক রঞ্জিত বাজাজকে। সকলের পরিশ্রম, সাফল্য পাওয়ার খিদে না থাকলে এটা সম্ভব হত না। তাই, এই জয় আমার একার নয়, সবার। এবার যখন আমরা টিম নিয়ে লড়াইয়ের ময়দানে নেমেছিলাম, কেউই আমাদের হিসেবের মধ্যে রাখেনি। ভেবেছিল, এই টিম নিয়ে এরা বেশিদূর যেতে পারবে না।
 সেখান থেকে কী করে সম্ভব হল? এই সাফল্যের রসায়নটাই বা কী?
খোগেন হার্ড ওয়ার্ক, হার্ড ওয়ার্ক অ্যান্ড হার্ড ওয়ার্ক। টিমের সবাই মরশুমের শুরুতে একটা শপথ নিয়েছিলাম। মরশুম শেষে আমাদের কিছু একটা করে দেখাতে হবে। গতবার আইজল যদি  চ্যাম্পিয়ন হতে পারে, তা হলে আমরাও পারব। এই বিশ্বাসে ভর করে এগিয়ে গিয়েছিলাম। আমার টিম মাঠে নামলে দিল দিয়ে ফুটবলটা খেলতে পছন্দ করে। গোটা মরশুম সেটাই করেছে। ফুটবল হল টিম ওয়ার্ক। সিজনের শুরু থেকে এই টিম ওয়ার্কের ওপর আমরা খুব জোর দিয়েছিলাম। আমি নয় আমরা—এটাই ছিল মিনার্ভা টিমের মূল মন্ত্র।
 আপনার কোচিং কেরিয়ারে মিনার্ভা–মঞ্চটাই সেরা ছিল। সেই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে বাজিমাত করলেন।
খোগেন আমি এয়ার ইন্ডিয়া, সালগাঁওকারের খেলেছি। কোচ হওয়ার পর প্রথমে মিনার্ভা আকাডেমির দায়িত্বে ছিলাম। সেখান থেকে সিনিয়র টিমে কোচিং করানোর সুযোগ দেওয়ার জন্য মিস্টার বাজাজকে ধন্যবাদ। মিনার্ভার হয়ে কাজ শুরু করার পর কিছু করে দেখানোর চ্যালেঞ্জটা নিয়েছিলাম। আজ চ্যাম্পিয়ন হতে পেরে খুব খুশি।
 ম্যাচের আগে ফুটবলারদের কী বলেছিলেন?
খোগেন বলেছিলাম, মাঠে নেমে নিজেদের সেরাটা দাও। এখান থেকে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পুরোটাই তোমাদের হাতে। চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলে গত তিন বছরের আমাদের ঘাম–রক্ত ঝরিয়ে সব পরিশ্রম জলে যাবে। ছেলেরা কথা শুনেছে। নিজেদের ১০০ শতাংশ দিয়েছে। 
 শেষ ম্যাচ পর্যন্ত উত্তেজনা। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ব্যাপারে কতটা আশাবাদী ছিলেন?
খোগেন লাজংয়ের বিরুদ্ধে ইস্টবেঙ্গল ড্র করার পরই কনফিডেন্ট পেয়ে গিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম, এখান থেকে লিগ না জেতাটাই মিরাকেল হবে। এত কাছে যখন সুযোগটা চলে আসে, প্লেয়াররা বাড়তি মোটিভেট হয়ে যায়। ফুটবলটা পা দিয়ে যতটা না খেলে, তখন দিল থেকে ফুটবলটা খেলে প্লেয়াররা।
 মিনার্ভাকে লিগ দিলেন। কলকাতার মোহনবাগান–ইস্টবেঙ্গলে কোচিং করানোর ইচ্ছা রয়েছে?
খোগেন এখনও আমি মিনার্ভার কোচ। চুক্তি রয়েছে সুপার কাপ পর্যন্ত। তারপর এই নিয়ে ভাবব। তবে, মোহনবাগান–ইস্টবেঙ্গল বড় ক্লাব। যে কোনও কোচেরই ইচ্ছা থাকে, সেরকম আমারও আছে।
 শেষ প্রশ্ন। (গাড়ির আওয়াজ। ফোন রাখার অনুরোধ করছিলেন) ‘বন্ধু’ আবদুল সিদ্দিকি তো রাগ করবেন। ওঁর কথা রাখলেন না যে।
খোগেন (‌হো হো করে হেসে উঠে) দেখুন, ব্যাপারটা অনেকেই ভুল বুঝেছে। সিদ্দিকি আমার খুব ভাল ফ্রেন্ড। ও বন্ধু হিসেবেই আমাকে ফোন করেছিল। ইয়ার্কি–ঠাট্টা করার ছলে বলেছিল, মিনার্ভা পরের মরশুমে আমাকে কোচ হিসেবে রাখবে না। শুনুন, এখানে কিন্তু আপনার কোনও রকম গড়াপেটার গন্ধ খুঁজবেন না। ফিক্সিংয়ের কোনও প্রশ্নই নেই। বাড়ি ফিরেই ওকে ফোন করে কথা বলব।‌‌

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top