অগ্নি পান্ডে: ভোর ৫টায় তিনি হাজির রেড রোডে। রবিবারের ম্যারাথনের মুখ। পতাকা নেড়ে ম্যারাথনের সূচনা করলেন। ওই ভোরেই তিনি প্রাণবন্ত। মাথার চুল যেন আরও ঝাঁকরা হয়েছে। মুখে সেই চিরপরিচিত হাসি। খানিকটা বাংলা বলার চেষ্টা। তিনি শচীন তেন্ডুলকর। রবিবার হলেও তাঁর ব্যস্ততা ছিল তুঙ্গে। রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং বিধায়ক সুজিত বসুর সঙ্গে ম্যারাথনপর্ব শেষ করে ছুটলেন কলকাতা পুলিসের আলিপুর বডিগার্ড লাইনে। বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার প্রধান অতিথি। সেখান থেকে পার্পল মুভি টাউনে ‘দাদাগিরি’ শুটিংয়ে। হ্যাঁ, সৌরভের দাদাগিরির মেগা ফাইনালের শুটিংয়েও তিনি প্রধান মুখ।
কলকাতায় সারাদিন কাটানোর ফাঁকে ফাঁকে নানা কথা শোনা গেল শচীনের মুখে। তারই নির্যাস তুলে দেওয়া হল। 
অনূর্ধ্ব ১৯ দলের কোচ রাহুল দ্রাবিড় সম্পর্কে
রাহুল যা করেছে, অতুলনীয়। সবচেয়ে বড় কথা রাহুলই পারে বাচ্চাদের সঙ্গে এভাবে কাজ করতে। রাহুল নিজেও খুব খুশি। ওর জন্য গর্ব হচ্ছে। আমি বাকি সাপোর্ট স্টাফ পরশ মামরে, অভয়ের কথাও বলতে চাই। ওরাও দারুণ সহযোগিতা করেছে। রাহুলের কোচিংয়েই এটা সম্ভব।
ভারতের অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ জয় প্রসঙ্গে
আমাদের ছেলেরা একটা দল হয়ে উঠেছিল। অসম্ভব পরিশ্রম করেছে। সবার আগে ধন্যবাদ জানাতে চাই ভারতীয় বোর্ডকে। একটা সিস্টেমের মধ্যে দিয়ে ক্রিকেটের উন্নয়ন করে চলেছে ১৫ বছর ধরে। এখন খেলার স্টাইল বদলেছে। সেইমতো ছেলেদের তৈরি করছে। ফিল্ডিংয়ের এত উন্নত মান ভাবা যায় না! আমি নিশ্চিত এরা ভবিষ্যতে আরও বড় প্রতিযোগিতা জিতবে। 
কলকাতা ম্যারাথন প্রসঙ্গে
আইডিবিআই ম্যারাথন কলকাতায় প্রতি বছর আরও ব্যাপকভাবে যে সাড়া দিচ্ছে তা টের পেলাম। এত মানুষ এসেছেন দৌড়তে, আমি অভিভূত। গোটা দেশ জুড়ে এখন স্বাস্থ্য–সচেতনতা তৈরি হয়েছে। আমাকে মুগ্ধ করেছে কলকাতারই এনজিও ‘একতারা’র খুদে মেয়েরা। বাচ্চাগুলো এত সকালে দৌড়তে এসেছে! আমার হাতে যে ব্যান্ডটা দেখছেন সেটা এদের তৈরি। দৌড়নোর জন্য বাচ্চাগুলোকে সামনে দেখে পেছনের বড়দের বলেছি, ‘ক্যাচ দেম ইফ ইউ ক্যান’। কারণ, ওরাই আমাদের শক্তি।  
পুলিসের বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠানে
আপনারা যেভাবে মাঠের মধ্যে সার বেঁধে দাঁড়িয়ে আছেন সেটা দেখে মনে পড়ছে বিশ্বকাপের সময় আমরা বিভিন্ন দল একসঙ্গে এভাবে দাঁড়াতাম। দারুণ লাগছে আপনাদের দেখে। ২৪ বছর খেলার সঙ্গে জড়িয়ে ছিলাম। আমার কাছে খেলাধুলো সবসময়ই আবেগের জায়গা। মনে করি, একটা দেশে খেলাধুলো ভাল হলে সেই দেশ ভেতর থেকে অনেক বেশি মজবুত হয়। খেলাধুলোর চর্চা ছাড়বেন না। আপনাদের এখানে এত মহিলা প্রতিযোগী দেখে ভাল লাগছে। মহিলারাই আমাদের দেশের মেরুদণ্ড। তারা যেভাবে পরিবার সামলে বাইরে নিজের দায়িত্ব পালন করে থাকেন সেটা আমরা পারি না! আপনাদের দেখে আমার ছোটবেলার কথা মনে পড়ে গেল। মায়ের কথা। সারাদিন খেলে বাড়ি ফিরে দেখতাম মা আমার জন্য অপেক্ষা করছে। খাবার বানিয়ে রেখেছে। আমিও বাড়ি ফিরে চাইতাম মা আমার কাছাকাছি থাকুক। আমি মহিলা–ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী। কলকাতা পুলিসের সান্নিধ্যে এলে নিজেকে নিরাপদ মনে করি। বহু বছর কলকাতায় খেলে গেছি। কলকাতা পুলিস যেভাবে আমাদের রক্ষা করে তা অসাধারণ। ভরসা করা যায়। সবচেয়ে বড় কথা ওঁদের ব্যবহারে আমি মুগ্ধ। আপনারা হলেন গাড়ির ড্রাইভারের মতো। সাধারণত ড্রাইভাররা সবসময়ই মনে করে থাকেন তারা নিরাপদেই গাড়ি চালান। কিন্তু আসল কথা হল পেছনে যারা বসে আছে তারা যতক্ষণ না নিরাপদ অনুভব করেন ততক্ষণ সেটা নিরাপদ ড্রাইভ নয়। আমার মতে, আপনারা নিরাপদ ড্রাইভারের মতোই। (পাশে বসা নগরপাল এই মন্তব্য শুনে হাততালি না দিয়ে থাকতে পারেননি।) ক্রিকেট খেলতাম। ক্রিকেটীয় একটা কথা আছে, অলরাউন্ডার। পুলিস হল আসল অলরাউন্ডার। নিজেদের দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি আরও কত কিছুর সঙ্গে নিজেদের জড়িত রাখেন। ক্রিকেটাররা নন, আপনারাই প্রকৃত অলরাউন্ডার। 
কলকাতা পুলিসের ক্রীড়া অনুষ্ঠান থেকে শচীনের বিএমডব্লু রওনা দেয় ‘দাদাগিরি’র সেটে। যা দেখার জন্য অপেক্ষায় গোটা বাংলা। কারণ, ফাইনালপর্ব কিছু দিনের মধ্যেই সম্প্রচারিত হবে।‌

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top