আজকালের প্রতিবেদন: অস্ট্রেলিয়া সিরিজ শেষ হতে না হতেই আগামী শুক্রবার থেকে ভারতীয় দলের নিউজিল্যান্ড সফর শুরু হয়ে যাচ্ছে। ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকার মতোই অন্যতম কঠিন সফর এটা, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। শচীন তেন্ডুলকারও সেটাই মনে করছেন। বিশেষ করে ফর্মে থাকা রোহিত শর্মাকে নিয়ে তিনি সতর্ক। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ওপেন করার কাজটা রোহিত শর্মার কাছে বড় চ্যালেঞ্জ, মনে করছেন শচীন। অন্যদিকে, সুনীল গাভাসকার মতামত দিয়েছেন ভারতীয় দলের উইকেট কিপিং নিয়ে। তাঁর মতে, সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ঋষভ পন্থের কিপিং করা উচিত।
সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শচীন বলেন, ‘‌ভিন্ন পরিবেশে ওপেন করাটাই রোহিতের কাছে আসল চ্যালেঞ্জ। তবে রোহিত এর আগে নিউজিল্যান্ডে একদিনের ম্যাচে বেশ কয়েকবার ওপেন করেছে। ওখানকার পরিবেশ কীরকম হতে পারে, সেটা রোহিত খুব ভাল করে জানে। কিন্তু পুরোটাই নির্ভর করছে ওরা কীরকম উইকেট তৈরি করছে, তার ওপর। যদি সবুজ উইকেট হয়, তাহলে সেটা বড় চ্যালেঞ্জ।’‌ যেহেতু নিউজিল্যান্ডের মাটিতে রোহিতের একদিনের ম্যাচে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাই শচীন আশাবাদী টেস্ট সিরিজেও তিনি সফল হবেন।
১৯৯০ থেকে শুরু করে মোট পাঁচবার নিউজিল্যান্ড সফরে গেছেন শচীন। প্রথম দিকে ভারত সেখানকার সবুজ উইকেটে খেলেছে। এরপর ২০০৯ সালে ভারত সেই দেশে সিরিজ জিতেছে। সেটা ছিল নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ৩২ বছরে ভারতের মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট সিরিজ জয়। শচীন সব কিছুর সাক্ষী। সেই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেন, ‘‌পরের দিকে দেখেছি নিউজিল্যান্ডে টেস্ট ম্যাচগুলোয় অনেক রান হয়েছে। উইকেট বদলে গেছে। ২০০৯ সালে যখন খেলতে গেছিলাম, তখন দেখেছিলাম হ্যামিল্টনের উইকেট অন্যগুলোর থেকে বেশ আলাদা। ওয়েলিংটন, নেপিয়ারের উইকেট আগের থেকে অনেক শক্ত দেখেছিলাম। (‌এই সিরিজে নেপিয়ারে গৌতম গম্ভীর ১২ ঘণ্টা উইকেটে থেকে ম্যাচ বাঁচানো শতরান করেছিলেন)‌‌ কিন্তু হ্যামিল্টনের উইকেট আগের মতো নরমই ছিল। সব মিলিয়ে এটুকু বলতে পারি, আমার প্রথম নিউজিল্যান্ড সফরের তুলনায় শেষ সফরে উইকেট অনেক বেশি শক্ত দেখেছিলাম।’‌
শচীন ভরসা রাখছেন ভারতের বোলিং আক্রমণের ওপর। যশপ্রীত বুমরাদের নিয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসী। বলেন, ‘‌আমাদের বোলিং খুব ভাল। যেমন দুর্দান্ত ফাস্ট বোলার আছে, তেমনি ভাল স্পিনারও আছে। নিউজিল্যান্ডের উইকেটে পাল্লা দেওয়ার মতো বোলিং আক্রমণ আমাদের আছে।’‌ 
ওয়েলিংটনে প্রথম টেস্ট। ওয়েলিংটনের বিশেষত্ব হল, সেখানে সারাক্ষণ প্রবল হাওয়া চলে। সেই প্রবল হাওয়ার কথা মাথায় রেখে শচীন বলেন, ‘‌ওয়েলিংটনে বেশ কয়েকটা ম্যাচ খেলেছি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, ওখানে কিন্তু হাওয়াটা একটা ব্যাপার। ওখানে হাওয়ার সঙ্গে বল করা আর হাওয়ার উল্টো দিকে বল করার মধ্যে বিস্তর ফারাক। এই জায়গায় ব্যাটসম্যানকে সতর্ক থাকতে হবে। তাকে মাথায় রাখতে হবে, সে কোন দিকের উইকেটে ব্যাট করছে। বুদ্ধি করে ব্যাট করতে হবে।’‌
শচীন চাইছেন ওয়েলিংটনে হাওয়ার উল্টো দিকে স্পিনাররাই বল করুক। তাঁর যুক্তি, ‘‌জোরালো হাওয়ার উল্টো দিক থেকে যদি সিমাররা বল করে, তাহলে তাকে স্মার্ট বোলিং করতে হবে। সেই কাজটা তুলনায় কঠিন। তাই আমি চাইব সেই দিক থেকে বরং স্পিনাররা বল করুক। উল্টো দিক থেকে হাওয়ার সঙ্গে ফাস্ট বোলাররা বল করুক।’‌ 
ভারতের আরেক প্রাক্তন অধিনায়ক সুনীল গাভাসকার বলেন, ‘‌সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ঋষভ পন্থেরই উইকেট কিপিং করা উচিত। ছ’‌নম্বরে যদি ভারতের একজন ফিনিশার দরকার হয়, তাহলে সেই কাজটা ঋষভ পন্থ করতে পারবে।’‌ ঋষভকে বাছার পেছনে গাভাসকারের আরও যুক্তি, ‘‌ঋষভ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। এই মুহূর্তে ভারতীয় ব্যাটিং লাইন‌আপে একমাত্র বাঁহাতি ব্যাটসম্যান শিখর ধাওয়ান। তাই যদি আরেকজন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান থাকে, তাহলে দলেরই সুবিধা হবে। তাই আমার পছন্দ পন্থ।’‌‌‌‌‌‌

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top