আজকালের প্রতিবেদন: স্যরের কাছে বকা খায়নি, এমন ছাত্র বা ছাত্রী খুব কম আছে। তিনিও খেয়েছেন। অনেকবার। কিন্তু সেই বকার মধ্যে মিশে থাকা ভালবাসাও খুঁজে পেয়েছেন। তাই তো স্যর রমাকান্ত আচরেকারের প্রতি আরও একবার ধরা পড়ল শ্রদ্ধা, শচীন তেন্ডুলকারের গলায়। মাস্টার ব্লাস্টার বলেছেন, ‘‌কোচেরা আমাদের অভিভাবকের মতো। কারণ, দিনের দীর্ঘ সময় আমরা কোচেদের সঙ্গে কাটাই, অনেক কিছু শিখি। আচরেকার স্যর, খুবই কড়া ধাতের মানুষ। তবে তিনি যেমন ভালবাসেন, তেমনই আগলে রাখতেও জানেন। স্যর কখনও বলেননি, ‘‌ভাল খেলছো।’‌ কিন্তু জানেন, আমি বুঝতে পারতাম। যেদিন উনি আমাকে ভেল‌পুরি বা পানি‌পুরি খাওয়াতে নিয়ে যেতেন, বুঝতাম স্যর খুশি হয়েছেন। মাঠে আমি সত্যি সত্যিই ভাল কিছু করেছি।’‌ শিবাজি পার্কে আচরেকার স্যরের কাছে তালিম নিতেন। পুরনো দিনের গল্প বলতে গিয়ে শচীন জানান, ‘ছোট্টবেলায় খুব দুষ্টু ছিলাম। আমাকে সামলে রাখাই ছিল কঠিন। কিন্তু আমার পরিবারে অদ্ভুত এক ভারসাম্য ছিল!‌ বাবা ছিলেন অত্যন্ত শান্ত প্রকৃতির মানুষ। মাও তাই। ওঁরা দু’‌জনেই আমাকে স্বাধীনতা দিয়েছেন। ভালবেসেছেন। আহ্লাদ দিয়েছেন। কিন্তু কখনও সেটা লাগামছাড়া ছিল না। যখন, যখন কড়া হওয়ার দরকার পড়ত, ওঁরা তাই হতেন। শাসন করতেন।’‌ 
শিশু স্বাস্থ্য নিয়ে বাবা–মায়েদের সচেতন করতে একটি বই প্রকাশিত হয়েছে। সেই বই প্রকাশের অনুষ্ঠানে গিয়েই শচীন ছোটবেলার একটা গল্প শুনিয়েছেন, ‘‌তখন আমার তেরো বছর বয়স। জানা যায়, ইন্দোরে গিয়ে ন্যাশনাল ক্যাম্পে এক মাস থাকতে হবে। তখন তো মোবাইল ফোন ছিল না। তাই মা ভীষণ দুশ্চিন্তায় পড়েন। কিন্তু বাবা–ই বোঝালেন মাকে। বললেন, ‘‌চিন্তা করছো কেন?‌ আমাদের ছেলে খুব বুদ্ধিমান। পরিণতও। ওকে নিয়ে অত ভেবো না’‌।‌ বাবার মুখে এই কথাগুলো শুনে, অদ্ভুত এক তৃপ্তি হল। কেন জানেন?‌ আসলে বাবার কথাগুলো অবচেতন মনে কাজ করতে লাগল। বুঝলাম, স্বাধীনতার সঙ্গে দায়িত্বও আসে। সেই দায়িত্বটা নিজেকেই পালন করতে হয়। ঠিক করলাম, কিছুতেই স্বাধীনতার অপব্যবহার করব না। কোনওদিন না।’‌ 
সারা আর অর্জুন, তাঁর দুই সন্তানের বড় হয়ে ওঠার পেছনে সম্পূর্ণ ভূমিকা যে স্ত্রী অঞ্জলির, সে কথাও জানাতে ভোলেননি মাস্টার ব্লাস্টার। বলেছেন, ‘‌হ্যাঁ, এ ব্যাপারে আমি ন্যূনতম কৃতিত্বের ভাগ নিতে চাই না। কারণ, আমরা দু’‌জনেই নিজের নিজের কেরিয়ারে সফল ছিলাম। কিন্তু সেই সময় একজন স্বেচ্ছায়, নিজের কেরিয়ারে ইতি টেনেছে!‌ কাজটা মোটেই সহজ ছিল না।’‌  ‌‌

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top