সুরজিৎ সেনগুপ্ত: দীর্ঘদীন রিয়েলে খেলার সুবাদে রিয়েল মাদ্রিদ নামটা শুনলেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর নাম মনে পড়ে। আবার উল্টোটাও। রোনাল্ডো শুনলে রিয়েলের কথাও মাথায় আসে। আজ কিন্তু ছবিটা অন্যরকম। সি আর সেভেন মানেই ইতালি। রোনাল্ডো মানেই জুভেন্টাস। আস্তে আস্তে এই ধারণাটাই মনের মধ্যে গেঁথে দিচ্ছে স্বয়ং রোনাল্ডো। 
কোনও খেলোয়াড় যখন নতুন টিমে যায়, সেই টিেম গিয়ে মানিয়ে নিতে একটু সময় লাগে। কিন্তু বড় ফুটবলারদের যে নতুন পরিবেশে সেট হতে বেশি সময় লাগে না, সেটাই প্রমাণ করল রোনাল্ডো। ইতালির টিমে যোগ দিয়ে ৮ নম্বর গোলটাও করে ফেলল। গোল করে দলকে প্রায় জিতিয়েও দিয়েিছল, শেষরক্ষা হয়নি। 
পুরনো দল ম্যান ইউয়ের বিরুদ্ধে নামছে রোনাল্ডো, প্রত্যাশার পারদ স্বাভাবিকভাবেই চড়েছিল। ম্যান ইউ ম্যানেজার মোরিনহো জানতেন, রোনাল্ডো কী করতে পারে। হ্যাঁ, ম্যাচের ৬৫ মিনিটে নিজের কাজটা করে রোনাল্ডো। গোল করে দলকে এগিয়ে দেয় (‌১–০)‌। অসাধারণ গোল বললেও যেন কম বলা হয়। এরকম গোল বোধহয় শুধুমাত্র রোনাল্ডোই পারে। জুভেন্টাস ফুটবলাররা নিজেদের মধ্যে পঁাচটা পাস খেলে নিয়ে বল তুলে দেয় রোনাল্ডোকে উদ্দেশ্য করে। ভাবখানা এমন যেন, সামনে তো রোনাল্ডো আছে, ও যা বোঝার বুঝে নেবে। হলও তাই। রোনাল্ডোর গতির কথা মাথায় রেখেই বলটা ফেলা হয়। বলটাও জুভেন্টাস মহাতারকাও সুন্দরভাবে নজরে রেখে সঠিক জায়গায় চলে যায়। পিছন থেকে উড়ে আসা চলতি বলেই অনবদ্য ভলিতে গোল রোনাল্ডোর। গোলটা হওয়ার পর মনে হয়েছিল, জুভেন্টাস বোধহয় ব্যবধান বাড়াবে।
জুভেন্টাসের সবকিছুই মসৃণভাবে চলছিল। শুধু গোলটাই আসছিল না। গোটা প্রথমার্ধ আধিপত্য নিয়ে খেলেছে আলেগ্রির ছেলেরা। প্রথমার্ধ শুধু বললে ভুল বলা হবে, ম্যাচের ৮০ মিনিট খেলল জুভেন্টাস, ম্যাচ বার করে নিয়ে গেল ম্যান ইউ। ম্যাচটা দেখতে দেখতে একটা কথা মাথায় ঘুরছিল। তা হল, খেলাধুলোর জগতে ক্রিকেটকে বলা হয় চরম অনিশ্চয়তার খেলা। কিন্তু, যত দিন যাচ্ছে, ফুটবলও সেরকমই হয়ে যাচ্ছে। গোটা ম্যাচ ভাল খেলেও শেষ মুহূর্তে ম্যাচ যে হাতের নাগাল থেকে বেরিয়ে যাবে, তা আগাম আন্দাজ করা মুশকিল। 
বুধবার রাতের ম্যাচে ম্যান ইউ ম্যানেজার মোরিনহোর দুটো বদল ম্যাচের পাশা উল্টে দেয়। ৭৯ মিনিটে স্যাঞ্চেসের পরিবর্তে মাঠে আসে ফেলাইনি, হেরেরার বদলি হিসেবে নামে জুয়ান মাতা। এই পরিবর্তনের মিনিট নয় আগে লিংগার্ডের বদলে র‌্যাশফোর্ডের বদলটাও বেশ কার্যকরী হয়। মোরিনহোর এই বদলের পর হঠাৎই ছন্দে ফেরে তঁার দল। ম্যাচের শেষ দশ মিনিট রং ছড়ায় ম্যান ইউ। শেষ চার মিনিটে দু–দুটো গোল। শেষ হাসি হাসে ম্যান ইউ। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে গিয়ে জুভেন্টাস হারিয়ে এসেছিল। সেটার মধুর প্রতিশোধও নেওয়া হয়ে গেল। তবে, ম্যাচটা যে ম্যান ইউ জিতে নেবে, ভাবিনি। ধারেভারে অনেকটাই এগিয়ে ছিল রোনাল্ডোর দল। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আগে নিজেদের গ্রুপে সব কটি ম্যাচ জিতেছিল জুভেন্টাস। েশষ দশ মিনিটে দুটো ফ্রি–কিক, তাতেই সবশেষ। পোগবাকে ফাউল করার জন্য ফ্রি–কিক পায় ম্যান ইউ। শট মারার জন্য ইয়ং ও মাতা দু’জনেই দাঁড়িয়েছিল। ইয়ং ফলস করে চলে যায়, মাতা কার্ভ করিয়ে বলটা জালে জড়াল। এটা কোনও দুর্লভ সেটপিস মুভ নয়, সচরাচর দেখাই যায়। সমতা ফিরল। এর আগে পর্যন্ত ম্যান ইউয়ের কোনও পজিটিভ আক্রমণ দেখতে পাইনি। বল পজিশনেও এগিয়ে ছিল জুভেন্টাস। রোনাল্ডোর সঙ্গে ডিবালা, কুয়াদ্রাদো মিলে জুভেন্টাসের আক্রমণকে ধারালো রেখেছিল। ডিবালার তো একটা শট ক্রসবারে প্রতিহত হয়। শটটা অসাধারণ। ডিবালার শটটা দেখে মেসিকে মনে পড়ে। কার্ভ করে গোলে ঢুকছে, ডিবালার শটটা মেসিকে মনে করাচ্ছিল। ম্যাচ যখন সকলেই ধরে নিয়েছে, পয়েন্ট ভাগাভাগি হয়ে যাবে তখনই জয়সূচক গোল জুভেন্টাসের। ফ্রি–কিক পায় ম্যান ইউ। ডানদিকে খেলা ইয়ং ফ্রি–কিক নিতে যায়। বোঝাই গেল কোচ ফ্রি–কিক নিতে ইয়ংকেই দায়িত্ব দিয়েছিল। বাঁক খাওয়ানো ফ্রি–কিক। ফেলিনির মাথায় লেগে গোলে ঢুকছিল, সেই সময়েই স্যান্ড্রোর আত্মঘাতী গোল। শেষ মুহর্তে ম্যাচ জিতে নিয়ে গেল ম্যান ইউ। তবে, একথা ঠিক, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে এরকম উত্তেজনা না থাকলে ফুটবলভক্তরা উপভোগ করবেনই বা কী!‌‌‌

অনবদ্য গোলের পর রোনাল্ডোর হাসি অবশ্য ম্যাচের পর থাকল না। ছবি:‌ এএফপি

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top