উৎপল চ্যাটার্জি: ওভালে টস যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে আগের দিনের লেখাতেই বলেছিলাম। রবিবার টসের সময় বিরাট এবং অ্যারন ফিঞ্চ দু’‌জনকেই বলতে শুনলাম, টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে নিতে চাইছে। আসলে ওভালের শুকনো উইকেটে শুরুতে স্কোরবোর্ডে বড় রান তুলে দিতে পারলে বিপক্ষকে মানসিকভাবে পিছনে ঠেলে দেওয়া যাবে। বুঝতে অসুবিধে হয় না সেটাই করতে চেয়েছিল দুই অধিনায়ক।
বিরাটের এই স্ট্র‌্যাটেজির সফল বাস্তবায়নে বড় ভূমিকা নিল রোহিত–শিখরের ১২৭ রানের ওপেনিং পার্টনারশিপ। ওটাই জানান দিয়েছিল ওভালে বড় রানের খেলা হবে। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দেশের বাইরে শিখর অধিকাংশ সময়েই বড় রান করে। রবিবারও ১০৯ বলে ১১৭ রান করল। তবে ১৬টা বাউন্ডারি থাকলেও ওর ১১৭ রানের ইনিংসে কোনও ওভার বাউন্ডারি নেই। এটা থেকেই স্পষ্ট ঝুঁকিহীন ক্রিকেটের মানসিকতা নিয়েই শিখর এদিন মাঠে নেমেছিল। অবশ্য শুরুতে রোহিতের মতো শিখরও থিতু হতে একটু সময় নিয়েছিল। সেসময় রান না এলেও স্টার্ক, কামিন্স, কোল্টার–নাইলদের ভয়ঙ্কর দেখায়নি বা রোহিতরা চাপে রয়েছে এমনটা কখনই মনে হয়নি। ওপেনাররা দলকে মজবুত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়ে দিলে মিডল অর্ডার অনেক চাপমুক্ত হয়ে খেলতে পারে। এদিন সেটাই হল। রোহিত–ধাওয়ানের পার্টনারশিপ ইঙ্গিত দিয়েছিল ওভালে বড় রান উঠবে। রোহিত আউট হওয়ার পর শিখরের সঙ্গে বিরাটও ৯৩ রান জুড়ে দিল। প্রথম দুটো পার্টনারশিপ বড় রানের হওয়ায় পরের দিকে হার্দিক, ধোনিরা হাত খুলে খেলতে পেরেছে। ফলে, একটা সময় মনে হচ্ছিল ভারতের রান হয়তো ৩০০–৩২০ রানের মধ্যে থাকবে। কিন্তু হার্দিক, ধোনির দুশোর কাছাকাছি স্ট্রাইক রেটের ওই ব্যাটিংটাই ভারতের স্কোর সাড়ে তিনশো পার করে দিল। 
ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা পুরো ৫০ ওভার নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখে ব্যাট করে গেল। বিপক্ষ বোলারদের কখনও চেপে বসতে দেয়নি। ব্যাটিংয়ের সময় কখনই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতছাড়া হতে দেয়নি। শেষ ১০ ওভারে হার্দিক, ধোনি এমনকী শেষ ওভারে নামা লোকেশ রাহুল যে রানটা তুলল, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াল। খেয়াল করলে দেখা যাবে, শেষ ওভারে স্টয়নিস দুটো উইকেট পেলেও ১৪ রান দিয়ে ফেলেছে। ফলে বলতেই হচ্ছে, ব্যাটসম্যানরা প্রত্যেকে নিজের দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছে।‌

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top