আজকালের প্রতিবেদন: দুর্দান্ত শুরু করে একদিনের সিরিজ জিতেছিল ভারত। কিন্তু টোয়েন্টি ২০ সিরিজে শেষরক্ষা হল না। দারুণ লড়াই করেও নিউজিল্যান্ডের কাছে শেষ পর্যন্ত টোয়েন্টি ২০ সিরিজ হারতে হল ভারতকে। দীর্ঘদিন পর কোনও সিরিজে হার। যা ভারতীয় দলের কাছে যথেষ্ট হতাশাজনক। দুদার্ন্ত লড়াই করেও সিরিজের শেষ টোয়েন্টি ২০ ম্যাচে জয় না আসায় হতাশ ভারতীয় দলের অস্থায়ী অধিনায়ক রোহিত শর্মাও। ম্যাচের পর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ‌লড়াই করেও জয় না–‌আসাটা যথেষ্ট হতাশাজনক। ২১০–এর আশপাশে রান তাড়া করাটা সবসময়ই কঠিন। ম্যাচের শেষ পর্যন্তও আমরা লড়াইয়ে ছিলাম। কিন্তু নিউজিল্যান্ড শেষ পর্যন্ত স্নায়ুচাপ ধরে রেখে ম্যাচ বার করে নিয়েছে। যোগ্য দল হিসেবেই ওরা জিতেছে।’‌ তিনি আরও বলেন, ‘‌একদিনের সিরিজে আমরা দারুণভাবেই শুরু করেছিলাম। টোয়েন্টি ২০ সিরিজ জিততে না পারায় সতীর্থরা হতাশ।’‌ টোয়েন্টি ২০ সিরিজে জয় না এলেও বেশ কিছু ইতিবাচক দিক খুঁজে পেয়েছেন ভারতীয় দলের অস্থায়ী অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা এই সিরিজ থেকে অনেক কিছু পেয়েছি। ভুল যেমন করেছি, তেমনি বেশ কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। তবে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে খেলতে নামার আগে ‌এই সিরিজ জিততে পারলে ভাল হত। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেটা হয়নি।’‌ নেতৃত্বের আর্মব্যান্ড হাতে না থাকলেও মহেন্দ্র সিং ধোনি ভারতীয় দলের অঘোষিত নেতা। অনেকের মুখে বারবার ধোনির কথা শোনা গেছে। বিজয় শঙ্করের মুখেও ধোনির প্রশংসা শোনা গেছে। নিউজিল্যান্ডের কাছে টোয়েন্টি২০ সিরিজ হারের পর সাংবাদিক সম্মেলনে এসে ভারতীয় দলের এই তরুণ অলরাউন্ডার বলেন, ‘‌অনেকের মতো আমিও অন্যদের দেখে শেখার চেষ্টা করি। ধোনি দলের জন্য অনেক কিছু করেছে। ওর কাছ থেকেও অনেক কিছু শিখেছি। ওকে অনুসরণ করার চেষ্টা করি।’‌ ২৮ বলে তাঁর ৪৩ রানের ইনিংস কাজে আসেনি। কিছুটা হলেও হতাশ বিজয় শঙ্কর। তবে সিরিজ থেকে অনেক কিছু শিখেছেন বলে দাবি করেন তিনি। বলেন, ‘‌প্রতিটা সফর, প্রতিটা ম্যাচ আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। এই ম্যাচে আমি কিছুটা ভাল খেলেছি, আরও ভাল খেলার ক্ষমতা রয়েছে। প্রতিনিয়ত আরও উন্নতি করার দিকে তাকিয়ে রয়েছি। এই সিরিজটা আমার কাছে দারুণ শিক্ষণীয়।’‌ 
একদিনের সিরিজে ব্যর্থতার পর টোয়েন্টি ২০ সিরিজ জেতায় খুশি নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। ভারতের বিরুদ্ধে সিরিজকে তিনি টোয়েন্টি ২০ ক্রিকেটের ভাল বিজ্ঞাপন বলে অভিহিত করেছেন। ম্যাচের পর তিনি বলেন, ‘‌প্রথম ম্যাচে আমরা সেরা পারফরমেন্স করেছিলাম। দ্বিতীয় ম্যাচ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। জানতাম ভারত দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াবে। শেষ কয়েকটা বল সিরিজ নির্ধারণ করে দিয়েছে। একটা দুর্দান্ত সিরিজের অংশীদার হতে পেরে ভাল লাগছে।’‌ ৪০ বলে ৭২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ম্যাচের সেরা হয়েছেন কলিন মুনরো। নিজের ব্যাটিংয়ের থেকেও বেশি কৃতিত্ব দিচ্ছেন দলের বোলারদের। তিনি বলেন, ‘‌ভারতীয় দলের সেরা ব্যাটসম্যানদের বিরুদ্ধে বোলাররা শেষদিকে দুর্দান্ত বোলিং করেছে। আলাদা কিছু করার কথা ভাবেনি। একসময় ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা আমাদের বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করেছিল। শেষদিকে বোলাররাও পাল্টা চাপ তৈরি করেছিল।’‌ সিরিজের সেরা হয়ে খুশি টিম সেইফার্ট। কলিন মুনরোর সঙ্গে ব্যাটিং দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ‌

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top