আজকালের প্রতিবেদন: টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই কার্যত মুখ থুবড়ে পড়া। শিখর ধাওয়ানের পাল্টা দিয়ে একাই ম্যাচ বের করে নিয়ে গেলেন কুশল পেরেরা। যদিও মঙ্গলবার কলম্বোয় শ্রীলঙ্কার কাছে হার প্রসঙ্গে সেই শিখর ধাওয়ানের মত, ‘‌পাওয়ার প্লে–র প্রথম ছয় ওভারেই ওরা আমাদের থেকে ম্যাচটা ছিনিয়ে নিয়েছিল। তারপর মাঝের ওভারগুলোয় কিন্তু স্পিনারদের বিরুদ্ধে সেরকম ধারাবাহিকভাবে বড় বড় শট মারেনি। কারণ উইকেট একটু স্লো ছিল।’‌ তবে কুশল পেরেরার প্রশংসা শোনা গেছে ধাওয়ানের মুখে। এই ওপেনারের কথায়, ‘‌কুশল যেভাবে ওই এক ওভারে ২৭ রান তুলল, তাতে ভর করেই ছয় ওভারের শেষে শ্রীলঙ্কা ৭৫ করে ফেলে। ওটাই দুটো দলের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দিল।’‌ শুধু তাই নয়, ভারতীয় ব্যাটিংয়ের সময় শুরুতে রোহিত ও রায়নার উইকেট হারিয়ে ফেলাটাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গিয়েছিল বলে মত ধাওয়ানের। তাঁর কথায়, ‘‌আমাদের আরও একটু আক্রমণাত্মক মনোভাব দেখানো উচিত ছিল। শুরুতে দু’‌ওভারের মধ্যেই ওরা দুটো উইকেট তুলে নিয়ে আমাদের চাপে ফেলে দিয়েছিল। সেই ক্ষতি সামলাতে আমরা একটু বেশি সময় নিয়ে ফেলেছিলাম। উইকেট বাঁচাতে গিয়ে রান তোলার গতি কমে গিয়েছিল। আমার মতে, প্রথম ছয় ওভারে ১০ রান কম তুলেছিলাম। তবে সার্বিকভাবে দেখলে ১৭৪ রান লড়াই করার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু দুর্দান্ত ইনিংস খেলে কুশল ম্যাচটা ছিনিয়ে নিয়ে চলে গেল।’‌
ভারতীয় ইনিংসের সর্বোচ্চ রান তাঁর ব্যাট থেকেই। কিন্তু সেঞ্চুরি হাতছাড়া হওয়ার আক্ষেপ গোপন করেননি ধাওয়ান। বলেন, ‘‌ধারাবাহিকভাবে রান করছি, সেটা দারুণ ব্যাপার। যে গতিতে রান তুলেছি, তাতেও সন্তুষ্ট। তবে এত কাছে এসে সেঞ্চুরি হাতছাড়া হওয়ার আক্ষেপটা থাকছেই।’‌ পরের ম্যাচে প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ। বিপক্ষকে হালকায় না নিলেও এই হার থেকে ইতিবাচক জিনিসগুলো নিয়েই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ঝাঁপাতে চাইছে টিম ইন্ডিয়া। ধাওয়ানের কথায়, ‘‌আমরা একটাই ম্যাচ হেরেছি। এটা এমন কোনও বড় বিষয় নয়। এই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছি। ইতিবাচক মানসিকতায় পরের ম্যাচে নামব।’‌ 
১৭৪ রানের পুঁজে নিয়েও ম্যাচ বাঁচাতে পারেনি দলের তরুণ বোলিং ব্রিগেড। তুলনায় অভিজ্ঞ যুজবেন্দ্র চাহালকেও সাধারণ মানের ঠেকছিল। টুর্নামেন্টে ভারতীয় দলের দায়িত্ব সামলানো রোহিত অবশ্য বোলারদের পাশেই দাঁড়িয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘‌অবশ্যই শ্রীলঙ্কা ব্যাটসম্যানদের কৃতিত্ব প্রাপ্য। নিশ্চিত আমরা এই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ঘুরে দাঁড়াব। আমাদের বোলাররা নিজেদের সেরাটা দিয়েই ম্যাচে ঝাঁপিয়েছিল। কিন্তু কখনও কখনও আমরা যেভাবে সব কিছু চাইছি, বাস্তবে সেটা সেভাবে হয় না। আমি মনে করি, দলের বোলিং বিভাগে যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে। এটা ঠিক, ওরা এই মঞ্চে নতুন। তবে ব্যাটিং বিভাগ যথেষ্ট শক্তিশালী এবং দারুণ অলরাউন্ড রয়েছে। এই উইকেটে লড়াই করার মতো রান থাকলেও, শেষের ওভারগুলোয় রান তোলায় আরেকটু জোর দিতে হত। আমি নিশ্চিত দল দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াবে।’‌
শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ৫ উইকেটে হারের পরও রোহিত প্রথম একাদশে খুব বেশি রদবদলের পক্ষপাতী নন। তবে বোলিং বিভাগে অভিজ্ঞতা বাড়াতে অক্ষর প্যাটেলকে খেলানোর সম্ভাবনা প্রবল। লোকেশ রাহুলের মতো অভিজ্ঞ এবং প্রতিভাবান ব্যাটসম্যান দলের বাইরে। বাংলাদেশ ম্যাচে রাহুলকে মিডল অর্ডারে ব্যাট করতে দেখলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। শ্রীলঙ্কা ম্যাচে ওয়াশিংটন সুন্দরের আঁটোসাঁটো বোলিং পারফরমেন্সের পর তাঁকে বাইরে রাখার ঝুঁিক নিশ্চিতভাবেই দেখাবে না টিম ম্যানেজমেন্ট। একইরকমভাবে বুমরা, ভুবনেশ্বরের অনুপস্থিতিতে সেই শার্দূল ঠাকুর, জয়দেব উনাদকাটের ওপরই ভরসা রাখতে হবে।
শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সদ্য সমাপ্ত সিরিজে তিন ফরম্যাটেই হেরেছে বাংলাদেশ। এই নিদাহাস কাপে, তারাও ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া। দল আত্মবিশ্বাসী। এমনই মত বাংলাদেশের সিনিয়র ক্রিকেটার তামিম ইকবালের। বলেন, ‘‌আমাদের কাছে চ্যালেঞ্জটা মোটেও সহজ নয়। জানি দল একেবারেই ছন্দে নেই। তবে এর মধ্যে অস্বাভাবিক কিছু নেই। প্রত্যেক ক্রিকেটারের মতো দলও ভাল–খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে যায়। আমার মনে হয়, কিছু কিছু বিষয়ে আমরা অতিরিক্ত দুশ্চিন্তায় ভুগছি। মনে করি, যখন কোনও কিছু ঠিক হচ্ছে না, তখন চুপচাপ সেটা মেনে নেওয়া উচিত। এবং বেসিক বিষয়গুলোয় জোর দেওয়া উচিত। এখানে সেটাই করতে চাই।’‌‌‌

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top