সুধীর কর্মকার: ইস্টবেঙ্গলের লিগ হাতছাড়া হওয়ার প্রধান কারণ, আচমকা পরপর তিন ম্যাচ হারা। ম্যারাথন লিগে চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে তিনটে ম্যাচে পরপর হার প্রভাব ফেলতে বাধ্য। সেটাই হয়েছে ইস্টবেঙ্গলের। না হেরে ম্যাচগুলোতে ১ পয়েন্ট করে পেয়ে থাকলেও আজ ইস্টবেঙ্গল চ্যাম্পিয়ন।
তবে, একটা কথা বলতেই হয়। যোগ্য দল হিসেবেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে চেন্নাই। ওরা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে হোঁচট খায়নি। লিগের শুরু থেকেই চেন্নাইয়ের খেলা দেখেই মনে হচ্ছিল, এবারে ওরা চ্যাম্পিয়ন হতে পারে। ধারেভারে ইস্টবেঙ্গলের তুলনায় অনেক ভাল টিম ছিল চেন্নাই। সেদিক থেকে বলতে গেলে ইস্টবেঙ্গল কোচ আলেসান্দ্রো মেনেন্ডেজ অনেক কঠিন কাজ করেছেন। শেষ ম্যাচ পর্যন্ত খেতাবের আশা জিইয়ে রেখেছিলেন।
আলেসান্দ্রোর একটা জিনিস আমার খুব ভাল লাগে। তা হল, কোনওরকম কঠিন পরিস্থিতিেত ভেঙে পড়েন না। অজুহাত দেন না। লিগের মাঝপথে এনরিকে চোট পেল। দেশে ফিরে গেল। তবু, ধাক্কাটা বুদ্ধি করে সামলেছিলেন। এনরিকের না থাকাটাও কিছুটা হলেও ক্ষতি করেছিল। 
বিশ্বকাপার জনি অ্যাকস্টা আমার মন জিতে নিয়েছে। ওকে নিয়ে শুরুর দিকে অনেকে অনেক কথা বলছিলেন। তারপর জনি দেখিয়ে দিয়েছে, লাল–হলুদে রক্ষণে ও হল ‘বস’। জুনিয়রদের দারুণভাবে গাইড করে। জনির সঙ্গে বোরজার জুটিটা ক্লিক করে যাওয়ায় আলেসান্দ্রোর কাজটা সহজ হয়ে গিয়েছিল। কলকাতা লিগের জবি জাস্টিন আর আই লিগের জবির মধ্যে অনেক ফারাক ছিল। ফিজিক্যাল ট্রেনার কার্লোস নোডারের প্রশংসা করতেই হয়। টিমটার ফিটনেস লেভেল ভাল জায়গায় রেখেছে। লালরিনডিকা রালতের শুরু দিকে ম্যাচে দমে ঘাটতি পরছিল, সেটা ওর খেলা দেখেই বোঝা যাচ্ছিল। পরের দিকে লালরিনডিকার ৯০ মিনিট ছুটেও ক্লান্তি নেই। 
মরশুমের শুরুতে মালয়েশিয়ায় ট্রেনিং করেছিলেন আলেসান্দ্রো। আমাদের সময়ে এই সমস্ত ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা ছিল না। তবে, খুব দরকার এই ট্রেনিং। আমি মনে করি, মালয়েশিয়াতেই অনেকটা কাজ সেরে এসেছেন আলেসান্দ্রো। যত যা–ই হোক, তিনি একটা সিস্টেমের মধ্যে থাকতে পছন্দ করেন। 
আরও একটা উল্লেখ করতে হয়। তা হল ডিপ ডিফেন্স দাঁড়িয়ে গেলেও সাইড ব্যাক পজিশন ভুগিয়েছে আলেসান্দ্রোকে। সামনের মরশুমে নিশ্চয়ই আলেসান্দ্রো এটা মাথায় রাখবেন। 
কোয়েস–কর্তাদের ধন্যবাদ জানাতে চাই। আলেসান্দ্রোর সঙ্গে চুক্তি বাড়িয়ে নেওয়ার জন্য। ধরা যাক পরের বছরও যদি সাফল্য না আসে, তবুও আলেসান্দ্রোকে সময় দিতে হবে। তিনি একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন। যার জন্য সময় দিতে হবে কোচকে। 
কমবেশি সব ম্যাচেই ইস্টবেঙ্গল ফুটবলাররা নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিয়েছেন। কোয়েস–কর্তাদের বলব, কোচকে যেমন ধরে রেখেছেন, এই টিমটাকেও ধরে রাখুন। টিমে বাঙালি ফুটবলার িনন। যা খুবই কম রয়েছে। মোহনবাগান শেষবার আই লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার বছরে টিমটাতে বঙ্গসন্তান ফুটবলারদের নামগুলো মনে আছে তো?‌

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top