‌আজকালের প্রতিবেদন: অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের পরেই বাংলার ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে ঈশান পোড়েলের নাম। বল নিয়ে পাকিস্তানকে একার হাতে দুমড়ে দেওয়ার পর, ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধেও উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছিল সে। চোট পেয়েও নিজের উঠে আসার পেছনে বারবার কোচ রাহুল দ্রাবিড়ের নাম করেছিল ঈশান। এবার মুখ খুললেন দ্রাবিড়ও। এক ক্রিকেট ওয়েবসাইটে চন্দননগরের ছেলেটি সম্পর্কে তিনি বলেছেন, ‘‌আমার মনে হয় ঈশানের সেরাটা এখনও দেখতে পাইনি। প্রথম ম্যাচে দুর্ভাগ্যবশত চোট পেয়ে বসেছিল ও। আমি আত্মবিশ্বাসী ছিলাম ও–ও ১৪০ কিমি গতিতে বল করতে পারবে। কিন্তু সেটা হল না। পরে ফিরে এসে নিজেকে প্রমাণ করে দিল। তবে এখন ওর সামনে লম্বা রাস্তা।’‌
চোট পেয়ে ছিটকে যাওয়ার পর কীভাবে তাকে সাহায্য করেছিলেন দ্রাবিড়, সেটা আগে জানিয়েছে ঈশান। এবার দ্রাবিড়ও শোনালেন সেই গল্প, ‘‌একটু হলেও ঈশান ভেঙে পড়েছিল। কিন্তু আমরা ওর আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর ছিলাম। বারবার বলছিলাম, আমরা সবাই তোমার পাশে আছি। এতে আগে মানসিকভাবে কিছুটা চাঙ্গা হয়ে যায়। দু’‌সপ্তাহ ধরে ধীরে ধীরে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া চোটটা পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠে ও।’‌
সাফল্যের পেছনে নিজের অবদানের কথা একেবারেই শোনা গেল না দ্রাবিড়ের মুখে। বরং সাক্ষাৎকারে বারবার তিনি তুলে আনলেন টিমের সাপোর্ট স্টাফদের কথা। বললেন, ‘‌গোটা বছর জুড়েই নিয়মিতভাবে চোট–আঘাতে ভুগেছি আমরা। কিন্তু রীতিমতো পেশাদারি ভঙ্গিতে সাপোর্ট স্টাফরা সে সব সামলে নিয়েছে এবং প্লেয়ারদের সুস্থ করে তুলেছে। খেলাটার সঙ্গে যুক্ত আছি বেশ অনেক দিন হয়ে গেল। তাই জানি কীভাবে পেশাদার অ্যাথলিটদের সারিয়ে তুলতে হয়। এটুকু বলতে পারি, এখনকার অনূর্ধ্ব ১৯ ছেলেরা সেরা চিকিৎসা এবং ট্রেনিংটাই পেয়েছে।’‌
শুধু ঈশানই নয়, বিশ্বকাপের দু’‌মাস আগে দুই পেস অস্ত্র কমলেশ নাগারকোটি এবং শিবম মাভি চোট পেয়ে বসেছিল। নাগারকোটির চোট ছিল কাঁধে, আর অ্যান্টেরিওর ক্রুশিয়াল লিগামেন্টে (‌হাঁটু)‌ চোট পেয়েছিল শিবম। কিন্তু বেঙ্গালুরুর জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে (‌এনসিএ)‌ আনন্দ দাতের তত্ত্বাবধানে দু’‌জনেই সেরে ওঠে। সঙ্গে ছিলেন ফিজিও যোগেশ। এই দু’‌জনকেই দলের সঙ্গে নিউজিল্যান্ডে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। আনন্দের কথা ঈশানও স্বীকার করেছিল। এছাড়াও স্পিনার অনুকূল রায় এবং রিয়ান পরাগেরও চোট ছিল। অনুকূল অনূর্ধ্ব ১৯ চ্যালেঞ্জার ট্রফি খেলতে পারেনি। যার ফলে বিশ্বকাপে তার খেলা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়। দলের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য রিয়ান প্রস্তুতি ম্যাচে চোট পায়। তবে প্রত্যেকেই সেরে উঠেছে।
এই প্রসঙ্গে দ্রাবিড় বললেন, ‘‌হয়তো অনেকে এনসিএ সম্পর্কে খারাপ কথা বলে। কিন্তু যখন আমরা নাগারকোটি বা শিবমকে উইকেট পাওয়ার পর আনন্দ করতে থাকি, তখন এনসিএ–র কথা মনে আসতে বাধ্য। প্রত্যেক ক্রিকেটারকেই খুব যত্ন সহকারে নজরে রাখা হয়েছে। চোট থাকলে ফিজিও কঠিন পরিশ্রম করে তা সারিয়ে তুলেছেন। ওদের শরীরের খেয়াল রাখা হয়েছে। আমি তো বলব, সেরা সাপোর্ট স্টাফদের সঙ্গেই কাজ করেছি।’‌‌

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top