আজকালের প্রতিবেদন: নস্টালজিয়ার সাগরে তখন হাবুডুবু খাচ্ছিলেন ১৯৬২ জাকার্তা এশিয়াডে সোনাজয়ী দলের পঞ্চপাণ্ডব। পরনে তখনকার জাতীয় দলের ব্লেজার। বুকের বঁা–দিকে ইন্ডিয়া লেখা লোগোটা রোদ পড়ে আরও চিকচিক করছিল। পি কে ব্যানার্জি, চুনী গোস্বামী, তুলসীদাস বলরাম, অরুণ ঘোষ, ফ্র্যাঙ্কোদের গলায় ঝুলছে এশিয়াডে পাওয়া সোনার পদকটি। সযত্নে রাখা পদকটি বহু বছর বাদে আলমারি থেকে বার করে গলায় ঝোলানো হয়েছে। পি কে ব্যানার্জি মাঝেমধ্যেই পদকটিতে হাত বুলিয়ে নিচ্ছিলেন। মাথার ওপরে তখন সূর্যি মামা নিজের ফর্ম দেখাতে শুরু করে দিয়েছেন। প্রখর রোদেও তঁাদের মুখে ক্লান্তি নেই। ক্লান্তি আসবেই বা কী করে। তঁাদের সকলের ‘গুরু’ সৈয়দ আবদুল রহিমের বায়োপিকের শুটিংয়ের কাজ চলছে যে। রহিম সাহেবকে বায়োপিকের মাধ্যমে গোটা বিশ্ব আবারও চিনবে, এই ধারণা মাথায় নিয়েই এই বয়সেও নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিলেন পি কে ব্যানার্জি, চুনী গোস্বামীরা। সামনে যুবভারতীর সবুজ গালিচায় রাখা রয়েছে তৎকালীন সময়ের টি বল। বাদামি রঙা ফুটবলের ব্লাডারটা বার করে হাওয়া দিয়ে ভিতরে ঢুকিয়ে দিয়ে ইংরেজি অক্ষর ‘টি’ শেপে সেলাই করে দিতে হত।  নিজেদের সময়কার বলের দিকে একদৃষ্টে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকতে দেখা যায় বলরামকে। পাশে থাকা চুনী গোস্বামী বলে উঠলেন, ‘দেখ বলরাম, বলটাও খুঁজে বার করেছে। আমাদের সময়কার বলটা অনেক বছর বাদে দেখলাম।’ 
ঠা–ঠা রোদের মধ্যেও পরিচালক অমিত শর্মা চেষ্টা করছিলেন পিকে, চুনীদের দিয়ে নিঁখুত দৃশ্য ফুটিয়ে তুলতে। পঁাচ কিংবদন্তিকে নিয়ে গ্রুপ ফটো তুলতে পঁাচ–পঁাচবারের চেষ্টায় পরিচালকের মনপসন্দ হল। ঘড়ি ধরে শুক্রবার সকাল দশটায় কিংবদন্তি ফুটবল কোচ রহিম স্যরের বায়োপিকের কলকাতায় শুটিং পর্বের অভিষেক হল। হুইল চেয়ারে বসে ব্লেজার গায়ে মাঠে প্রবেশ করলেন পি কে। মাঠের সাইডলাইন পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হল। পি কে–র মাথায় গোলাপি–সাদা মেশানো রঙের বিরাট একটা ছাতা ধরা। মেক–আপ রুমের কাজ মিটিয়ে মাঠে ঢুকেছেন তিনি। বাকিরা তখন মেক–আপ রুমে। মাঠ থেকে বেরোনোর সময় পি কে ‘আজকাল’–কে বলে গেলেন, ‘দারুণ উদ্যোগ। রহিম সাহেব এভাবেই সবার মনে বেঁচে থাকবে। আমি খুব খুশি।’
এরপর মাঠে শুটিংয়ের পর্ব মিটিয়ে পঁাচ কিংবদন্তিকে তুলে দেওয়া হল যুবভারতীর গ্যালারিতে। মাঠ থেকে ক্যামেরাগুলো দিয়ে নানান অ্যাঙ্গেলে ভিডিও হচ্ছিল। গ্যালারিতে বসে ম্যাচ দেখলেন চুনী, বলরামরা। ব্যস্ততার মধ্যেও এক ফাঁকে বলরাম বলেন, ‘নতুন অভিজ্ঞতা। অসাধারণ। এখানের মানুষজন খুব পরিশ্রম করে সিনেমাটা তৈরি চেষ্টা করছে। খুব বড় প্রজেক্ট। এতে অংশগ্রহণ করতে পেের নিজেকে ধন্য মনে করছি। আমাকে, পিকে, চুনী, অরুণ, ফ্র্যাঙ্কোদের তবু লোকে চেনে। কিন্তু, রহিম সাহেবকে অতটা দেশের মানুষ জানেন না। এই বায়োপিকের মাধ্যমে রহিম স্যরকে এই প্রজন্ম চিনবে। এই অনুভূতি ভাষায় বর্ণনা করতে পারব না।’ 
চুনী আর অরুণের গলাতেও একই সুর, ‘যারা সিনেমাটা করছে, তাদের ধন্যবাদ। ভারতীয় ফুটবলে রহিম সাহেবের অবদান অবিস্মরণীয়।’ 
শুটিং পর্বের চমক আরও বাকি। আগামী দিনে কলকাতার তিন প্রধানে শুটিংয়ের কাজে তিলোত্তমায় আসতে পারেন অজয় দেবগণ।‌‌

রহিম সাহেবকে নিয়ে তথ্যচিত্রের শুটিংয়ে যুবভারতীতে পি কে ব্যানার্জি। ছবি:‌ রাজকুমার মণ্ডল

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top