নির্মলকুমার সাহা- প্যাস ক্লাব.‌.‌.‌ উয়াড়ি.‌.‌.‌ বাঘা সোম.‌.‌.‌ইস্টবেঙ্গল.‌.‌.‌জে সি গুহ.‌.‌.‌শান্ত মিত্র। বারবার তঁার কথায় ঘুরেফিরে আসছিল। কিন্তু একটার সঙ্গে আরেকটার কোনও মিল থাকছিল না। কেমন যেন গুলিয়ে যাচ্ছিল। আসলে মাঝেমধ্যেই তাঁর স্মৃতিশক্তি বিশ্বাসঘাতকতা করছিল। এটাই এখন তাঁর একমাত্র অসুখ। অনেক কিছুই ঠিকঠাক মনে রাখতে পারেন না। এভাবেই গত দু’‌বছর ধরে তিনি গৃহবন্দি হয়ে আছেন। 
তিনি পরিমল দে। একদা ময়দানে যিনি ‘‌জংলা’‌ নামেই পরিচিত ছিলেন। ১৯৭০–এর আইএফএ শিল্ড ফাইনালের নায়ক অবশ্য সেই প্যাস ক্লাব ম্যাচের প্রসঙ্গ উঠতেই অনেকটা চাঙ্গা হয়ে উঠলেন। কোনও জড়তা দেখা গেল না কথায়। বললেন, ‘প্যাস ক্লাবের বিরুদ্ধে খেলা শেষ হওয়ার একটু আগে নেমেছিলাম। তারপরই গোল। খেলা শেষ হওয়ার পর সমর্থকরাই কাঁধে করে ইস্টবেঙ্গল টেন্টে পৌঁছে দিয়েছিল।.‌.‌.‌’‌ আরও কিছু বলতে চাইছিলেন। কিন্তু শেষ করতে পারলেন না। আবার একথা সেকথা। তারপর নিজেই বলে চললেন, ‘‌একটা ফুটবল দিলে এখনও মাঠে নেমে পড়তে পারি। গোল করতে পারি।’‌ 
কয়েকদিন আগেই উয়াড়ি তাঁবু আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে। ওই উয়াড়ির সঙ্গে তাঁর ফুটবল জীবনের শুরুর দিকের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে। কিন্তু ওই আগুনের কথা তিনি জানতেন না। কারণ এখন আর খবরের কাগজ পড়েন না। মানে পড়তে পারেন না। টিভিও দেখেন না। কারণ একটানা টিভির দিকে তাকিয়ে থাকতে ভাল লাগে না। একবার জানতে চাইলেন, কীভাবে আগুন লাগল?‌ তারপরই আবার চলে গেলেন অন্য প্রসঙ্গে। হঠাৎ বলে উঠলেন, ‘‌শান্ত মিত্র আমার ভাল বন্ধু ছিল। ও তো মারা গেছে।’‌ প্যাস ক্লাবকে হারানো ইস্টবেঙ্গল দলের অন্যদের কথা মনে আছে?‌ সুধীর কর্মকার, হাবিব, নঈম, প্রশান্ত সিংহ, কাজল মুখার্জি, থঙ্গরাজ, স্বপন সেনগুপ্ত, অশোক চ্যাটার্জি?‌ প্রশ্ন শুনে অপলক দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলেন। আবার বলে উঠলেন, ‘‌শানু (‌শান্ত মিত্র)‌ সেবার ক্যাপ্টেন ছিল।’‌ এরপর নিজেই আবার চলে গেলেন উয়াড়ি ক্লাবে। বললেন, ‘‌বাঘাদা ছিলেন ওখানে। ক্লাবটা পুড়ে গেল!‌ চলো তো দেখে আসি ক্লাবটার এখন কী অবস্থা।’‌ 
খেলা ছাড়ার পর একসময় সকাল সন্ধ্যায় নিয়মিত আড্ডা দিতেন ময়দানে সিএসটিসি টেন্টে। সেই আড্ডার কথাও মনে আছে। কিন্তু গুছিয়ে বলার মতো অবস্থায় নেই। বললেন, ‘‌আমি তো সিএসটিসি–তে চাকরি করতাম। তাই ওই টেন্টে যেতাম।’‌ 
আর ইস্টবেঙ্গল?‌ অনেকদিন আসেননি নিজের প্রিয় ওই ক্লাবে। ইস্টবেঙ্গলের নানা অনুষ্ঠানে ক্লাবের আমন্ত্রণ পান। কিন্তু আসার মতো অবস্থায় নেই, তাই আসেন না। মনে আছে জে সি গুহকে। বললেন, ‘‌জ্যোতিষদা আমাকে খুব ভালবাসতেন।’‌ 
ইস্টবেঙ্গল, বাংলা, ভারত। কবে কোথায় খেলেছেন, এখন আর মনে নেই তাঁর। উঠে আসার মুখে আবার বললেন, ‘‌একটা ফুটবল দিলে এখনও গোল করতে পারি।’

বাড়িতে পরিমল দে। ছবি— অভিষেক চক্রবর্তী 

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top