নির্মলকুমার সাহা- সন্দীপ ঘোষ একদা কলকাতা প্রথম ডিভিশন ফুটবল লিগে খেলতেন। কালীঘাট, জর্জ টেলিগ্রাফ, তালতলা একতার হয়ে খেলেছেন। মোহনবাগানের বিরুদ্ধে তালতলা একতার হয়ে একটা গোলও আছে। বেশি সুযোগের আশায়, এই স্ট্রাইকার ২৬ বছর আগে বাংলা ছেড়ে চলে যান মহারাষ্ট্রে। ওখানে যাওয়ার পর অনূর্ধ্ব–‌২১ জাতীয় ফুটবলেও খেলেছেন মহারাষ্ট্রের হয়ে। হাঁটুতে চোট লাগায় তাঁর ফুটবল–জীবন অকালেই শেষ। এর পর চলে আসা টেবিল টেনিসে। এখন আন্তর্জাতিক টেবিল টেনিস সংস্থার লেভেল ২ কোচ। সন্দীপের আর বাংলায় ফেরা হয়ে ওঠেনি। পরিবার নিয়ে আছেন ওখানেই। বছরে বার তিনেক অবশ্য আসতে হয় হাওড়ায় উলুবেড়িয়ার গ্রামের বাড়িতে। ওখানে আছেন সন্দীপের বৃদ্ধ বাবা নির্মল ঘোষ ও মা শিখা ঘোষ। শৈলেন মান্নাদের আমলে নির্মল ঘোষ ফুটবল খেলোয়াড় হিসেবে বিখ্যাত ছিলেন। সন্দীপ এখন চাকরি ছেড়ে নবি মুম্বইয়ে খুলে ফেলেছেন টেবিল টেনিস আকাদেমিও। সন্দীপেরই মেয়ে স্বস্তিকা ঘোষ এখন ভারতীয় টেবিল টেনিসে নতুন প্রজন্মের এক উজ্জ্বল নাম। কয়েকদিন আগে সিনিয়র জাতীয় টেবিল টেনিসে সাড়ে চোদ্দোর এই স্বস্তিকা রাউন্ড অফ ৬৪ থেকে বিদায় ঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছে মৌমা দাসের। এই স্বস্তিকাই দেশের একমাত্র টেবিল টেনিস প্রতিভা, যে পাচ্ছে বিরাট কোহলি ফাউন্ডেশনের বৃত্তি। নানা খেলায় দেশের ৭ জন নির্বাচিত হয়েছে ওই বৃত্তির জন্য। মেয়াদ তিন বছর। যা শুরু হয়েছে এই জানুয়ারি থেকে। ওই বৃত্তি পেয়ে প্রস্তুতিতে আরও মনোযোগী স্বস্তিকা। দিচ্ছে আরও বেশি সময়। এই বৃত্তি বাড়িয়ে দিয়েছে ওর উৎসাহও। আসলে এই বৃত্তির জন্য ও যে যোগ্য, সেটা প্রমাণ করতে চায়। 
বাবার কাছেই টেবিল টেনিস খেলা শেখা শুরু স্বস্তিকার। বয়স তখন খুব বেশি হলে সাড়ে তিন বছর। ওই বয়সেই বাবার আকাদেমিতে যেতে যেতে টিটি ব্যাট–বল হাতে তুলে নেওয়া। তার পরও কোচ হিসেবে সব সময় স্বস্তিকার পাশে আছেন সন্দীপই। আর আছেন শিলিগুড়ির অমিত দাম। সন্দীপ বলছিলেন, ‘‌বছরে অন্তত একবার মেয়েকে নিয়ে শিলিগুড়ি যেতেই হয়, অমিত দামের কাছে অ্যাডভান্স কোচিংয়ের জন্য। যেটা ওর জন্য খুবই জরুরি।’‌ 
স্বস্তিকার জাতীয় পর্যায়ে প্রথম সাফল্য আসে ২০১৩ সালে। আজমেঢ়ে ক্যাডেট সিঙ্গলসে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন। সেই থেকে বিভিন্ন বয়সভিত্তিক জাতীয় প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিক সাফল্যের মধ্যেই আছে। এবার দুর্গাপুরে জুনিয়র ও ইউথ জাতীয় টেবিল টেনিসে জিতেছে ৪ পদক। ইউথ ডাবলসে সোনা। জুনিয়র ডাবলস, ইউথ টিম ও ইউথ সিঙ্গলসে ব্রোঞ্জ। তার পরই রাঁচিতে সিনিয়র ন্যাশনালে মৌমাকে হারিয়ে বড় চমক। 
ফেলে আসা ২০১৭ সালে স্বস্তিকার গলায় উঠেছে দু‌টি আন্তর্জাতিক পদক। শ্রীলঙ্কায় সাউথ এশিয়ান টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপে সাব–জুনিয়র বালিকাদের দলগত সোনা জিতেছিল ভারত। সেই দলে ছিল স্বস্তিকা। এর পর জর্ডনে ওয়ার্ল্ড সার্কিট প্রতিযোগিতায় ক্যাডেট বালিকা সিঙ্গলসে ব্রোঞ্জ জয়। ২০১৬ সালে ইন্দোরে ইন্টারন্যাশনাল ওপেন টিটি–তে জিতেছিল রুপোর পদক। এই স্বস্তিকাই আজ যাচ্ছে ওমানে জুনিয়র অ্যান্ড ক্যাডেট ওয়ার্ল্ড সার্কিট টেবিল টেনিসে অংশ নিতে। মুম্বই থেকে ফোনে স্বস্তিকা বলছিল, ‘এখন ঘনঘন ইন্টারন্যাশনাল টুর্নামেন্টে খেলে অভিজ্ঞতা বাড়াতে হবে। বিদেশিদের বিরুদ্ধে খেলে অনেক শেখারও থাকে। আর খেলা না থাকেল প্র‌্যাকটিসে প্রতিদিন সাত ঘণ্টা সময় দিই। এভাবেই আমি এগোতে চাই। আমার টার্গেট অলিম্পিক পদক। সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে গেলে পরিশ্রম তো করতেই হবে।’‌ ‌‌‌‌

একটি প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়নের ট্রফি ও পদক নিয়ে।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top