সংবাদ সংস্থা, লখনউ: রুপোর চামচ মুখে নিয়ে তিনি বড় হননি। বরং প্রতি মুহূর্তে হোঁচট খেয়েই এগোতে হয়েছে। অবশেষে আলোকবৃত্তে। অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে ভারতকে নেতৃত্ব দেবেন। কঠিন পথ পেরিয়ে উঠে আসার জন্য যাবতীয় কৃতিত্ব বাবাকে দিলেন প্রিয়ম গর্গ। 
১৯ বছরের ব্যাটসম্যান প্রিয়মের জন্ম মিরাট থেকে ২৫ কিমি দূরে কুইলা পরীক্ষিতগড় গ্রামে। ছয় বছর বয়স থেকেই অদ্ভুত নেশা ব্যাট–বলের। কিন্তু স্কুলের ভ্যান চালক নরেশ গর্গ যেখানে সংসার টানতেই হিমশিম খেতেন, সেখানে ছেলেকে ক্রিকেটার বানানো তো তাঁর কাছে ছিল একথায় দুঃসাধ্য। তাহলে কী করে সম্ভব হল?‌ প্রিয়ম বলেছেন, ‘‌বাবা স্কুলভ্যান চালক। আমরা পাঁচ ভাই–বোন। এত বড় সংসার টানতেই বাবার নাভিঃশ্বাস উঠত। কিন্তু তাও আমার ক্রিকেট নিয়ে আগ্রহ দেখে উনি এক বন্ধুর থেকে টাকা ধার করেন। আমাকে ক্রিকেট কিট কিনে দেন। কোচিংয়ে ভর্তি করান। বাবা পরিশ্রম না করলে, সেদিন আমাকে ক্রিকেট কিট কিনে না দিলে হয়ত কোনওদিন এই জায়গায় পৌঁছতে পারতাম না। ভারতের অনূর্ধ্ব ১৯ দলের ক্যাপ্টেনও হতে পারতাম না।’‌ 
২০১১ সালে মাকে হারিয়েছেন। অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে ভারতের অধিনায়ক হওয়ার খবরটা পাওয়ার পর সবচেয়ে বেশি মায়ের কথা মনে পড়ছে প্রিয়মের। বলেছেন, ‘‌মা স্বপ্ন দেখতেন, একদিন দেশের হয়ে খেলব। সেই স্বপ্ন সফল হওয়ার সময় মা–ই নেই। মায়ের কথা ভেবে মন খারাপ লাগছে।’‌ কীভাবে নিজেকে তৈরি করেন?‌ প্রিয়মের জবাব, ‘‌দিনে সাত–আট ঘণ্টা প্র‌্যাকটিস করি। মিরাটে আমার কোচ সঞ্জয় রাস্তোগি দারুণ সাহায্য করেন প্রতিমুহূর্তে। কোচের চেষ্টা এবং বাবার উৎসাহেই আমি ২০১৮ সালে রনজি দলে ডাক পাই।’‌ 

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top