সংবাদ সংস্থা, বার্লিন: বিশ্বকাপের দ্রুততম গোলের পাশে এখনও লেখা তাঁর নাম। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে রাতারাতি আলোচনায় উঠে এসেছিলেন তিনি তুরস্ককে তৃতীয় স্থান দিয়ে। সেই হাকান সুকুর এখন দেশ থেকে বিতাড়িত। আমেরিকায় ট্যাক্সি চালিয়ে এবং বই বেচে দিন কাটছে তাঁর।
খেলোয়াড় জীবনে ইন্টার মিলান, টোরিনো, পারমা, গালাতাসারে, ব্ল্যাকবার্ন রোভার্স–সহ একাধিক ক্লাবে সুনামের সঙ্গে খেলেছেন। দেশের হয়ে ১১২ ম্যাচে রয়েছে ৫১ গোল। খেলা ছেড়ে দেওয়ার পরে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তায়িপ এরডোগানের পার্টিতে যোগ দিয়ে নির্বাচিত হন তুরস্ক বিধানসভাতেও। কিন্তু দু’‌বছর পরেই এরডোগানের বিরুদ্ধে সামরিক অভ্যুত্থান হয়। সেখানে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ ওঠে সুকুরের বিরুদ্ধে। এরপরেই এরডোগানের রোষে পড়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। টুইটারে প্রেসিডেন্টকে অপমানের অভিযোগে তাঁর এবং তঁার ছেলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। সেই থেকে তিনি আমেরিকাবাসী। জার্মান সংবাদপত্রে এক সাক্ষাৎকারে সুকুর বলেছেন, ‘‌আমি সব হারিয়েছি। স্বাধীনতা, মতপ্রকাশ, কাজ করা— সমস্ত অধিকার কেড়ে নিয়েছে এরডোগান। কেউ বলতে যে ওই অভ্যুত্থানে আমার ভূমিকা কী ছিল। কোনও অনৈতিক কাজ করিনি। আমি বিশ্বাসঘাতক বা সন্ত্রাসবাদী নই।’‌ বলেছেন, ‘‌আমি দেশকে ভালবাসি। এরডোগানোর সঙ্গে বিচ্ছেদের পরেই হুমকি পাচ্ছিলাম। আমার স্ত্রীর দোকানে হামলা হয়। ছেলেদের ভয় দেখানো হচ্ছিল। বাবাকে জেলে ভরা হয়। আমার সম্পত্তিও কেড়ে নেওয়া হয়।’‌
আমেরিকায় পালিয়ে গিয়েও সমস্যার সুরাহা হয়নি। ক্যালিফোর্নিয়ায় যে কাফে খুলেছিলেন সুকুর, সেখানেও রহস্যজনক মানুষের আনাগোনা হতে থাকে। বাধ্য হয়ে তা বন্ধ করে অ্যাপ–ক্যাব চালানো শুরু করেন তিনি। পাশাপাশি চলতে থাকে বই বিক্রি। দেশে অবশ্য এখনও তাঁর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। ‌কিন্তু তিনি পরবাসী। 

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top