আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ পরিসংখ্যান উন্নত করতে পারলেন না দীনেশ কার্তিকরা। ফের মুম্বইয়ের কাছে হার। নিজেদের প্রথম ম্যাচেই বড় ব্যবধানে হেরে বসল কলকাতা নাইট রাইডার্স। মুম্বই ইন্ডিয়ান্স জিতল ৪৯ রানে। ২৬ বারের সাক্ষাতে মুম্বইয়ের জয় দাঁড়াল ২০ ম্যাচে। আর কলকাতার ৬। মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে শেষ ১০ ম্যাচে ৯ টিতে হার কলকাতার। 
১৫ কোটির বোলার ৩ ওভারে দিলেন ৪৯ রান!‌ প্যাট কামিন্স সম্পর্কে যত কম বলা যায় ততই ভাল। যেটুকু বল করার তা ওই সুনীল নারিন আর শিবম মাভি করলেন। তরুণ মাভি নিলেন ২ উইকেট। নারিন একটা। কুলদীপ ছাপ ফেলতে পারেননি। সন্দীপ ওয়ারিয়র তো অফস্টাম্পের বাইরে রোহিতকে বল করে গেলেন। কিংবা লেগস্টাম্প লক্ষ্য করে। আর রোহিত ও সূর্যকুমার যাদব ইচ্ছামতো রান তুলে গেলেন।
টস জিতে শুরুতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কেকেআর। নিজের প্রথম ওভারেই কুইন্টন ডি’‌কককে তুলে নিয়েছিলেন মাভি। কিন্তু এরপর খেলা ধরে নিলেন মুম্বই অধিনায়ক ও নাইটদের প্রাক্তনী সূর্যকুমার যাদব। রোহিত করে গেলেন ৫৪ বলে ৮০। একেবারে সামনে থেকে দিলেন নেতৃত্ব। মারলেন ৩টি চার ও ৬টি ছয়। আউট হলেন মাভির বলে। আর সূর্যকুমারের অবদান ২৮ বলে ৪৭। তিনি মেরেছেন ৬টি চার ও ১টি ছয়। তিনি রান আউট না হলে নাইটদের দুর্ভোগ আরও বাড়ত। দ্বিতীয় উইকেটে ৯০ রান যোগ করলেন রোহিত–সূর্যকুমার। হার্দিক হলেন হিট উইকেট। মুম্বই থামল ১৯৫/‌৫ রানে। 
জবাবে কলকাতার শুরুটা জঘন্য। ওপেনিংয়ে কোনও চমক নেই। শুভমানের সঙ্গে পাঠানো হল নারিনকে। দু’‌জনেই ব্যর্থ। সবাইকে অবাক করে তিনে নামলেন অধিনায়ক কার্তিক। চাপ যে রয়েছে তা বোঝা গেল। কিন্তু তা কাটাতে পারলেন কই!‌ ২৩ বলে মাত্র ৩০ করে রাহুল চাহারের বলে হলেন এলবিডবলিউ। নীতিশ রানাও ব্যর্থ। পাঁচে এলেন মর্গ্যান। তিনিও ফুল ফোটাতে পারলেন না। ৬ নম্বরে আসা কেকেআরের সেরা ব্যাট রাসেলও দ্রুত ফিরলেন প্যাভিলিয়নে। ফের প্রশ্ন উঠবে। যেখানে এত বড় রানের টার্গেট। সেখানে কেন ৬ নম্বরে রাসেল?‌ যখন দ্রুত ওপেনাররা ফিরে গেছেন। ব্যাটিং অর্ডারে দেরিতে নামানো নিয়েই কিন্তু কার্তিকের সঙ্গে ঝামেলা হয়েছিল রাসেলের। 
আঁটোসাঁটো বোলিং করে গেল মুম্বই। কেকেআর ব্যাটসম্যানদের কখনই ভয়ঙ্কর হতে দেননি বোল্ট, বুমরারা। ২টি করে উইকেট পেলেন বোল্ট, বুমরা, প্যাটিনসন, রাহুল চাহার। দ্বিতীয় ম্যাচেই ঘুরে দাঁড়াল গতবারের চ্যাম্পিয়নরা। কলকাতা থেমে গেল ১৪৬/‌৯ রানে। শেষের দিকে কামিন্স ১২ বলে ৩৩ করেছিলেন। ছিল চারটি ছয়। কিন্তু তা বাকি ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতা ঢাকার জন্য যথেষ্ট ছিল না। 
আর কেকেআর?‌ প্রথম ম্যাচে অনেক প্রশ্ন তুলে দিয়ে গেল। বোলাররা দিলেন অতিরিক্ত ১৪ রান। শৃঙ্খলা রাখতে পারলেন আর কই!‌ সবচেয়ে বড় কথা ব্যাটিং তুলে দিল অনেক প্রশ্ন। ভুল না শোধরাতে পারলে আগামী ম্যাচগুলোতেও মাথা চাপড়াতে হবে কিং খানের দলকে। কার্তিকের অধিনায়কত্বে নতুনত্ব কিছু দেখা গেল না। চাপের মাঝে একের পর এক ভুল। এরকম চলতে থাকলে মর্গ্যানর অধিনায়ক হওয়া সময়ের অপেক্ষা। 

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top