আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ সবুজ–মেরুন পতাকা জড়িয়েই শেষ বিদায় নিলেন রিঙ্কু দাস। প্রিয় মোহনবাগানই ধ্যান–জ্ঞান ছিল তাঁর। ছিল না পা। বছর ছ’য়েক আগে ট্রেনে কাটা পড়ে। সেই থেকে ট্রাই–সাইকেলেই যেতেন প্রিয় দলের খেলা দেখতে। জীবনের প্রতিটা দিন তাঁর কাছে ছিল যুদ্ধ। প্রতি মুহূর্তে লড়াই করতে হত মানসিক এবং শারীরিক প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে। শেষপর্যন্ত জীবনযুদ্ধে হার মানলেন ভবানীপুরের বেলতলার বাসিন্দা রিঙ্কু দাস। পরিবারে আর্থিক অনটন ছিল তীব্র। সম্ভবত সেই লড়াইয়ে হার মেনে শনিবার আত্মহত্যা করেন তিনি। 
প্রিয় মোহনবাগানের খেলা থাকলেই তিনচাকার পিছনে মোহনবাগানের পতাকা উড়িয়ে যাত্রা শুরু করতেন এই কট্টর মোহনবাগানি। ডার্বি থাকলে তো কথাই নেই। শেষবার ডার্বি দেখতে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন তিনি। ভেঙে যায় তাঁর ট্রাই–সাইকেল। পরে ক্লাবের তরফেই তাঁকে নতুন ট্রাই–সাইকেল কিনে দেওয়া হয়। মোহনবাগানের খেলা মানেই রিঙ্কু গ্যালারিতে হাজির। তাঁর আফশোস ছিল একটাই, শারীরিক এবং আর্থিক প্রতিবন্ধকতার জন্য দূরের মাঠে যেতে পারতেন না। 
বেলতলায় এক কুঁড়েঘরে বাস ছিল তাঁর। স্ত্রী অন্যের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করতেন। রিঙ্কুর নিজের একটা ছোট দোকান ছিল। কিন্তু তাতে দিন গুজরান হচ্ছিল শুধু। তাঁর খেলা দেখতে যাওয়ার শখ পূরণ হচ্ছিল না। সেই অকৃত্রিম বেদনা নিয়েই হয়ত পৃথিবীকে বিদায় জানালেন রিঙ্কু। শনিবার সকালে ভিক্টোরিয়ার কাছে একটি গাছ থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে। হেস্টিংস থানা থেকে ফোন করে রিঙ্কুর পরিবারকে ঘটনার কথা জানানো হয়। 
এদিকে, একইদিনে প্রয়াত হয়েছেন মোহনবাগানের প্রাক্তন অধিনায়ক তথা জাতীয় দলের প্রাক্তন তারকা অশোক চ্যাটার্জি। 

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top