আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ঐতিহ্যের মোহনবাগান কি এটিকে–র হাতে চলে গেল?‌ এই প্রশ্ন উঠছে তামাম মোহনবাগান সদস্য–সমর্থকদের মধ্যে। কারণ এটিকে–র পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত আরপিএসজি গ্রুপের হাতে থাকবে ক্লাবের ৮০ শতাংশ শেয়ার। আর মোহনবাগান ফুটবল ক্লাব (‌ইন্ডিয়া)‌ প্রাইভেট লিমিটেডের হাতে থাকবে মাত্র ২০ শতাংশ শেয়ার। শেষ বার্ষিক সাধারণ সভায় ক্লাবের অর্থ সচিব দেবাশিস দত্ত বলেছিলেন, ‘‌মুম্বইয়ে দুই তরফের বৈঠক হয়েছে। কিন্তু ওরা ৮০ শতাংশ শেয়ার দাবি করেছিল। আমরা রাজি হইনি। তাহলে ক্লাব পুরোপুরি ওদের হাতেই চলে যাবে।’‌ শেষমেশ সেটাই তো হল। ১৩০ বছরের ইতিহাসের সাক্ষী থাকা মোহনবাগান চলে গেল এটিকে–র হাতে। 
বাগান সভাপতি টুটু বসু ও আরপিএসজি–র তরফে সঞ্জীব গোয়েঙ্কা যৌথ বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন গাঁটছড়ার ব্যাপারটা। বৃহস্পতিবার দু’‌পক্ষের মউ স্বাক্ষর হল। মিলন কার্যকর হবে ২০২০ সালের ১ জুন থেকে। বাগান কর্তাদের তরফে জার্সিং রং, লোগো ও ক্লাবের নামের কোনও অবমাননা যেন না হয়, সেদিকে জোর দেওয়া হয়েছে। তাতে বাগান কর্তারা সফল। কিন্তু সদস্য–সমর্থকদের ক্ষোভ তাতে মিটছে কি?‌ 
সবচেয়ে বড় কথা এত বড় সিদ্ধান্ত বাগানের তিন শীর্ষ কর্তাই নিয়ে ফেললেন। বিশেষ সাধারণ সভা ডেকে সদস্যদের মতামত চাওয়া কি যেত না?‌ যেখানে বর্তমান ক্লাবের ফুটবল কোম্পানির পুরো শেয়ার চলে গিয়েছে সদস্যদের হাতে। তাই বেশিরভাগ সদস্যই ক্ষোভে ফুটছেন।
এক সদস্য তিন শীর্ষকর্তাকে তোপ দেগে বলেছেন, ‘‌মা কে বিক্রি করে দিল।’‌ কেউ আবার শ্লেষ মিশিয়ে বলছেন, ‘‌জয় গোয়েঙ্কার জয়।’‌ এক সদস্য আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, ‘‌২–৩ বছর পর যদি মোহনবাগান–এটিকে গাঁটছড়া ভেঙে যায়, তাহলে মোহনবাগান কি আইএসএল খেলবে?‌’‌ আর এক সদস্যর কথায়, ‘‌জার্সিতে একসঙ্গে থাকবে মোহনবাগান এবং এটিকের লোগো। এটা মানতে পারছি না।’‌ সবমিলিয়ে ক্ষোভ তীব্র হয়েছে। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু সদস্য এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে দিয়েছেন। ‌‌

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top