তঁাবু থেকে বেরোনোর সময়ে চোখ টিপে ডেকে নিলেন। ডিপান্ডা ডিকা উঠলেন কিংসলের গাড়িতে। গাড়ি সোজা ছুটল প্রিন্সেপ ঘাট। চক্ররেল, গঙ্গা, প্রিন্সেপ ঘাট ঘুরে দেখলেন দু’জনে। তারই ফাঁকে ডিকা, কিংসলে কথা বললেন সৌমিত্র কুমার রায়ের সঙ্গে।

কিংসলে: আমি আগে একবার গেছি। দারুণ জায়গা। চলো, আজ তোমাকে ঘুরিয়ে নিয়ে আসি। (তা শুনে ডিপান্ডার মুখে শিশুর সারল্যের হাসি। গাড়ি স্টার্ট দেওয়ার আগে এক টিভি চ্যানেল সাক্ষাৎকার নিচ্ছিল কিংসলের। তা মোবাইলে ভিডিও করতে করতে ডিপান্ডা বলেন, কিংসলে আমার ক্যাপ্টেন। ও আমাকে সবসময় গাইড করে। ওর সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব খুব ভাল। একই কমপ্লেক্সে থাকি।)
 আপনাদের টিমের সাফল্যের রসায়ন এটাই। ফুটবলারদের সবার মধ্যে দারুণ সম্পর্ক।
ডিকা: হ্যাঁ, এটা ঠিক বলেছেন। শিলটন লিগ জয়ের পর বলেছে। আমিও বলছি একই কথা। আমাদের টিমটা একটা পরিবারের মতো। ট্রফি জিততে গেলে ড্রেসিংরুমের পরিবেশ ভাল হওয়া জরুরি। আমাদের সেটা রয়েছে। (একটু থেমে, মুচকি হেসে) জানেন, ড্রেসিংরুমের একটা গোপন তথ্য আপনাকে বলি তা হলে। সেটা হল ম্যাচে নামার আগে আমার ব্লুুটুথ বক্সে ড্রেসিংরুমে গান চালাই। সেই গানে সবাই মজা করে তারপর ম্যাচে নামি। সব ম্যাচের আগেই এটা হয়ে থাকে। তা হলেই বুঝুন, আমাদের ড্রেসিংরুমের পরিবেশটা কীরকম। কোনও সমস্যা হলে প্লেয়াররা ড্রেসিংরুমে মিটিং করি। নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করি। এটা সনি (নর্ডি) থাকার সময়ে, ও চালু করেছিল।
 আই লিগে সনিকে চান?
ডিকা: নিশ্চয়ই। সনি আমাদের লিডার ছিল। ওকে খুব মিস করি। আমাদের মিডফিল্ডার দরকার। সনিকে এলে তো আর কথাই নেই। তবে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন কর্তারা।
 লিগের টার্নিং পয়েন্ট কোনটা?
ডিকা: ওভাবে আলাদা করে বলা যাবে না। সব ম্যাচ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছি। গত বছর কলকাতা লিগকে সেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এবার কোচ আমাদের বারবার বলতেন, ন’বছর কলকাতা লিগ ট্রফিটা পাইনি। ট্রফিটা পেয়ে সমর্থকদের খুশি করতে হবে। এটাই আমাদের তাতিয়েছিল।
কিংসলে: পিয়ারলেস ম্যাচটা ড্র হওয়ার পর আমারা নিজেদের মধ্যে টিম মিটিং করেছিলাম। বলেছিলাম, অন্য টিমের (পড়ুন ইস্টবেঙ্গল) কথা না ভেবে, পরের ম্যাচগুলো হারা চলবে না। তা হলেই লিগ পেতে অসুবিধে হবে না। সেটাই হয়েছে।
(কথা শেষ করতে না করতেই প্রিন্সেপ ঘাট চলে আসে। গাড়ি থেকে নেমে দারুণ খুশি ডিকা। বলেন, বাহ্। দারুণ জায়গা। মেয়ে ও জর্জিয়েট কলকাতায় এলে, ওদের নিয়েও ঘুরতে আসব।’‌ বলতে বলতে এগিয়ে চললেন। চক্ররেলের লাইন পার করে গঙ্গার ঘাট ঘুরে দেখলেন। দ্বিতীয় হুগলি ব্রিজকে পিছনে রেখে সেলফি তুললেন ডিকা। কিংসলে বলে উঠলেন, ‘ডিকা ছবি তুলতে খুব ভালবাসে। আমার ছবি তুলতে একদম ভাল লাগে না। গোল করে আমি সেলিব্রেশন করি না।’) 
 হেনরি আপনার প্রশংসা করেছেন।
ডিকা: (মুচকি হেসে) লিগের শুরুতে জুটিটা জমতে সময় লেগেছিল। সময় যত গড়িয়েছে, মানিয়ে নিয়েছি। হেনরি কোয়ালিটি ফুটবলার। আই লিগে দেখবেন, হেনরি অনেক গোল করবে। আই লিগ শুরু হতে দেরি রয়েছে। আমাদের জুটিটা দেখবেন আই লিগে আরও জমবে।
কিংসলে: (‌হেসে উঠে) যাক বাবা, তা হলে আই লিগে আমার কাজ অনেক কমে যাবে। ওরা গোলের পর গোল করবে, আমার চিন্তাই রইল না। (ডিকা প্রথমে বুঝে উঠতে পারেননি, বোঝার পর বলেন, না, না, কিংসলে আমাদের ডিফেন্সের বস। ও থাকতে আমাদের চিন্তা থাকে না)
 ইস্টবেঙ্গলের বিশ্বকাপারকে কেমন লাগল?
ডিকা: দেখুন, ও বিশ্বকাপ খেলে এসেছে। কোয়ালিটি ডিফেন্ডার। তবে, ওর কথা ভেবে সময় নষ্ট করতে চাই না। আমরা নিজেদের টিম নিয়েই ভাবি।
 কলকাতা লিগে ইস্টবেঙ্গল বাদে আর কোন টিমকে শক্তিশালী লাগল?
ডিকা: এখনই কী করে বলব। মহমেডানের সঙ্গে খেলা বাকি। তবে, পিয়ারলেস বেশ ভাল টিম। ওদের টিমের ভারসাম্য রয়েছে। (‌সেলফির আবদার ডিকার কাছে। কিংসলে বলে ওঠেন, ‘আর বেশিক্ষণ থাকা যাবে না।’ লিগ জয়ের পরেরদিন প্রিন্সেপ ঘাট ঘুরে কিংসলের গাড়ি ছুটল নিউটাউনের দিকে)‌‌।‌

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top